সংশ্লিষ্ট দুজন মন্ত্রী ও একজন সংসদ সদস্য যথাসময়ে অধিবেশনে উপস্থিত না থাকায় সংসদের কার্যক্রমে ছন্দপতন হয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে অধিবেশন শুরু না হওয়া নিয়েও অনির্ধারিত বিতর্ক হয়েছে। আজ সোমবার সংসদের বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী উপস্থিত না থাকায় জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি–৭১)–এর গৃহীত দুটি নোটিশ নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তির জন্য সংসদে উত্থাপন করা যায়নি; আর সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য উপস্থিত না থাকায় আরেকটি নোটিশ নির্ধারিত সময়ে উত্থাপিত হয়নি।
পরে সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রী ও একজন সংসদ সদস্য অধিবেশনে যোগ দিলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ঘণ্টাখানেক পর নোটিশ তিনটি নিয়ে আলোচনা ও নিষ্পত্তি হয়।
আজ সংসদের বৈঠকের কার্যসূচিতে শুরুতে ছিল প্রশ্নোত্তর। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। এরপর ছিল জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি–৭১) এর গৃহীত নোটিশের ওপর আলোচনা। আজ তিনটি নোটিশ গ্রহণ করা হয়েছিল আলোচনার জন্য। এর মধ্যে একটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, একটি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর এবং আরেকটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীর মনোযোগ আকর্ষণের জন্য আনা হয়।
প্রথম নোটিশটি ছিল বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের। এটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আনা হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জয়নুল আবদিনকে তাঁর নোটিশ পড়ে শোনানোর আহ্বান জানান।। এর পরপরই তিনি বলেন, ‘কিন্তু মন্ত্রী মহোদয় কি আছেন?’ স্পিকার তখন জয়নুল আবদিনকে একটু অপেক্ষা করতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী আসতে একটু দেরি হচ্ছে। এটি পরে উত্থাপন হবে।
এরপর স্পিকার বলেন, দ্বিতীয় নোটিশ উত্থাপনকারীকেও একটু অপেক্ষা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। দ্বিতীয় নোটিশটি এনেছিলেন বিএনপির সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
এরপর তৃতীয় নোটিশটি আর উত্থাপনের আহ্বান না জানিয়ে স্পিকার প্রথমে বলেন, নোটিশগুলোর নিষ্পত্তি স্থগিত রাখা হলো।
অবশ্য এর পরপরই স্পিকার সুনামগঞ্জ–১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলকে তাঁর নোটিশটি (কার্যসূচির তৃতীয় নোটিশ) পড়ার আহ্বান জানান। তবে এই সংসদ সদস্য এ সময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন না। তাই তখন এটি উত্থাপিত হয়নি।
এরপর কয়েকজন সদস্যকে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন স্পিকার। অনির্ধারিত আলোচনা শেষে দিনের পরবর্তী কার্যসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা শুরু হয়। এই আলোচনার এক পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সংসদকক্ষে উপস্থিত হন। তাঁরা উপস্থিত হওয়ার পর (কার্যসূচিতে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর) নোটিশগুলো উত্থাপন ও নিষ্পত্তি হয়।
এদিকে সুনামগঞ্জ–১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামানও উপস্থিত হন। তাঁর নোটিশটিও নিষ্পত্তি হয়। তাঁর নোটিশটি ছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই নোটিশের ওপর বিবৃতি দিতে গিয়ে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিনি আগাগোড়াই সংসদে উপস্থিত ছিলেন। প্রশ্নকর্তাই উপস্থিত ছিলেন না।
এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, গতকাল (রোববার) সংসদ অধিবেশন নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা পরে শুরু হয়েছে, আজও কয়েক মিনিট পরে শুরু হয়েছে।
সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, দিনের কার্যক্রম শেষে পরের দিনের কার্যক্রম কখন শুরু হবে, তা বলা হয়ে থাকে; কিন্তু কোনো কারণে এটা বিলম্বিত হলে তা আগেই সংসদ সদস্যদের জানানো উচিত। উপস্থিতির ব্যাপারেও সতর্ক হওয়া উচিত।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দিনের অধিবেশন শেষে গত রাতে ডেপুটি স্পিকার ঘোষণা করেছিলেন, আজ বেলা তিনটায় অধিবেশন বসবে; কিন্তু সংসদ সদস্যরা দেরিতে আসার কারণে অধিবেশন বিলম্বিত হয়েছে।
স্পিকার বলনে, ‘আমি শুধু অনুরোধ জানাতে পারি, পরবর্তী অধিবেশনের জন্য যে সময় ঘোষণা করা হবে, মাননীয় সদস্যগণ সে সময়মতো সংসদে উপস্থিত থাকলে কোনো সমস্যা হবে না।’
এরপর চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, সংসদ এ যাবৎকাল সময়মতো বসেছে। শুধু গতকাল (রোববার) তাঁদের (বিএনপি) সংসদীয় দলের বৈঠক এবং প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ছিল। যে কারণে তাঁদের ১০ মিনিট দেরি হয়। ভবিষ্যতে তাঁরা সতর্ক থাকবেন যেন সময়মতো অধিবেশন শুরু করা যায়।
চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘আজ (সোমবার) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যশোর গিয়েছেন। সংগত কারণে আমাদের অনেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরাও সেখানে গিয়েছেন। কাজেই সে কারণে আজ একটু দেরি হতে পারে। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করব, যাতে ভবিষ্যতে সময়মতো আসার।’
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, একটি বিষয় সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, সংসদের কার্যক্রম যেকোনো সরকারি কার্যক্রমের চেয়ে অগ্রাধিকার লাভ করে।