
গণসংযোগে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যে অভিযোগ তুলেছেন, তা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস। তিনি বলেছেন, জনগণের সহানুভূতি পাওয়া এবং সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার উদ্দেশ্য থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এবং এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক দুজনই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসনের প্রার্থী।
আজ ওই নির্বাচনী এলাকার হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে গিয়ে আক্রান্ত হন ১১–দলীয় ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোড়া হয়। পরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, মির্জা আব্বাসের কর্মী-সমর্থকরা তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছেন।
মির্জা আব্বাস জনসংযোগে নামলে তাঁকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা। জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ওরা মিথ্যা কথা বলছে। এটি কেবল সিম্প্যাথি পাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। আমি ১৯৯১ সাল থেকে নির্বাচন করছি, আজ পর্যন্ত বিএনপির সমর্থকেরা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ওপর হামলা করেছে, এমন কোনো রেকর্ড নেই।’
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সংঘাত বাধাতে নানা উসকানি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, নির্বাচন ভন্ডুল করতে না করা হচ্ছে। কিন্তু তিনি তার কর্মীদের শান্ত থেকে নির্বাচনী পরিবেশ স্থিতিশীল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘নির্বাচন আমাদের অনেক আকাঙ্ক্ষিত একটি ফসল, যা আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করেছি। সুতরাং নির্বাচন ভন্ডুল করার কোনো কারণ আমাদের নেই।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টা অভিযোগ তোলেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, এনসিপি নেতার বিশাল আকৃতির রঙিন পোস্টার নির্বাচনী এলাকায় দেখা যাচ্ছে, যা আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের খতিয়ে দেখা উচিত।
সাবেক এই মন্ত্রী–সংসদ সদস্য তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৭ সালে তিনি এই এলাকায় ওয়ার্ড কমিশনার ছিলেন এবং পরে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এলাকার মানুষ তাকে চেনেন এবং তিনি ভোটের মাঠে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন।
পোস্টার ও ব্যানারে নয়, জনগণের মন জয় করেই নির্বাচনে জয়ী হতে চান, বলেন মির্জা আব্বাস।