
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
আজ শনিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবন মিলনায়তনে দুপুরের পর থেকে শুরু হওয়া শুনানিতে তাঁর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
এর আগে একই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ হান্নান একরামুজ্জামান মনোনয়নপত্র বাতিল চেয়ে আপিল করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একটি মামলায় পলাতক হিসেবে আছেন। কিন্তু সেই তথ্য মনোনয়নপত্রে উল্লেখ করেননি।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান।
একরামুজ্জামান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। আরএকে সিরামিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একরামুজ্জামান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে এর আগেও একাধিকবার প্রার্থী হয়েছিলেন। এর মধ্যে নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়ে পরাজিত হন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন।
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘কলার ছড়ি’ প্রতীকে ৮৯ হাজার ৪২৪ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন একরামুজ্জামান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নৌকার প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য বি এম ফরহাদ হোসেন। ২০২৪ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। একই বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে একরামুজ্জামানকে উপদেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর দাবি, কমিটি ঘোষণার পরই তিনি পদত্যাগপত্র আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।
আসনটিতে আগে কখনো বিএনপির প্রার্থী জিততে পারেননি। ১৯৭০ সালের পর আওয়ামী লীগ আটবার, জাতীয় পার্টি দুবার, ন্যাপ একবার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দুবার জয়ী হয়েছেন। এবার এখানে বিএনপির প্রার্থী নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হান্নান।