জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা–সংলগ্ন এলাকায় নিজের ইশতেহার ঘোষণা করেন ঢাকা–১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার। ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা–সংলগ্ন এলাকায় নিজের ইশতেহার ঘোষণা করেন ঢাকা–১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার। ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

ঢাকা–১২ আসনে গণসংহতির প্রার্থী তাসলিমার ১২ দফা ইশতেহার ঘোষণা

‘কথা কম কাজ বেশি, বাংলাদেশকে ভালোবাসি’—এই স্লোগান নিয়ে জনগণের মর্যাদাপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তাকে কেন্দ্রে রেখে ১২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন ঢাকা-১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারকালে এ আসনের জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়ের ভিত্তিতে এই ইশতেহারকে আরও সমৃদ্ধ করবেন তাঁরা।

আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা–সংলগ্ন এলাকায় এই ১২ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন মাথাল প্রতীকের এই প্রার্থী।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, নাগরিক সেবা সহজলভ্য করা, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-মাদক-দখলদারত্ব প্রতিরোধ, নারী অধিকার ও নিরাপত্তা, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক ও মানসম্মত শিক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দলীয়করণ প্রতিরোধ, নীতি নির্ধারণে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ঢাকা–১২ সিটিজেন কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাবসহ ১২ দফা অন্তর্ভুক্ত আছে এই ইশতেহারে।

ইশতেহার উপস্থাপন শেষে তাসলিমা আখতার বলেন, ‘আমরা ঢাকা-১২ নির্বাচনী এলাকায় নাগরিক সেবা, সুরক্ষা ও নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ এবং অংশগ্রহণমূলক সামাজিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমরা এই এই এলাকাকে পুরো দেশের সামনে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে হাজির করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সরস্বতীপূজার শুভেচ্ছা জানান তাসলিমা আখতার।

গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আবুল হাসান রুবেল বলেন, ‘আমরা অনেককেই অনেক বড় বড় বুলি দিতে দেখি। সেই সমস্ত বুলি নির্বাচনের পরে হারিয়ে যায়। আমরা দেখেছি যে বাংলাদেশে অতীতে অনেকেই অনেক কিছু বলেছে, কিন্তু কখনোই সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। আমাদের প্রার্থী তাসলিমা আখতার সে কারণে তাঁর স্লোগান বেছে নিয়েছেন—‘কথা কম কাজ বেশি’।

গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী বলেন, ‘তাসলিমা আখতার তাঁর অল্প জনবলকে নেতৃত্ব দিয়ে রানা প্লাজা ধসের পরে সমস্ত শ্রমিকদের নামধাম শুধু সংগ্রহ করেননি, যাদের নিখোঁজ বলা হয়েছিল তাদেরও নামধাম খুঁজে বের করেছেন। সবাইকে তাদের প্রাপ্য বুঝে পাওয়ার জন্য কাজ করেছেন। হাসিনা শাহির বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনে আশুলিয়া-সাভার অঞ্চলে অবরোধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি।’

ইশতেহার উপস্থাপনকালে তাসলিমা আখতারের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আরও বক্তব্য দেন শিল্পী–সংগঠক ও শিক্ষক রেবেকা নীলা, দৃশ্যমাধ্যম শিল্প সমাজের সংগঠক ধ্রুব হাসান, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহিম চৌধুরী, আমাদের পাঠশালার প্রধান শিক্ষক তোফাজ্জেল হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ। এ সময় ঢাকা–১২ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের নানা শ্রেণি-পেশার নাগরিক ও গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।