
একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠন যখন যা করে সেটিই নীতিমালা হয়ে যাচ্ছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে রাত একটা, দুইটায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্দেশনা দিয়ে দিচ্ছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর কোথা থেকে যেন ওহি নাজিল হচ্ছে।
আজ বুধবার বিকেলে ডাকসু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ এ অভিযোগ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে এই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবু সাদিক, জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদ বক্তব্য দেন। এ সময় প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এস এম ফরহাদ অভিযোগ করেন, ‘একটি ছাত্রসংগঠন যখন যা করে সেটিই নীতিমালা হয়ে যাচ্ছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে যত রাতই হোক না কেন বিশ্ববিদ্যালয় নির্দেশনা দিয়ে দিচ্ছে। আমরা আসলেই এসব বিষয় নিয়ে শঙ্কিত। নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ থাকবে নীতিমালা যা করবেন সেটি আগে থেকেই সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করেন। বারবার পরিবর্তন করা যাবে না। নইলে নির্বাচনের রায়ের দিনও হয়তো ওহি আসতে থাকবে। একটি নির্দিষ্ট মহলের প্রতি যদি নির্বাচন কমিশনের প্রভাব থেকে যায়, তাহলে সেটি খুবই কষ্টদায়ক হবে শিক্ষার্থীদের জন্য।’
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেই ব্যানার লাগিয়েছিলেন উল্লেখ করে শিবিরের প্যানেলের এই জিএস প্রার্থী আরও বলেন, তাঁদের প্যানেল পরিচিত করতে গতকাল মঙ্গলবার ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার, ফেস্টুন লাগানো হয়েছিল। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেগুলো সরিয়ে ফেলে। আচরণবিধির কোথাও স্পষ্ট করে বলা হয়নি যে এগুলো লাগানো যাবে না। তারপরও তাঁরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েই সেগুলো লাগিয়েছিলেন। কিন্তু সারা দিন শেষে রাত ১১টার দিকে হঠাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে, এতে আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর কোথা থেকে যেন ওহি নাজিল হচ্ছে।
এস এম ফরহাদ আরও বলেন, প্রথমে প্রশাসন থেকে বলা হয়েছিল, ২৬ আগস্টের আগে প্রচার চালানো যাবে না। কিন্তু একটি দল যখন গত শুক্রবারে নামাজের পরে কুশল বিনিময় কর্মসূচি দিল, তখন প্রশাসন থেকে বলা হলো ভোট চাওয়া যাবে না; কিন্তু কুশল বিনিময় করা যাবে। একটি ছাত্রসংগঠন যখন যেভাবে চাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সেভাবেই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হচ্ছে।
নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে এই জিএস প্রার্থী বলেন, এসব কার্যক্রম প্রার্থীদের মধ্যে সন্দেহের উদ্রেক করছে। মনে হচ্ছে পুরো নির্বাচনকে বানচাল করার একটা ষড়যন্ত্র।
গতকাল তাঁদের প্যানেলের কয়েকটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, প্রার্থীদের ছবি বিকৃত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এস এম ফরহাদ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ জানালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ওই ঘটিনার ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এটা দুঃখজনক এবং নির্বাচনের আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবু সাদিক বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে যেসব শিক্ষকেরা আছেন আমরা তাঁদের শিক্ষক হিসেবে দেখতে চাই। কিন্তু তাঁরা যদি রাজনৈতিক আদর্শকে ধারণ করে একটি ছাত্রসংগঠনের পক্ষ নেয়, তাহলে সেটি শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া হবে।’
এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কোনো পক্ষে কাজ করছি না। আচরণবিধির মধ্যে থেকে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। কেউ অভিযোগ নিয়ে এলে সেগুলো আমলে নিয়ে সমাধান করছি।’