
জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ পাঁচ দফা দাবিতে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি তুলে ধরে কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক। যুগপৎ কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিন দিনের কর্মসূচির মধ্যে আছে ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঢাকায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল, ১৯ সেপ্টেম্বর সব বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও ২৬ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী সব জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক যে পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করেন, সেগুলো হলো জুলাই সনদ অবিলম্বে বাস্তবায়ন; আওয়ামী লীগের দোসর ও আধিপত্যবাদী ভারতের এ দেশীয় এজেন্ট জাতীয় পার্টির রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ; জুলাই গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করা; আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধি) বাস্তবায়ন এবং আগামী নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) তৈরি করা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, সিনিয়র নায়েবে আমির ইউসুফ আশরাফ, যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন ও আতাউল্লাহ আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক মূসা, প্রচার সম্পাদক হাসান জুনাইদ প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমেদ বলেন, গতকাল (শনিবার) আমন্ত্রণপত্রে যুগপৎ কর্মসূচির বিষয়টি উল্লেখ করা ছিল। তবে যুগপতের সিদ্ধান্ত এখনো প্রক্রিয়াধীন। সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এরপর লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান দলটির আমির মামুনুল হক। লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি। একজন সাংবাদিক জানতে চান, একটি পক্ষ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চাচ্ছে, আরেকটি পক্ষ চাচ্ছে না, ফলে জাতীয় নির্বাচন পেছাতে পারে কি না?
জবাবে মামুনুল হক বলেন, ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত এসেছে উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতিতে হবে। কিন্তু বিএনপি সেখানে নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) দিয়ে রেখেছে। বিএনপি কোনোভাবে ক্ষমতায় যেতে পারলে উচ্চকক্ষে পিআর বাস্তবায়ন করবে না। তাই পিআর পদ্ধতিবিহীন উচ্চকক্ষ বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।
এ সময় যুগপৎ কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় মামুনুল হকের কাছে। তিনি বলেন, দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। এটি প্রক্রিয়াধীন। এ মুহূর্তে এককভাবে চূড়ান্ত সময়সীমা ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে জুলাই বিপ্লবের অংশীজন রাজনৈতিক পক্ষগুলো মাঠে যার যার অবস্থান দৃঢ় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
যুগপৎ কর্মসূচির বিষয়ে আটটি দলের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, দলগুলোর সঙ্গে বোঝাপড়া চলছে। শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ দাবির বিষয়ে সবার দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন। বিশেষ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে দলগুলো আন্তরিক। তাই এসব দাবি আদায়ের ব্যাপারে দলগুলো যার যার জায়গা থেকে মাঠে নামবে বলে মনে করেন তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মাঠের কর্মসূচিতে যাচ্ছে বলে জানান দলটির আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা নেই, আশাবাদও নেই। সরকার সহজেই বিষয়টি কার্যকর করবে বলে মনে হচ্ছে না। এ জন্য আন্দোলনের বিকল্প নেই। জুলাই সনদের কার্যকর করার ওপর জুলাই বিপ্লবের অর্জন নির্ভর করছে।
যুগপৎ কর্মসূচি আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, এ মুহূর্তে ভোট বা নির্বাচনের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে কোনো জোট প্রক্রিয়ায় যাওয়া হচ্ছে না। এখন জুলাই সনদ কার্যকর এবং উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন প্রয়োজন।