জাতীয় প্রেসক্লাবে এবি পার্টি আয়োজিত ‘দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন: বর্জন, অংশগ্রহণ ও ডামি ভোটাভুটি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা। ঢাকা, ৩০ ডিসেম্বর
জাতীয় প্রেসক্লাবে এবি পার্টি আয়োজিত ‘দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন: বর্জন, অংশগ্রহণ ও ডামি ভোটাভুটি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা। ঢাকা, ৩০ ডিসেম্বর

এ বি পার্টির আলোচনা সভা

যে প্রক্রিয়ায় ভোটারদের আস্থা নষ্ট করা হয়েছে তা নজিরবিহীন

এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, সরকার গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তামাশা ও প্রহসনের নির্বাচন হয়েছিল। এখন আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন করার উৎসব চলছে। যে প্রক্রিয়ায় ভোটারদের আস্থা নষ্ট করা হয়েছে তা দেশের রাজনীতি ও নির্বাচনের ইতিহাসে নজিরবিহীন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও তার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ধ্বংসের ক্ষত সারাতে কয়েক দশক সময় লেগে যাবে।

আজ শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত ‘দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন: বর্জন, অংশগ্রহণ ও ডামি ভোটাভুটি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়। বিএনপির নেতা ছাড়াও তাঁদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা কয়েকটি দল এবং অন্য কয়েকটি সংগঠনের কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন। আলোচনা সভা থেকে ৭ জানুয়ারির ভোট বর্জনের আহ্বান জানানো হয়।

আলোচনার শুরুতে নির্বাচন নিয়ে নিজের করা একটি গবেষণার তথ্যের আলোকে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং ও ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম ওয়ারেসুল করিম। অনুষ্ঠানে তাঁর গবেষণার সারসংক্ষেপ উপস্থিত সাংবাদিকদের দেওয়া হয়। গবেষণাটি মূলত ২০১৮ সালের ভোটের ফলাফল কেন্দ্র করে করা হয়েছে।

গবেষণার তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টি আসন পেয়েছিল। ওই নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১ হাজার ১৭৯টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট পেয়েছিল। ২২৭টি কেন্দ্রে তারা মাত্র একটি করে ভোট পেয়েছে। ২৭১টি কেন্দ্রে দুটি করে ভোট; ৩ থেকে ৫টি করে ভোট পেয়েছে ৮২৩টি কেন্দ্রে। এ রকমভাবে ভোটের আরও বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয় গবেষণা প্রতিবেদনে।

২০১৮ সালের নির্বাচনে ‘জালিয়াতির মহোৎসব’ হয়েছে বলে দাবি করেন ওয়ারেসুল করিম। তিনি বলেন, নির্বাচনের নামে কোটি কোটি ভোটারের সঙ্গে প্রতারণার উৎসব হয়েছে।

গবেষণার লিখিত সারসংক্ষেপে প্রশ্ন রেখে বলা হয়, এই গবেষণা যে মৌলিক প্রশ্নটি সামনে নিয়ে আসে তা হলো, যারা বিগত নির্বাচনে ভোট কারচুপি ও জালিয়াতি করেছে, তাদের কাছে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য কোনো নির্বাচন প্রত্যাশা করা যায় কি না।

আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, চুরি করে মানুষ গোপনে, ভোটের জালিয়াতিও হয় গোপনে। কিন্তু এ দেশে ২০১৮ সালে কোনো জালিয়াতি বা চুরি ছিল না। এটি স্রেফ ডাকাতি, সবার চোখের সামনে। এবার আরেকটা নতুন কৌশল নেওয়া হয়েছে। খুব চেষ্টা করছে, যাতে কিছু ভোটার আনা যায়। যার জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আরেকটি নতুন শব্দ দেখা যাচ্ছে, ‘ডামি প্রার্থী’। আবার ‘ডামি প্রার্থীদের’ যাতে কেউ বিরক্ত না করে, সে জন্য ক্ষমতাসীন দলের প্রধান নেতারা বক্তৃতা করেন।

৭ জানুয়ারির নির্বাচনকে ‘ভোটের খেলা’ বলে মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সে জন্য তাঁরা ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের মতো দলের অধীনে কোনো নির্বাচন করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান (মান্না)।

সরকার গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

আলোকচিত্রী শহীদুল আলম বলেন, তিন কোটি নতুন ভোটার, যাঁরা ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন, তাঁরা আজ পর্যন্ত ভোট দেননি। সামনের বার ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। ৭ জানুয়ারি নির্বাচন হবে বলা হচ্ছে। নির্বাচন তো জানা আছে, খামাখা এত কষ্ট করে যে টাকা ব্যয় করা হচ্ছে, সেটা দিয়ে কতগুলো স্কুল হতে পারত, কতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারত, কতগুলো হাসপাতাল হতে পারত।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, ২০১৪ সালে নির্বাচনের নামে তামাশা করা হয়েছে, ২০১৮ সালে নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হয়েছে। ২০২৪ সালে আবারও জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।

খেলাফত মজলিশের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বলেন, এই সরকার টিকে থাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন, তারা টিকে থাকতে পারবে না। তবে এ জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

এবি পার্টির আহ্বায়ক এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন গণফোরামের একাংশের নেতা সুব্রত চৌধুরী, গণ অধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি রেজা কিবরিয়া, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব জালাল উদ্দিন, এবি পার্টির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান, এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ প্রমুখ।