সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান ২ নম্বরে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান ২ নম্বরে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে

নির্বাচন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক অপপ্রচার চলছে: মাহ্‌দী আমিন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও চরিত্রহনন চলছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান ২ নম্বরে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন ও ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন চালানো হচ্ছে। এসব অপপ্রচার নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মাহ্‌দী আমিন অভিযোগ করেন, নানা উপায়ে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ (সবার জন্য সমান সুযোগ) নষ্ট করা হচ্ছে। একটি বিতর্কিত নির্বাচনপ্রক্রিয়া সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল তাদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য ধর্মীয় অনুভূতির ক্রমাগত অপব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভুয়া আইডি ও পেজ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। মাহ্দী আমিন বলেন, জাইমা রহমানের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের দুটি অ্যাকাউন্ট সম্প্রতি মেটা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ভেরিফাই করা হয়েছে। এই দুটি ছাড়া তাঁর আর কোনো অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট নেই।

এ ছাড়া তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের নামেও একাধিক ভুয়া ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ডা. জুবাইদা রহমানের কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট বা পেজ নেই। এসব ভুয়া পেজ থেকে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে।

মাহ্দী আমিন জানান, বিএনপির আইসিটি দপ্তর ইতিমধ্যে ৫০টির বেশি ভুয়া আইডি ও পেজ অপসারণ করেছে। আরও কিছু ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও পেজ শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলো অপসারণের জন্য মেটা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের প্রেক্ষাপটে বিএনপি নির্বাচন কমিশনের প্রতি ‘ফ্যাক্ট-চেকিং সেল’ গঠনের দাবি জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে একটি কার্যকর ফ্যাক্ট-চেকিং সেল গড়ে তোলা হলে দ্রুত ভুয়া তথ্য শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

বিএনপির পক্ষ থেকে গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণকে যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার বা শেয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।