‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ নামে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। পুরানা পল্টন, ঢাকা, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ নামে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। পুরানা পল্টন, ঢাকা, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাষ্ট্র পরিচালনায় শরিয়াহর প্রাধান্যসহ ৩০ দফা ইশতেহার ইসলামী আন্দোলনের

রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বত্র শরিয়াহর প্রাধান্যসহ মৌলিক ৩০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। মৌলিক ইশতেহারের বাইরে ১২টি বিশেষ কর্মসূচি, আট দফা নীতিগত অবস্থান, রাষ্ট্র সংস্কারে ছয় দফা পরিকল্পনা এবং খাতভিত্তিক ২৮ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছে দলটি।

আজ বুধবার বিকেলে ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ নামে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করে ইসলামী আন্দোলন। রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে দলের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম এ ইশতেহার ঘোষণা করেন। এ সময় দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামী আন্দোলনের ৩০ দফা ইশতেহারের মধ্যে রয়েছে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন, দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদকমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রপরিচালনায় সর্বত্র শরিয়াহর প্রাধান্য, কৃষি ও শিল্পবিপ্লব ঘটিয়ে বেকার ও দারিদ্র্যমুক্ত এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিশালী দেশ গঠন, নৈতিকতায় সমৃদ্ধ কর্মমুখী ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা, সর্বজনীন কর্মসংস্থান, পর্যায়ক্রমিক রাষ্ট্র সংস্কার এবং মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশার প্রতি দায়বদ্ধতা।

এ ছাড়া এতে আর্থিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নারী, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারসহ সব জনগোষ্ঠীর মৌলিক ও মানবাধিকারের সুরক্ষা, রাষ্ট্র-সমাজ ও অর্থনীতিতে বৈষম্য বিলোপ,⁠সবার জন্য সাশ্রয়ী ও উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা, পরিবেশদূষণ রোধ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায় গুরুত্ব, ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহাবস্থান, জনমতের যথার্থ প্রতিফলন, সুষ্ঠু নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

খুন-গুম, মিথ্যা-গায়েবি মামলা, জুলুম-নির্যাতন ও দুঃশাসনের বিলোপ, জনগণের বাক্‌-স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, নারীদের শুধু সম–অধিকার নয়, অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা করা, শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ওয়ান–স্টপ সার্ভিস চালু, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা, কওমি মাদ্রাসার ডিগ্রিধারীসহ দক্ষ ও যোগ্য ওলামাদের সরকারি সুযোগের আওতাভুক্ত করা, শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার কথাও রয়েছে ইশতেহারে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহারে ১২ দফা বিশেষ কর্মসূচিও রেখেছে। এর মধ্যে হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা নগদ সহায়তা, ১৮ থেকে ২৪ বছরের যুবকদের জন্য সুদমুক্ত ও জামানতবিহীন এককালীন ঋণের ব্যবস্থা, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি বা স্বাস্থ্যকার্ড চালু, কৃষিকার্ড চালুর মতো প্রতিশ্রুতি রয়েছে।