বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তব্য দেন আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য ও ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তব্য দেন আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য ও ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান

ব্যবসা এবং অর্থনীতির উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অবদান সুদূরপ্রসারী: সিমিন রহমান

আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য ও ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে ব্যবসা এবং অর্থনীতির উন্নতির জন্য খালেদা জিয়ার অবদান ছিল সুদূরপ্রসারী। নব্বইয়ের দশকে খালেদা জিয়ার বাজারমুখী নীতির ফলে বেসরকারি খাত, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গতি আসে।

আজ শুক্রবার দুপুরে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় সিমিন রহমান এ কথা বলেন। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের শীর্ষ রাজনীতিক, কূটনীতিক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

মানুষ হিসেবে খালেদা জিয়ার আপসহীন নীতির কথা উল্লেখ করে সিমিন রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার সময় ভ্যাট পলিসি, আর্থিক খাতের সংস্কার, প্রাইভেটাইজেশন বোর্ড এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনীতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী হয়। প্রবাসী আয়, রপ্তানি বৃদ্ধি উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করা হয়।

তৈরি পোশাক শিল্পে খালেদা জিয়ার অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয় বলে উল্লেখ করেন সিমিন রহমান। তিনি বলেন, একইভাবে ১৯৯৪ সালে ওষুধের মূল্যনীতির ফলে ওষুধশিল্পে গুণগত উন্নয়ন, গবেষণা ও বিনিয়োগ বেড়েছিল। যার ফলে বাংলাদেশ আজ ওষুধে নিজের ওপর শতভাগ নির্ভরশীল। এটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদাহরণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সিমিন রহমান বলেন, খালেদা জিয়া সব সময় বিশ্বাস করতেন, ব্যবসা হতে হবে নৈতিকতার সঙ্গে। আর উন্নয়ন হতে হবে মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে। সাবেক এই সরকারপ্রধানের এসব গুণ নিজের বাবা ও ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত লতিফুর রহমানের জীবন ও কর্মে দেখেছেন বলে উল্লেখ করেন সিমিন রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি পার্সোনালি অনেকবার আমার বাবার (লতিফুর রহমান) কাছে শুনেছি, খালেদা জিয়া সব সময় এথিক্যালি (নৈতিকভাবে) এবং সঠিক পথে বিজনেস (ব্যবসা) করার ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের অনুপ্রেরণা দিতেন। এমন ভ্যালুসের (মূল্যবোধ) বিকাশের পেছনে দেশনেত্রীর প্রেরণা ও নেতৃত্ব ছিল নীরব, কিন্তু শক্তিশালী।’

সিমিন রহমান বলেন, ‘খালেদা জিয়া আজ নেই, কিন্তু উনার (খালেদা জিয়া) ত্যাগ, উনার দৃঢ়তা এবং নীরব সাহস বেঁচে থাকবে। বাংলাদেশ উনাকে হারায়নি, বাংলাদেশ উনাকে ইতিহাসে অমর করেছে।’

শুক্রবার বেলা আড়াইটার পর কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবার্তা পাঠ করেন দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন। এরপর সভায় একে একে বক্তব্য দেন লেখক ফাহাম আব্দুস সালাম, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, খালেদা জিয়ার চিকিৎসক এফ এম সিদ্দিকী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী দেবাশীষ রায়, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, জ্যেষ্ঠ সম্পাদক শফিক রেহমান, লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ডিপিআইয়ের সভাপতি আব্দুস সাত্তার দুলাল, সাবেক কূটনীতিক আনোয়ার হাশিম, আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য ও ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ার‍ম্যান এস এম এ ফায়েজ, লেখক ও গবেষক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। এরপর খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে স্মরণসভা শেষ হয়।

শোকসভায় যোগ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। সাবেক এই সরকারপ্রধানের স্মরণে আয়োজিত সভায় যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, মনির হায়দার প্রমুখ। শোকসভায় যোগ দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।