জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবরে ঢাকা-১০ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন সরকারের সমর্থনে ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৬’ শীর্ষক সমাবেশে
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবরে ঢাকা-১০ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন সরকারের সমর্থনে ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৬’ শীর্ষক সমাবেশে

ভোটের পুরোনো হিসাব–নিকাশ এবার বদলে যাবে: আসিফ মাহমুদ

গণ-অভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশে এবারের নির্বাচনে ভোটের পুরোনো হিসাব–নিকাশও বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

আসিফ মাহমুদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ইতিহাসে যে ইকুয়েশন ৫০-৫৫ বছর ধরে চলে আসছিল, সেই প্রতিটি ইকুয়েশন এবারের নির্বাচনে ভেঙে গেছে। ইতিমধ্যে আপনারা যদি রাস্তায় যান, বাজার করতে গেলে যে সবজিওয়ালা আছে, রিকশায় উঠলে যে রিকশাওয়ালা মামা আছেন, শিক্ষক-ছাত্র থেকে সব শ্রেণি, পেশা ও কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে যখন আমরা কথা বলি, তখন আমরা সেই পলিটিক্যাল ডেমোগ্রাফি যে পরিবর্তন হয়েছে, সেটা উপলব্ধি করতে পারি। সুতরাং আগের গতানুগতিক হিসাব–নিকাশ যে অমুক দলের ৩০ শতাংশ-অমুক দলের ৪০ শতাংশ—সেই হিসাব–নিকাশ এবার বাংলাদেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকারের মধ্য দিয়ে বদলে দেবে।’

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবরে এক নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০–দলীয় ঐক্যের অংশীদার এনসিপির নেতা আসিফ মাহমুদ। ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন সরকারের সমর্থনে ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৬’ শীর্ষক এই সমাবেশ হয়।

জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের গড়া দল এনসিপি জামায়াতসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এই নির্বাচনে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে বিএনপির সঙ্গে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, এবারের নির্বাচন নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ বিগত ৫০ বছর যেভাবে চলেছে, আগামী দিনে সেভাবে চলবে কি না? বিগত ১৭ বছরে বাংলাদেশের জনগণ যে কালো অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে গেছে, আগামী দিন সে রকম হবে কি হবে না? আমরা যে অপশাসন, গুম-খুন, মুখ চেপে ধরে রাখা, দুর্নীতি, চাঁদাবাজির রাজনীতি দেখে আসছি, সেটা সামনের বাংলাদেশে দেখব কি না?

গত ১৭ বছরে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, এখন ক্ষমতায় আসার কনফিডেন্স বিল্ড করা একটা দলের মধ্যে সেই ১৭ বছরের কার্যক্রমেরই একধরনের পুনরাবৃত্তি গত দেড় বছরে দেখা গেছে, বলেন আসিফ মাহমুদ।

নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একদিকে হেলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ। ভোটে অনিয়ম হলে জুলাইয়ের মতো প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। আগের বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজনে যুক্ত নির্বাচন কমিশনারদের পরিণতি বর্তমান কমিশনকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘অদূর ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আপনারা পড়ুন, সেটা আমরা চাই না।’

১০–দলীয় ঐক্য শুধু আসন ভাগাভাগির জন্য নয়, বরং সংস্কারসহ কিছু নীতির ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে জানিয়ে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, তাঁরা বিজয়ী হলে ঐকমত্য কমিশনের সংস্কারের যে বিষয়গুলো এই গণভোটে আছে, তার থেকে আরও বেশি সংস্কারের উদ্যোগ নেবেন।

অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগ করার সময় আলোচনা ছিল যে আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নেন।

এই আসনের ভোটারদের জামায়াত ও ১০-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী জসীম উদ্দীন সরকারকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘ঢাকা-১০ আসনের জনগণের সঙ্গে আমার যতটুকুই যোগাযোগ হয়েছে, তারা পরিবর্তন চান। কোনো চাঁদাবাজ, স্বীকৃত সন্ত্রাসী ও খুনিরা এই আসনে বিজয়ী হয়ে আসুক এবং আবার ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করুক, তা জনগণ চান না।’

জামায়াত আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য নুর নবী মানিক। ঢাকা-১০ আসনে দলের প্রার্থী জসীম উদ্দীন সরকার ভোট চেয়ে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে ইসলামি সংগীত পরিবেশন করা হয়।