জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আর কত দিন থাকবে, এই প্রশ্ন উঠেছে দলটির সাধারণ সভায়। তবে এই প্রশ্নের জবাবে পরিষ্কার কোনো উত্তর দেননি এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সাধারণ সভা হয়। দুপুর ১২টা থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে হওয়া এই সভায় দলের আহ্বায়ক–সদস্যসচিব ছাড়াও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।
ওই সভায় অংশ নেওয়া এনসিপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারোয়ার (নিভা) শুক্রবারের সাধারণ সভায় বেশ সোচ্চার ছিলেন। তাঁরাসহ কয়েকজন দলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। একপর্যায়ে সামান্তা প্রশ্ন করেন, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী ঐক্য আর কত দিন থাকবে? এর জবাবে এনসিপির দুই শীর্ষ নেতা সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। মাত্রই সংসদ গঠিত হলো, এনসিপি বিরোধী দলের ভূমিকায় গেল, সামনে সংসদ অধিবেশন—এ ধরনের কথা বলেছেন শীর্ষ নেতারা।
সামান্তা শারমিন, নাহিদা সারোয়ারসহ কয়েকজন কেন এখনো জামায়াতের বিরুদ্ধে জোটের বিরুদ্ধে বলছেন, সভায় এমন প্রশ্ন তোলেন এনসিপি থেকে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য। সভা সূত্র জানায়, এই প্রশ্নের জবাবে সামান্তা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যখন এই জোট নিয়ে আলোচনা চলছিল, তখনই তাঁরা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন যে এই জোটে গেলে তাঁরা নির্বাচন করবেন না এবং এই জোটের বিরুদ্ধে বলবেন। শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁদের বলেছিলেন, তাঁরা কী করবেন, এটি তাঁদের ইচ্ছা।
১১–দলীয় ঐক্যে এনসিপির যে ৩০ জন প্রার্থী ছিলেন, তাঁদের সবাইকে জামায়াত সমানভাবে সহযোগিতা করেনি বলেও দলটির সাধারণ সভায় অনেকে মত দেন। এনসিপির কাউন্সিল কবে হবে, রাজনৈতিক পর্ষদ ও নির্বাহী কাউন্সিল কবে পুনর্গঠিত হবে, সেই প্রশ্নও তোলা হয় সভায়। তবে এসব বিষয়ে সরাসরি কোনো উত্তর আসেনি সাধারণ সভা থেকে।
জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্যে যাওয়ার আগে এনসিপি স্বতন্ত্রভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা বলেছিল। দলের সাধারণ সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্তও হয়েছিল। কিন্তু পরে এনসিপির নির্বাহী কমিটিতে আলোচনা করে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, সেই প্রশ্ন তোলা হয় সভায়। এর জবাব দিতে গিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বলা হয়, আলাদা করে সাধারণ সভা না হলেও অনেকেই জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছিলেন।
জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্যে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে এনসিপি থেকে অন্তত ১৭ জন নেতা পদত্যাগ করেছিলেন। পদত্যাগী নেতাদের ফেরাতে কোনো উদ্যোগ আছে কি না, তা–ও জানতে চাওয়া হয় সাধারণ সভায়। উত্তরে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেননি। তবে কেউ নিজে থেকে দলে ফিরতে চাইলে দরজা খোলা আছে, সে কথা উল্লেখ করা হয়।
শুক্রবারের সাধারণ সভার বিষয়ে জানতে এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের তিনজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি। পরে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাধারণ সভায় আমরা দলের নির্বাচনসংক্রান্ত পর্যালোচনা করেছি। যেহেতু দলে ১১–দলীয় ঐক্যের বিষয়ে বিরোধিতা আছে, তাই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা প্রশ্ন করেছি। নেতৃত্বের জায়গা থেকে বলা হয়েছে, রমজানের পর দলের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আবার আলোচনা হবে।’