
১২ সদস্যের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন।
বিরোধী দল এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছে।
রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রশ্নে দীর্ঘ আলোচনা শেষে প্রস্তাব তৈরি ও গণভোট হলেও এখন পর্যন্ত মৌলিক কাঠামোগত কোনো সংস্কার হয়নি। সংবিধান সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকার যে প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছিল, সেটি অনুসরণ করছে না নির্বাচিত বিএনপি সরকার। সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে শপথ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। জুলাই অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার। এটিকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছিল।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মাথায় ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। সেগুলো হলো—সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও পুলিশ সংস্কার কমিশন।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংশোধনীর মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও সুদৃঢ় করা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
কমিশনগুলো বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে সুপারিশ তৈরি করে। সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠন করা হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। প্রথমে গঠন করা ছয়টি কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে এ কমিশন প্রায় আট মাসে ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করে। সনদে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রাখা হয়, যার মধ্যে ৪৮টি সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ওই ছয়টির বাইরে পরে আরও তিনটি কমিশন (শ্রম, নারী ও গণমাধ্যমবিষয়ক) গঠন করা হয়েছিল। সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে আইনি বিভিন্ন সংস্কার আনা হয়। এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংশোধনীর মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও সুদৃঢ় করা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
জুলাই সনদের ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান–সম্পর্কিত। এর মধ্যে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, উচ্চকক্ষের ক্ষমতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপদ্ধতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রক্রিয়া, প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে না থাকার বিধানসহ এ ধরনের কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আসবে। তবে এ ধরনের কিছু প্রস্তাবে বিএনপির ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) ছিল।
এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথ নির্ধারণ করে দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এ জন্য ২০২৫ সালের নভেম্বরে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। সেটার আলোকে সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির ভিন্নমতের বিষয়গুলো গণভোটে উল্লেখ ছিল না। অর্থাৎ ঐকমত্য কমিশনের মূল প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট হয়েছে।
এতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল। একটি সংসদ সদস্য হিসেবে, আরেকটি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে করা প্রায় সব কটি অধ্যাদেশ বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় সংসদ অনুমোদন করেছে। অনেকগুলো বিধিবিধানও সমর্থন করেছে বর্তমান সরকার। সাংবিধানিক সংশোধনের বিষয়গুলোতে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন।সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি
বাস্তবায়ন আদেশে শপথ নেওয়ার এক মাসের মধ্যে ওই পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার কথা ছিল। প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার করার কথা বলা ছিল ওই আদেশে।
জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপির সংসদ সদস্যরা নেননি। ফলে ওই সংস্কার পরিষদও গঠিত হয়নি। বিএনপি দাবি করেছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অবৈধ। এ ধরনের শপথ নেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। তবে জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে তারা ভিন্নমতসহ স্বাক্ষর করেছে, সেভাবে বাস্তবায়ন করবে।
সনদ বাস্তবায়ন আদেশে বর্ণিত প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করে জাতীয় সংসদ। এ কমিটি সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ সংসদে প্রতিবেদন দেবে। বিরোধী দল এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে ইতিমধ্যে এই কমিটি কাজ শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার প্রথম বৈঠক করেছে কমিটি। জুলাই জাতীয় সনদ সামনে রেখে কাজ করবে এ কমিটি। পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব প্রস্তাব রয়েছে, সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে। সুপারিশ তৈরির ক্ষেত্রে পুরো সংবিধান পর্যালোচনার পাশাপাশি সংবিধানবিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন অংশীজনেরও মতামত নেবে কমিটি।
ভিন্নমত থাকা বিষয়গুলোসহ বেশ কিছু বিষয় বিএনপি যেভাবে বাস্তবায়ন করতে চায়, সেভাবে নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরেছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যেসব ক্ষেত্রে সনদ ও বিএনপির ইশতেহারে পার্থক্য আছে, সেখানে ইশতেহারের প্রস্তাবকে প্রাধান্য দেবে বিশেষ কমিটি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিএনপির ইশতেহারকে প্রাধান্য দেওয়া হলে মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কমে যাবে। যেমন বিএনপি একটি দলের নিম্নকক্ষে পাওয়া আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টনের কথা বলেছে। জুলাই সনদের প্রস্তাবে নিম্নকক্ষে সারা দেশে পাওয়া ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টনের কথা বলা আছে। সনদে বলা হয়েছে, সংবিধান সংশোধনী বিল নিম্নকক্ষে পাস হওয়ার পর উচ্চকক্ষে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হতে হবে। তবে বিএনপি উচ্চকক্ষকে এই ক্ষমতা দেওয়ার বিপক্ষে। বিএনপি যেভাবে উচ্চকক্ষ চায়, সেভাবে হলে এটি হবে নিম্নকক্ষের ‘রেপ্লিকা’।
জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপির সংসদ সদস্যরা নেননি। ফলে ওই সংস্কার পরিষদও গঠিত হয়নি। বিএনপি দাবি করেছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অবৈধ। এ ধরনের শপথ নেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। তবে জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে তারা ভিন্নমতসহ স্বাক্ষর করেছে, সেভাবে বাস্তবায়ন করবে।
১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের নির্ধারিত সময়ে ১১০টি অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে কিছু সংশোধিত আকারে অনুমোদন করা হয়। ফলে এগুলো আইনে রূপান্তরিত হয়। আর ৭টি অধ্যাদেশ রহিত করা হয় এবং ১৬টি সংসদে বিল আকারে আনা হয়নি। ফলে এগুলো কার্যকারিতা হারায়। এই অধ্যাদেশগুলো মূলত বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পর্কিত ছিল।
অনুমোদন না পাওয়া অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত ও গোপন অনুসন্ধানক্ষমতা বাড়ানো, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা, গুমের মতো অপরাধ প্রতিরোধ এবং পুলিশ কমিশন ছিল।
গত এপ্রিলে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে এগুলো আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে আনা হবে। অবশ্য এখন পর্যন্ত কোনো বিল সংসদে আনা হয়নি।
অন্যদিকে পুরোনো আইনেই দুদক গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। আইনে পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। সংসদ সে অধ্যাদেশকে অনুমোদন না করায় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা পদত্যাগ করেন। এখনো নতুন আইন করা হয়নি। কমিশনও পুনর্গঠন করা হয়নি।
এর মধ্যে সম্প্রতি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের একটি খসড়া তৈরি করে মতামত দেওয়ার জন্য উন্মুক্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এটি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। কারণ, এই আইনে গুমের তদন্তের ভার পুলিশকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যে অধ্যাদেশ করা হয়েছিল, সেখানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে পুরোনো আইনেই দুদক গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। আইনে পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। সংসদ সে অধ্যাদেশকে অনুমোদন না করায় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা পদত্যাগ করেন। এখনো নতুন আইন করা হয়নি। কমিশনও পুনর্গঠন করা হয়নি।
কিছু অধ্যাদেশ বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে সংশোধিত আকারে পাস করা হয়েছিল। যেমন ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের সংশোধনী। এখানে নতুন একটি বিধান যুক্ত করা হয়, যার মাধ্যমে ব্যাংকের পুরোনো মালিকদের ফেরার পথ তৈরি করা হয়। অবশ্য সমালোচনার মুখে আইন থেকে এই বিধান বাদ দেওয়ার কথা বলছে সরকার।
যেসব অধ্যাদেশ বর্তমান সংসদ অনুমোদন করেছে সেগুলোর মধ্যে আছে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডিন্যান্স, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন অধ্যাদেশ, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, জাতির পিতার পরিবার–সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনাল) (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট), জাতীয় সংসদের সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ, কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট)।
এর মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংশোধন করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এই অধ্যাদেশে কোনো নিদিষ্ট সত্তার কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয় এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তার মিছিল–মিটিং, প্রকাশনাসহ যেসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যাবে, তার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সংশোধনী এনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দলের বিচার করার বিধান যোগ করা হয়। আরেকটি অধ্যাদেশ অনুমোদনের মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়। এ ছাড়া বেশ কিছু অধ্যাদেশ অনুমোদন দেওয়া হয়, যেগুলো ছিল মূলত নাম পরিবর্তনসংক্রান্ত।
কিছু অধ্যাদেশ বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে সংশোধিত আকারে পাস করা হয়েছিল। যেমন ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের সংশোধনী। এখানে নতুন একটি বিধান যুক্ত করা হয়, যার মাধ্যমে ব্যাংকের পুরোনো মালিকদের ফেরার পথ তৈরি করা হয়। অবশ্য সমালোচনার মুখে আইন থেকে এই বিধান বাদ দেওয়ার কথা বলছে সরকার।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জুলাই সনদের যেসব প্রস্তাবে বিএনপি একমত হয়েছে, সেগুলো নেওয়া হবে। এর বাইরে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে কিছু অঙ্গীকার আছে, সেগুলো ধারণ করা হবে। এর বাইরে যেসব অঙ্গীকার রয়েছে, সেসব বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে
অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের ক্ষেত্রে সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ এনে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিল বিরোধী দল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে করা প্রায় সব কটি অধ্যাদেশ বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় সংসদ অনুমোদন করেছে। অনেকগুলো বিধিবিধানও সমর্থন করেছে বর্তমান সরকার। সাংবিধানিক সংশোধনের বিষয়গুলো সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন। বিশেষ কমিটি এ–সংক্রান্ত সুপারিশ করবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জুলাই সনদের যেসব প্রস্তাবে বিএনপি একমত হয়েছে, সেগুলো নেওয়া হবে। এর বাইরে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে কিছু অঙ্গীকার আছে, সেগুলো ধারণ করা হবে। এর বাইরে যেসব অঙ্গীকার রয়েছে, সেসব বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।