
সংসদের চলতি অধিবেশন অর্থাৎ ৩০ এপ্রিলের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা ‘অসম বাণিজ্যচুক্তি’ সংসদে উত্থাপন করে বাতিলের দাবি জানিয়েছে ‘সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট’। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাসেরও দাবি জানিয়েছে তারা।
আজ সোমবার এসব দাবিতে জাতীয় সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন জোটের নেতারা।
জোটের নেতারা জানিয়েছেন, ৩০ এপ্রিলের মধ্যে চুক্তি বাতিল না হলে আগামী ৩ মে সারা দেশে বিক্ষোভ এবং ৪ ও ৫ মে বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রতিনিধি সভা করা হবে। এরপরও দাবি মানা না হলে ৯ মে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
এদিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। শাহবাগ, কারওয়ান বাজার ও ফার্মগেট হয়ে মিছিলটি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশ শেষে সংসদের ১২ নম্বর ফটকের সামনে আরেক দফা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা এই চুক্তি জনগণ ও সংসদকে অবহিত না করে গোপনে করা হয়েছে, যা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সরাসরি লঙ্ঘন। তাঁদের ভাষ্য, এই চুক্তি দেশের স্বাধীন বাণিজ্যনীতি, কর-সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় ক্রয়নীতিকে মার্কিন করপোরেট স্বার্থের কাছে বিকিয়ে দেওয়ার শামিল। এ ধরনের চুক্তির ফলে দেশীয় শিল্প ও কৃষি খাত ধ্বংস হবে। শ্রমিকের মজুরি ও অধিকার সংকুচিত হবে, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে এবং রাষ্ট্রের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে বিদেশি কোম্পানির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।
চুক্তির ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে উল্লেখ করে জোটের নেতারা বলেন, রাশিয়া-চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে। তাদের কাছ থেকে চড়া মূল্যে সামরিক সরঞ্জাম কিনতে হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জোটের নেতা ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফি রতন, বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রাগিব আহসান, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু।
এ ছাড়া বাসদের (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাসদের (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, গণমুক্তি ইউনিয়নের আহ্বায়ক নাসিরউদ্দীন নাসু, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা, বাংলাদেশের সোশ্যালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আবদুল আলী প্রমুখ সমাবেশে বক্তব্য দেন।
সমাবেশ শেষে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি দেয়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, বজলুর রশীদ ফিরোজ, নাজমুল হক প্রধান, মাসুদ রানা এবং বাসদের (মাহবুব) নেতা মহিন উদ্দিন চৌধুরী। একই সঙ্গে সরকারদলীয় চিফ হুইপের কাছেও একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।