
নির্বাচনে বিজয়ী হলে লুটেরা অর্থনীতি বন্ধ করতে সংসদে ‘কাস্তে’ মার্কার প্রার্থীরা ভূমিকা রাখবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন (প্রিন্স)। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ হলো আইন প্রণয়নের জায়গা। কিন্তু অধিকাংশ এমপি সাহেবরা এই দায়িত্ব পালন না করে, ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন। এ অবস্থার পরিবর্তন করবেন কাস্তে মার্কার প্রার্থীরা। লুটপাটের অর্থনীতি বন্ধ এবং প্রতিটি মানুষের ও দেশের মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংসদে ভূমিকা নেবেন তাঁরা।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর খিলগাঁও তালতলায় ঢাকা–৯ আসনে সিপিবির প্রার্থী মনিরুজ্জামান মিলনের এক নির্বাচনী পথসভায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন রুহিন হোসেন। তিনি বলেন, সিপিবি ও বামপন্থীরা ব্যবস্থা বদল করে মানুষের ও দেশের স্বার্থ রক্ষা করবেন। বিগত দিনের আন্দোলনে সিপিবি সেটি প্রমাণ করেছে। সে জন্য বামপন্থীদের কণ্ঠ আরও জোরালো করতে কাস্তে মার্কায় ভোট দেবেন।
নির্বাচনী সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে রুহিন হোসেন বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রচারে হামলা, মারামারি হচ্ছে। এটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে মানুষের মনে শঙ্কা তৈরি করছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের নির্বাচনী সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।’
ভোটারদের উদ্দেশে সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগিব আহসান বলেন, দেশের ব্যবস্থা বদলের জন্য এবারের নির্বাচনে কাস্তে মার্কাকে জয়যুক্ত করতে হবে।
ঢাকা–৯ আসনের প্রার্থী মনিরুজ্জামান মিলন বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে অচল ঢাকা সচল করা, দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি বন্ধ, সর্বজনীন রেশনব্যবস্থা চালু এবং জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেবেন। এলাকাবাসীকে নিয়ে নিয়মিত পরামর্শসভা করবেন।
পথসভায় সিপিবির জাতীয় পরিষদ সদস্য হাসান হাফিজুর রহমান, ঢাকা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর মঈন, সাবেক যুবনেতা হাফিজ আদনান, হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ, খিলগাঁও সিপিবির সহসম্পাদক হাবিব হাসিবুর রহমান বক্তব্য দেন।
এদিকে ঢাকা–১২ আসনে সিপিবির প্রার্থী কল্লোল বনিক বলেন, জাতীয় সংসদ কোটিপতিদের ক্লাবে পরিণত হয়েছে। শ্রমজীবী, সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি সংসদে না পাঠালে তাঁদের কথা কেউ বলবে না। আজ ঢাকা–১২ আসনের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এদিন তিনি শেরেবাংলা নগর, তেজগাঁও, নাবিস্কো এলাকায় মানুষের কাছে ভোট চান।
গণসংযোগে কল্লোল বনিক বলেন, ‘জাতীয় সংসদে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি কমে যাচ্ছে। কোটপতিদের ক্লাবে পরিণত হচ্ছে। দেশকে গড়তে হলে নতুন নেতৃত্ব দরকার। এই কথাগুলো মানুষকে বলছি। মানুষও বলছেন, তাঁরা এই অবস্থার পরিবর্তন চান।’
ভোটারদের উদ্দেশে সিপিবির এই প্রার্থী বলেন, নির্বাচিত হলে ঢাকা–১২ আসনের মানুষের জন্য মাদক, চাঁদাবাজি নিরসনে কাজ করবেন। একই সঙ্গে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সবাই যেন কাজ ও ন্যায্য মজুরি পান, সে জন্য লড়াই করবেন।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন ও মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন কম্পিউটার প্রকৌশলী কল্লোল বনিক।