
গণতান্ত্রিক উত্তরণের স্বার্থে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসের শাসনামলের শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। একই সঙ্গে ওই সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা এবং দোষী হলে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তারা। আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানিয়েছেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রণ্টের নেতারা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। গণ–অভ্যুত্থানের পরে তাঁদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল যেমন বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন প্রধান কাজ। এর সাথে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দলীয়করণ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশসান ইত্যাদি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ‘মব সন্ত্রাস’ ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। এ ক্ষেত্রে সরকারের কারও কারও বক্তব্যে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদ ছিল বলে জনমনে ধারণা রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার বিচারের একটি মামলার রায় ছাড়া অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের বিচারের তেমন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। তা ছাড়া ব্যাপক মামলা–বাণিজ্যের কারণে অনেক নিরীহ মানুষও হয়রানির শিকার হয়েছেন। সব দলের সম্মতিতে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে নিজেদের মত জোর করে চাপিয়ে দিতে চাওয়ায় যেসব প্রয়োজনীয় সংস্কার হতে পারত তা–ও ভেস্তে যেতে বসেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টাদের সম্পর্কে দুর্নীতির অভিযোগ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে নেতারা বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য উল্লেখিত বিষয় সম্পর্কে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলের শ্বেতপত্র প্রকাশ করা ও উপদেষ্টাদের দুর্নীতির অভিযোগ যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা এবং দোষী হলে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্কাফী রতন, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পদাক মোশরেফা মিশু, বাসদের (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা, সোনার বাংলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হারুন অর রশীদ।