রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ

পাঁচ কোটি টাকা নিয়ে গেলেও অসুবিধা নেই, এ কথা বলিনি: ইসি সচিব

নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ অভিযোগ করেন, ঠাকুরগাঁওয়ের জামায়াত নেতাকে টাকাসহ আটকের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যকে মিসকোট করা হয়েছে। তিনি তাঁকে মিসকোট করে অপতথ্য না ছড়াতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

আখতার আহমেদ বলেন, ‘ফাইন্যান্সিয়াল একটি ইস্যুতে আমাকে কোট করা হয়েছে যে আমি নাকি বলেছি যে পাঁচ কোটি টাকা নিয়ে গেলেও কোনো অসুবিধা নেই। এটা বলার এখতিয়ার, অধিকার, ক্ষমতা আমার নেই এবং আমি এটা বলিনি। এটা আমাকে মিসকোট করা হয়েছে। দয়া করে এ রকম মিসকোট করবেন না।’

আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

আখতার আহমেদ বলেন, ‘দয়া করে এ ধরনের মিসকোট করবেন না। আমরা একটি ভালো নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। অপতথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, ‘আমাকে যা জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, সেটি ছিল—কোনো অর্থ জব্দের বিষয়ে আমার মন্তব্য কী। আমি এ বিষয়ে বলেছি, যারা বিষয়টি ইন্টারসেপ্ট (আটকে দেওয়া) করেছে, এ বিষয়ে তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। এর বাইরে আমি কিছু বলিনি।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমাকে মিসকোট করার আগে ক্রসচেক করা উচিত ছিল। এ ধরনের অপতথ্যের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসুন। আমরা ভালো নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছি। সবাই সচেষ্ট থাকি যেন নির্বাচনটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়।’

ঠাকুরগাঁওয়ের জামায়াত নেতাকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে টাকাসহ আটকের বিষয়ে ইসি সচিবকে উদ্বৃত করে একটি বক্তব্য গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বলা হয়, ‘ইসি সচিব বলেছেন, ভোটের সময় টাকা বহনের নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই। টাকার উৎস এবং ব্যবহারের বৈধ খাত দেখাতে পারলে ৫০ লাখ নয়, প্রয়োজনে ৫ কোটি টাকা বহনেও কোনো সমস্যা নেই।’ পরে ইসি সচিব তাঁর এই বক্তব্যেকে মিসকোট করা হয়েছে বলে জানান।

এ ছাড়া বিকেলে নির্বাচন কমিশনে আসা জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রতিনিধিদের অভিযোগ প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ‘একটু আগে জামায়াতে ইসলামীর একটা প্রতিনিধিদল এসেছিল, সঙ্গে ১১–দলীয় জোটের নেতারা ছিলেন। বিভিন্ন কেন্দ্রে তাঁদের সমস্যা হচ্ছে, এজেন্টদের ব্যাপারে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনার কথা আমাদের বলে গেছেন। আমরা বলেছি,  ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে জানান, রিটার্নিং অফিসারের কাছে জানান, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানান। তারা তারপরও আমাদের (ইসি) জানিয়ে গেছেন। এখন আমাদের দিক থেকে যেটুকু তাগিদ দেওয়ার আছে, আমরা নিশ্চয়ই সেটুকু দিব।’