কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাজধানীতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। আজ মঙ্গলবার শাহবাগ এলাকায়
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাজধানীতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। আজ মঙ্গলবার শাহবাগ এলাকায়

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে ঢাকায় কঠোর অবস্থানে ছিল পুলিশ, ঘটেনি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা

নিজেদের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সারা দেশে কর্মসূচি পালন করবে বলে আশঙ্কা করেছিল পুলিশ। তবে রাজধানী ঢাকায় দলটির নেতা–কর্মীরা কোথাও প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালন করতে পারেননি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি ও অভিযানের কারণে আওয়ামী লীগের ঘোষিত কর্মসূচি পালন করতে পারেনি।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে নাশকতা ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করেছিল। তবে পুলিশের কঠোর অবস্থান ও আগাম প্রস্তুতির কারণে সেই চেষ্টা সফল হয়নি।

আজ মঙ্গলবার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন স্থানে নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল বলে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। সে কারণে রাজধানীজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

দুই বছর আগে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এর পর থেকে দলটির অধিকাংশ নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সারা দেশে মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয়। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সড়ক ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, কয়েক দিন ধরেই আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য কর্মসূচি ঘিরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়। ফলে রাজধানীর কোথাও দলটির নেতা–কর্মীরা বড় ধরনের কোনো জমায়েত বা মিছিল করতে পারেননি।

এর আগে গতকাল সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ২৬ নেতা–কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ডিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) নিয়াজ মেহেদীর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীর আটটি থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ধানমন্ডি থেকে ১০ জন, মোহাম্মদপুর থেকে ৮ জন, রমনা থেকে ২ জন, খিলক্ষেত থেকে ২ জন এবং বংশাল, কদমতলী, মিরপুর ও তুরাগ থানা এলাকা থেকে একজন করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।