শাকসু নির্বাচন ‘বানচালের ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর শাখার মিছিল। আজ সোমবার ঢাকার শাহবাগে
শাকসু নির্বাচন ‘বানচালের ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর শাখার মিছিল। আজ সোমবার ঢাকার শাহবাগে

শাকসু নির্বাচন স্থগিতের পেছনে এক ‘লিডারের’ হাত, অভিযোগ সাদিক কায়েমের

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (শাকসু) নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর এর পেছনে এক ‘লিডারের’ হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বাধা দেওয়া হলে জাতীয় নির্বাচনেও এর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন সংগঠনটির নেতারা।

শাকসু নির্বাচন স্থগিতে হাইকোর্টের আদেশের পর ‘শাকসু নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে আজ সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর শাখা। মিছিলটি শাহবাগ মোড়ে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এর আগে এদিন দুপুরে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির এক সংবাদ সম্মেলনে শাকসু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে ছাত্রদল ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর ঢাকা মহানগর ছাত্রশিবিরের মিছিল শেষে সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আবু সাদিক কায়েম এর নেপথ্যে এক ‘লিডার’–এর কথা তোলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের “লিডার” নামে খ্যাত যিনি, আমরা শুনতে পেয়েছি, তাঁর নির্দেশে এই নির্বাচনকে (শাকসু) স্থগিত করার জন্য অপপ্রয়াস শুরু হয়েছে।’ ছাত্র সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত না করতেও ‘লিডার’–এর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সাদিক কায়েম ‘লিডার’–এর নাম বলেননি। তবে তাঁর বক্তব্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকে ইঙ্গিত করে। ১৭ বছর নির্বাসন শেষে তারেক রহমান গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সময় তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে বিএনপির পোস্টার–বিলবোর্ডে তাঁকে ‘লিডার’ সম্বোধন করা হয়। ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরাও তারেক রহমানকে ‘আমাদের লিডার’ সম্বোধন করছেন।

‘লিডার’–এর উদ্দেশে সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমরা আপনাকে সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি। বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে আপনি জুলুমের শিকার হয়েছেন। কিন্তু আপনি জালেম হয়ে উঠবেন না।’

শাকসু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা হলে জাতীয় নির্বাচনে তার পরিণতি ভালো হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন ডাকসু ভিপি। তিনি বলেন, ‘এবারের যে জাতীয় নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের পরিণতি দেখিয়ে দেবে। আমরা চাই না আপনাদের বনাম ছাত্রসমাজ—এ ধরনের একটা সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি হোক।’

২৮ বছর পর আগামীকাল মঙ্গলবার শাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণের কথা ছিল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে এই ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশন অনুমতি দেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়ে আসছিল ছাত্রদল। এর প্রতিবাদে গতকাল ও আজ ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবন ঘেরাও করে তারা। তার মধ্যেই একটি রিট আবেদনে হাইকোর্টের আদেশে শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন আটকে যায়।

আদালতের রায়ের বিষয়ে সাদিক কায়েম বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী সব সংগঠনের পক্ষ থেকে এই রায়কে প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

ছাত্রদলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, নির্বাচনে একদল হারবে, একদল জিতবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে নির্বাচন কমিশনের সামনে দাঁড়িয়ে, মব তৈরি করে জুলাই বিপ্লব–পরবর্তী চার কোটি তরুণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নির্বাচন বন্ধ করে দেবে, সেটা ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না।

সমাবেশে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ বলেন, ‘আমরা সরকারকে বলতে চাই, শাকসু নিয়ে টালবাহানা বন্ধ করুন। যদি বন্ধ না করেন, আমরা আগামীকাল থেকে দেশব্যাপী লাগাতার কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। এমন কর্মসূচি দেব, দেশ চালাতে আপনাদের হিমশিম খেতে হবে।’

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর এজিএস ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. মহিউদ্দিন খান। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ।

এদিকে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে আগামীকাল মঙ্গলবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানববন্ধন, বুধবার সব জেলা সদরে বিক্ষোভ এবং বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগরে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ছাত্রশিবির।