প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রা পল্টন থেকে প্রেসক্লাব হয়ে পুরানা পল্টনে সিপিবি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। ঢাকা; ৬ মার্চ ২০২৬
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রা পল্টন থেকে প্রেসক্লাব হয়ে পুরানা পল্টনে সিপিবি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। ঢাকা; ৬ মার্চ ২০২৬

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শোষণ–বৈষম্য-দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে লড়াইয়ের অঙ্গীকার সিপিবির

শোষণ-বৈষম্য-দুর্নীতিমুক্ত সমতাভিত্তিক সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সমাজতন্ত্রের লড়াইয়ে অবিচল সংগ্রামের অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় এ অঙ্গীকার করেন সিপিবির নেতা–কর্মীরা।

আলোচনা সভায় সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, চব্বিশের জুলাই গণ–অভ্যুত্থান, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াই, জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের আন্দোলনসহ সব আন্দোলন-সংগ্রামে অতীতে সিপিবি অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। আগামীতেও বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং শোষণমুক্তি ও সমাজতন্ত্র অভিমুখী লড়াইয়ে নিবেদিত থাকবে সিপিবি।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, ‘বারবার প্রতারণার শিকার হওয়া বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে লুটেরা পুঁজিবাদী শক্তি, মৌলবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই গড়ে তুলতে হবে। শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে শ্রমজীবী মানুষকে সংগঠিত করে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করতে হবে। সিপিবি এই কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে অগ্রসর করবে।’

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, ইসরায়েলি আগ্রাসন ও জায়নবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংহতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো অন্যায্য বাণিজ্যচুক্তির বিরোধিতা করার আহ্বান জানান। এসব চুক্তি বাংলাদেশের কৃষক-শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী। দেশের বন্দর বা করিডর বিদেশি স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করা হলে কমিউনিস্টরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

আলোচনা সভার শুরুতে দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন সিপিবির সভাপতি। সভায় আরও বক্তব্য দেন সিপিবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লুনা নূর ও দক্ষিণের সভাপতি সাইফুল ইসলাম সমীর, ঢাকা জেলার সভাপতি সুকান্ত শফি চৌধুরী। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লাকী আক্তার।

আলোচনা অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। আলোচনা সভা শেষে একটি শোভাযাত্রা পল্টন থেকে প্রেসক্লাব হয়ে সিপিবি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।