রাজধানীর বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। ১২ আগস্ট
রাজধানীর বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। ১২ আগস্ট

একাত্তর হালকা, চব্বিশ ভারী—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই প্রদর্শনীকে ‘ছোটলোকি’ বললেন রিজভী

একাত্তরকে ছোট করা এবং ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার জন্য কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে গণ-অভ্যুত্থানকে বড় করে দেখিয়ে রাখা একটি চিত্রকর্মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘এগুলো হচ্ছে ছোটলোকি। সব সময় জনগণের বিরুদ্ধে ভূমিকা রেখেছেন বলেই তাঁরা এখন জুলাইকে ক্যাপিটাল বা পুঁজি করতে চাইছেন।’

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন রিজভী। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ ছেলে এবং ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন উপলক্ষে একদল নেতা–কর্মীকে নিয়ে তাঁর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ করতে গিয়েছিলেন রিজভী। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজকে প্রকারান্তরে একাত্তরকে ছোট করার জন্য, একাত্তরকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার জন্য বর্তমানে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। একাত্তর, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যে নামটি অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্নভাবে জড়িত—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, স্বাধীনতার ঘোষক—তাঁকে মুছে ফেলার একটা গভীর চক্রান্তের প্রচেষ্টা চলছে। আমি বলি যে কাকে খুশি করতে চাইছে? নিশ্চয়ই পলাতক ফ্যাসিস্টকে খুশি করার জন্যই কি আপনারা এই কাজগুলো করছেন?’

কোনো দলের নাম উল্লেখ না করেই রিজভী বলেন, ‘একটি চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন সাতচল্লিশ থেকে জুলাই পর্যন্ত। সেখানে শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ আছে, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা নেই। পরে অনেক ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তাদের প্রদর্শনীর যে ধরন আমরা দেখেছি...। তাদের ছাত্রসংগঠন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখাচ্ছে—দাঁড়িপাল্লায় একাত্তর হালকা, একাত্তরের পাল্লাটা ওপরের দিকে চলে যায় আর জুলাইকে নিচের দিকে নিয়ে আসা হয়। এগুলো হচ্ছে ছোটলোকি। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনারা জনগণের সঙ্গে শত্রুতা করেছেন। একাত্তর, নব্বই, ছিয়াশি—সব সময় আপনারা জনগণের বিরুদ্ধে ছিলেন। সব সময় এমন ভূমিকা রেখেছেন বলেই এখন জুলাইকে আপনারা ক্যাপিটাল বা পুঁজি করতে চাইছেন।’

ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর ভূমিকা স্মরণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একান্ত সহকর্মী ও সতীর্থ হিসেবে যোগ্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তাঁর (তারেক) আরাধ্য কাজগুলো এই সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করতে পারবেন। এটা সুসম্পন্ন হলেই আরাফাত রহমান কোকোর আত্মা শান্তি পাবে।’ ক্রীড়ার ওপর একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা পালিয়েছেন, তারেক রহমান জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী

আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর ঘটনা এবং খালেদা জিয়ার সঙ্গে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অমানবিক আচরণের কথা উল্লেখ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনা সব ট্র্যাজেডিকে অতিক্রম করে গেছে। একটি পরিবারকে পর্যুদস্ত করার জন্য, জনগণের মধ্যে তাঁর (খালেদা জিয়া) উপস্থিতি ও জনপ্রিয়তাকে মুছে দেওয়ার জন্য শেখ হাসিনা এমন কোনো কৌশল নেই, যা করেননি বলে তিনি অভিযোগ করেন। একচ্ছত্র আধিপত্য ও ক্ষমতায় টিকে থাকার বাসনা চরিতার্থ করতে এই কাজগুলো তিনি করেছেন বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

রিজভী বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য শেখ হাসিনা এমন কোনো কাজ নেই, যা করেননি। কারণ, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর (শেখ হাসিনা) পরিবারের অবদান নেই—না তাঁর পিতার, না তার নিজের। তারা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছেন। এই কারণেই প্রতিহিংসা, কেন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করল?...জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম ও জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনা কোনোদিনই বরদাশত করতে পারেনি। তাই একের পর এক যন্ত্রণা দিয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শারীরিকভাবে অত্যাচার করা হয়েছে। তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে চলে গিয়েছিলেন। আজকে জনগণের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। সেই তারেক রহমান আজকে অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী।’