
১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চ নিয়ে সরকার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমালোচনার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘ওনারা বলেন যে কেবল ছয় মাস হলো লংমার্চের দরকারটা কী? তো দেশবাসী প্রশ্ন করে, এই যে সাত দফার ব্যাপারে আমাদের যে বক্তব্য, এই ব্যর্থতার আপনাদের দরকারটা কী?’
সরকারের উদ্দেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘না পারলে আপনি বলেন যে আমরা পারছি না, আমাদেরকে মাফ করে দেন। তা–ও তো উনারা বলেন না। একের পর এক কমার পরিবর্তে শুধু বাড়ছে। এ জন্য এই লংমার্চ অত্যন্ত সময় উপযোগী এবং যুক্তিসংগত।’
রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আজ সোমবার বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন।
এর আগে সাত দফা দাবিতে ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা–কুষ্টিয়া অভিমুখে অনুষ্ঠেয় লংমার্চ উপলক্ষে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গোলাম পরওয়ার জানান, সভার শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর অবসরপ্রাপ্ত আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের নিন্দা জানিয়ে ১১–দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে অবিলম্বে তাঁর মুক্তি দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপরে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের হামলারও নিন্দা জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
লংমার্চের প্রস্তুতির বিষয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ৩১ অক্টোবর সকাল সাতটায় ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে পদ্মা সেতু, মাওয়া সড়ক দিয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ফকিরহাট, খুলনা রূপসা ব্রিজ পার হয়ে যশোর, ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া যাবে লংমার্চ। সমাপনী সমাবেশ হবে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের মাঠে।
পরওয়ার আরও বলেন, পথিমধ্যে কয়েকটি পথসভা হবে। তার মধ্যে পদ্মা সেতু পার হওয়ার পরে সকাল আনুমানিক ৯টায় শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা, এরপর বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাঁটাখালী চার রাস্তার মোড়, খুলনার মহানগরীর শিববাড়ি মোড় ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের চাঁচড়া মোড় এবং ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে পথসভা হবে।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, বিরোধী ঐক্যের কর্মীরা কোনো উসকানিতে পা দেবে না, চরম ধৈর্য দেখিয়ে লংমার্চ বাস্তবায়ন করবেন। এক প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের উচিত অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়া।
১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির প্রস্তুতি সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।