
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় দুই কোটি টাকার সম্পদ এবং ২০ ভরি স্বর্ণের মালিকানা দেখিয়েছেন ঢাকা–১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। হলফনামা অনুসারে তাঁর বছরে আয় আনুমানিক ১১ লাখ টাকা।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াতের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, ব্যবসায়ী মীর কাসেম আলীর ছেলে মীর আহমাদ এবারই প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর মিরপুরের একাংশ, শাহ আলী ও দারুসসালাম থানা এলাকা নিয়ে গঠিত আসনে প্রার্থী হচ্ছেন তিনি।
বিধান অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে তাঁদের আয়–ব্যয় ও সম্পদের বিবরণ হলফনামা আকারে দাখিল করতে হয়। এসব হলফনামার তথ্য নির্বাচন কমিশন তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে।
৪১ বছর বয়সী মীর আহমাদ পেশায় আইনজীবী। বার-অ্যাট-ল করেছেন তিনি। তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার পেশায় গৃহিণী। হলফনামায় তিনি তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের তালিকায় স্ত্রী ও দুই মেয়ের নাম উল্লেখ করেছেন।
হলফনামা অনুযায়ী, মীর আহমাদ বিন কাসেমের আয়ের একমাত্র উৎস আইন ব্যবসা। এর মাধ্যমে তিনি বছরে আনুমানিক ১১ লাখ টাকা আয় করেন। তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার টাকার মতো। এর মধ্যে ব্যাংকের ফিক্সড অ্যাকাউন্ট থেকে ২ লাখ ২৬ হাজার টাকা এবং সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে ৫ হাজার ৭৮৫ টাকা আয়ের কথা বলা হয়েছে।
নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে নিজের আয় থেকে এক লাখ টাকা খরচ করবেন বলে হলফনামায় জানিয়েছেন মীর আহমাদ। এ ছাড়া আত্মীয়দের কাছ থেকে দান হিসেবে পাবেন ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অনাত্মীয় তিন ব্যক্তির কাছ থেকে নির্বাচনী খরচের জন্য ৪০ লাখ টাকা পেতে পারেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আরমানের প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা নগদ অর্থ রয়েছে। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকে তাঁর জমা রয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। ব্যাংক দুটিতে তাঁর ফিক্সড ডিপোজিট আছে ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকার। দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনে শেয়ার রয়েছে তাঁর, যার অর্জনকালীন মূল্য এক লাখ টাকা বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
হলফনামায় গত বছরের জুলাই মাসে একটি গাড়ি কেনার কথা উল্লেখ করেছেন মীর আহমাদ, যার দাম ৪৫ লাখ টাকা। তাঁর কাছে সোনা রয়েছে ২০ ভরি, যার অধিগ্রহণকালীন মূল্য তিন লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তিনি মোট অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখিয়েছেন ১ কোটি ৮৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
এ ছাড়া আরমানের স্ত্রীর কাছে নগদ ১৪ লাখ টাকা এবং ইসলামী ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকে ৯ লাখ ৬১ হাজার টাকার বেশি জমা রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর ইসলামী ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকের পাঁচটি হিসাবে ফিক্সড ডিপোজিট আছে ২৬ লাখ টাকার বেশি।
মীর আহমাদ হলফনামায় তাঁর স্ত্রীর কাছে ৩০ ভরি স্বর্ণ থাকার কথা বলেছেন, যার অধিগ্রহণকালীন মূল্য সাড়ে চার লাখ টাকা। সব মিলিয়ে আরমানের স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে ৪৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার। হলফনামা অনুসারে মীর আহমাদের কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই।আয়কর হলফনামায় মীর আহমাদ উল্লেখ করেছেন, ২০২৫-২৬ করবর্ষে প্রায় ৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আয়ের বিপরীতে তিনি ১০২ টাকা কর দিয়েছেন। আয়কর রিটার্নে তিনি ১ কোটি ৬৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেছেন। মামলার বিবরণ মীর আহমাদ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।