বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমবেদনা জানাতে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে যান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমবেদনা জানাতে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে যান

তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ

অতীতে একসঙ্গে কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও করব: জামায়াতের আমির

দেশের স্বার্থে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বিএনপির সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি আরও বলেছেন, ‘তারেক রহমান (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) সাহেবসহ বিএনপির নেতারা একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। আমরাও একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছি।’

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সহমর্মিতা জানাতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে যান জামায়াতের আমির। সেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। জামায়াতের আমির সেখানে রাখা শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতের আমির। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের গণভোট নিয়ে তিনি বলেন, দেশ এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে আছে। একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। নির্বাচন নির্বিঘ্ন, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হোক, সেই কামনা করে তিনি বলেন, সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এটাও বলেছি যে পাঁচটা বৎসরের জন্য জাতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে, একটা সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে, আমরা সবাই মিলেমিশে ভালো কোনো চিন্তা করতে পারি কি না, সেটাও আমাদের চিন্তা করা দরকার। আমরা এটাও বলেছি, নির্বাচনের পরপরই সরকার গঠনের আগেই আমরা ইনশা আল্লাহ বসব; খোলা মনে কথা বলব। জাতির জন্য আমরা চিন্তা করব; জাতির জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনীতিতে যে ঐক্য তৈরি করে দিয়ে গেছেন, সেটির ওপর দাঁড়িয়ে যেন সবাই দায়িত্ব পালন করে, সেই আশাবাদও ব্যক্ত করেন জামায়াতের আমির।

গুলশান কার্যালয়ে যাওয়ার বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা একটি নৈতিক দায়িত্ব পালন করার জন্য এখানে এসেছিলাম। বেগম খালেদা জিয়া, তিনি তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর বাইরেও তাঁর একটি সংগ্রামী আপসহীন জীবন ছিল। তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন লড়াই করে গেছেন। সেই লড়াই করতে করতে তাঁর শেষ জীবনটা অত্যন্ত বেদনাদায়কভাবে জেলেও একাকিত্বে কেটেছে। এই সময় যাঁরা দেশ শাসন করেছেন, তাঁরা তাঁর সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেছেন।’

‘বারবার উপহাস করেছে’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) যখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তখন তাঁকে বিদেশে নেওয়ার জন্য দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। সরকার তো আমলে নেইনি; বরং এগুলা নিয়ে বারবার উপহাস করেছে।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন, বিদেশেও গিয়েছেন; কিন্তু ততক্ষণে তাঁর বিশাল ক্ষতি হয়ে গেছে। সেই যে তিনি ব্রিটেন থেকে ফিরে এলেন। আর কিন্তু বিদেশ চিকিৎসা নিতে যাওয়ার মতো উপযুক্ত স্বাস্থ্য থাকল না। স্বাস্থ্যটা এতটাই ভেঙে পড়ল যে শেষ চিকিৎসা তাঁকে দেশেই নিতে হয়েছে।’

সাক্ষাতের সময় অন্যদের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান, মোবারক হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।