
বিএনপির নেতৃত্বের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করে তারা গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই, কোনো আপস নেই।
আজ শনিবার ‘গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এই আয়োজন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আন্দোলন জাতীয় কমিটি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মামুনুল হক বলেন, গণভোটে যে ভোট পড়েছে তার প্রায় ৬৭-৬৮ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে। আর সংসদ নির্বাচনে যে ভোট পড়েছে তার ৫০ শতাংশ বিএনপির ধানের শীষের পক্ষে পড়েছে। জনগণ যদি সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক হয়ে থাকে, জনগণের ইচ্ছাই যদি বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল বনিয়াদ হয়ে থাকে, তাহলে সে ক্ষেত্রে কীভাবে ৫০ পারসেন্ট ভোট নিয়ে ওনারা ৬৭ পারসেন্ট মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করার দুঃসাহস দেখাতে পারে ? এটা জনগণের সঙ্গে স্পষ্ট একটা বিশ্বাসঘাতকতা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুসরণ করার চেষ্টা করছেন অভিযোগ করে খেলাফত মজলিসের আমির আরও বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে বিএনপি বাঙালিকে আবার হাইকোর্ট দেখানোর এক ভয়াবহ প্রবণতা শুরু করেছে। বাঙালিকে যদি হাইকোর্ট দেখান, শেখ হাসিনা কিন্তু বারবার এই হাইকোর্ট দেখাইত, জনগণ শেখ হাসিনাকে রাজপথ দেখায় দিয়েছে। বিএনপির যেসব আত্মঘাতী প্রবণতা তার মধ্যে অন্যতম একটা হলো, আপনারা লক্ষ করে দেখবেন সেই ১৯৯১, ২০০১ প্রত্যেক সময়ে আওয়ামী লীগ যেসব অপকর্ম করে যায়, বিএনপি এসে সেসব অপকর্মের কপি-পেস্ট করতে শুরু করে। মনে হচ্ছে যে আবার তারেক রহমান সাহেব শেখ হাসিনার দেখানো পথে বাঙালিকে হাইকোর্ট দেখানোর মতো বিপজ্জনক পথে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা আশা করব, এই বিপজ্জনক পথে পা বাড়ালে শেখ হাসিনা গেছে, আপনাকেও কিন্তু সেই পথে যেতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আন্দোলন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক লে. জেনারেল (অব.) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। অন্যদের মধ্যে লিবারেল পার্টির সভাপতি শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহসভাপতি মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া ও কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আরিফুল হক বক্তব্য দেন। সঞ্চালনায় ছিলেন কমিটির সদস্যসচিব আহমেদ করিম।