‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, সনদ, গণভোটের রায়: আইনজীবীদের অবদান এবং করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, সনদ, গণভোটের রায়: আইনজীবীদের অবদান এবং করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে

বিএনপির স্বাক্ষর করা জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চান তাজুল ইসলাম

যে জুলাই সনদে বিএনপি সই করেছে, সেটার বাস্তবায়ন শুরু করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সভায় তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘আজকে জুলাই বিপ্লবের সুফল ভোগকারীরা যখন বলে রাষ্ট্র আবেগ দিয়ে চলে না, তখন লজ্জায় আমাদের মাথা হেঁট হয়ে যায়। এটা রাষ্ট্রের সঙ্গে, বিপ্লবের সঙ্গে, জন–আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা এবং বিশ্বাসঘাতকতা বলে আমরা মনে করি।’

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বলেছেন, সরকারি দলের নেতারাও বলেছেন জুলাই সনদের প্রতিটি ধারা, যেগুলো তাঁরা স্বাক্ষর করেছেন, প্রতিটি ধারা বাস্তবায়ন করবেন। সেটা অবিলম্বে বাস্তবায়ন শুরু হওয়া দরকার। তা না হলে জনমনে সন্দেহ ও অবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে। মানুষ হতাশায় ডুবে যাচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘যেটার ব্যাপারে আমরা প্রত্যেকেই একমত, যেটার ব্যাপারে জাতি রায় দিয়েছে। আসুন, সেটা বাস্তবায়ন করে জাতিকে সন্দেহ–সংশয় থেকে মুক্তি দিই।’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, সনদ, গণভোটের রায়: আইনজীবীদের অবদান এবং করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তাজুল ইসলাম। সভাটি ‘বাংলাদেশ পাত্রপক্ষ’ নামে একটি সংগঠন আয়োজন করে।

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা চাই না এই জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো কথা বলতে হোক। সেটা সরকারি দল হোক, বিরোধী দল হোক। আমরা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে হয় এ রকম দিন চাই না। কারণ, এই সরকারটি একটা রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে কিন্তু এসেছে।’

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, এমন কোনো সরকার বাংলাদেশে না হোক, যেটা শুধু ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকার অসৎ উদ্দেশ্যে নাগরিকদের বুকে নির্বিচার গুলি চালিয়ে জুলাইয়ের মতো হত্যাকাণ্ড করবে।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাইব, বাংলাদেশ সব মানুষের জন্য বসবাসযোগ্য একটি দেশ হোক। বাংলাদেশ নিপীড়ন এবং ভয়হীন একটি রাষ্ট্র হোক। কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থা নাগরিকদের গুম করে গোপন কারাগারে আর কখনো বন্দী করার দুঃসাহস না দেখাক। এটাই হচ্ছে আজকের জুলাইয়ের চেতনা।’

সভায় বিএনপি সমর্থক তরুণ আইনজীবী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘প্রতিটি আইনের শুরুতে একটা প্রস্তাবনা থাকে, আমাদের সংবিধানেও প্রস্তাবনা আছে। জুলাই সনদের প্রস্তাবনাটা যদি দেখেন, লেখা আছে, ‘যেহেতু সুদীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের প্রকাশ ঘটিয়াছে।’ এখানে প্রথমত ‘গণ–অভ্যুত্থান’ শব্দটা বলা হয়েছে। দেখবেন যে সবাই এটাকে বিপ্লব বলতে চায়, কিন্তু যে আদেশের বেসিসে এত কথাবার্তা হচ্ছে, তারাও এটাকে বিপ্লব বলেনি, বলেছে গণ–অভ্যুত্থান।

সভায় হাবিবুর রহমান জুলাই সনদ এবং সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা যদি এখন বলি একটি জুলাই সনদ প্রণয়ন করলাম এবং সেটিকে সংবিধান সংস্কারের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করলাম, তাহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে। ধরুন, আমরা এটি সংবিধানের ১৮তম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করলাম। কিন্তু একইভাবে, ভবিষ্যতে কোনো সংসদ চাইলে ১৯তম সংশোধনীর মাধ্যমে এটিকে বাতিলও করে দিতে পারে।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পাত্রপক্ষের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার নাসরীন সুলতানা, সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, সহসভাপতি আকিব হাসানসহ আরও অনেকে।