
ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে নির্বাচন করছেন মীর আহমাদ বিন কাসেম। তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুমের শিকার হয়েছিলেন। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আসিফ হাওলাদার।
আপনি নিজে গুমের ভুক্তভোগী। আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম গুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও জনমত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
মীর আহমাদ: রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ধরে রাখতে পারি কি না, এটা আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। আমরা দুই প্রার্থী সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ঢাকা-১৪ আসনকে সারা বাংলাদেশের জন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উপহার দেব; নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এখানে কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ, কাদা–ছোড়াছুড়ি, শেমিং-ট্যাগিংয়ের রাজনীতি থাকবে না।
কে কত বেশি মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন, জনগণের দুর্ভোগের সৃজনশীল সমাধান কে কত বেশি দিতে পারেন এবং কে কত বেশি জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন, সেটা হচ্ছে আমাদের প্রতিযোগিতার জায়গা। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও আমরা এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রেখেছি। যে-ই বিজয়ী হই, একজন আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব, এটা আমাদের সিদ্ধান্ত।
মিরপুরের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে চাঁদাবাজি ও মাদক। খুব প্রকাশ্যেই এই দুটো হচ্ছে। কারণ, রাজনৈতিক শক্তি এদের সহায়তা করছে।
কিন্তু বেশ কিছু আসনে প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের মধ্যে কাদা–ছোড়াছুড়ি ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেখা যাচ্ছে।
মীর আহমাদ: আমি তাঁদের উদ্দেশে বলব, দেখুন, আপনারা যদি সৃজনশীল হন, যদি আপনাদের মেধা-বুদ্ধি কাজে লাগান, তাহলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আইডিয়া (ধারণা) নিয়ে কথা বলুন, আরেকজনের ত্রুটি নিয়ে নয়। এটাই হচ্ছে পজিটিভ পলিটিকস (ইতিবাচক রাজনীতি)। আমরা মনে করি, ঢাকা-১৪ সারা বাংলাদেশের সামনে উদাহরণ হবে, ইনশা আল্লাহ।
এ আসনে ভোটের সমীকরণে কোন কোন বিষয় ‘ফ্যাক্টর’ হবে বলে মনে করেন?
মীর আহমাদ: মিরপুরের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে চাঁদাবাজি ও মাদক। খুব প্রকাশ্যেই এই দুটো হচ্ছে। কারণ, রাজনৈতিক শক্তি এদের সহায়তা করছে।
চাঁদাবাজি, টেম্পোস্ট্যান্ড, বাসস্ট্যান্ড দখল, জমি দখল, মানুষের অধিকার হরণ—কোনো ধরনের কাজে আমি বা আমার সহকর্মীরা কেউ জড়িত নই। আমরা প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলে এটা নিশ্চিত করা হবে যে ঢাকা-১৪ আসনে কেউ চাঁদাবাজি করতে পারবে না এবং মাদক বিক্রি করতে পারবে না।
জনগণ পুরোনো ধাঁচের রাজনীতি, পেশিশক্তি-কালোটাকার প্রভাব ও দুর্নীতিতে হাঁপিয়ে উঠেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এতগুলো জীবনের বিনিময়ে যে দ্বিতীয় স্বাধীনতা, সেটা যেন শুধু একটি ভোট নয়; বরং একটি নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়।
আর কোন কোন বিষয় ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন?
মীর আহমাদ: জনগণের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে নির্বাচনের পর জনপ্রতিনিধিদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এলাকার মানুষ বলে, ভোটের পর আর এমপি সাহেবকে খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই আমাদের প্রথম ওয়াদা হচ্ছে, নির্বাচনী এলাকায় সরকারি বরাদ্দ কত এল, সেই বরাদ্দ কীভাবে কোথায় ব্যয় হচ্ছে, প্রতি ছয় মাস পরপর তার একটা পূর্ণাঙ্গ হিসাব আমরা জনসমক্ষে প্রকাশ করব।
দ্বিতীয়ত, প্রতি ছয় মাস পর আমরা গণশুনানি অনুষ্ঠান করব, যেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধি জনগণের মুখোমুখি হবেন। জনসাধারণ প্রশ্ন করবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি সেই উত্তর দিতে বাধ্য থাকবেন।
জনগণ পুরোনো ধাঁচের রাজনীতি, পেশিশক্তি-কালোটাকার প্রভাব ও দুর্নীতিতে হাঁপিয়ে উঠেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এতগুলো জীবনের বিনিময়ে যে দ্বিতীয় স্বাধীনতা, সেটা যেন শুধু একটি ভোট নয়; বরং একটি নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়।
ভোটের পরিবেশ কেমন দেখছেন?
মীর আহমাদ: আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাদের মধ্যে একদিকে ঝুঁকে পড়ার একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে আমার আসনে এটা তুলনামূলক কম। কারণ, যেহেতু আমার প্রতিপক্ষরা অনেক মার্জিত-সংযত।
কিন্তু অধিকাংশ আসনে রাজনীতি এত পরিশুদ্ধ নয়। অনেক জায়গায় জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কোনো অভিযোগ করলে প্রশাসন তা আমলে নিচ্ছে না। কিন্তু বিএনপির প্রার্থীদের জন্য তারা উঠেপড়ে লেগে যাচ্ছে। এটা উদ্বেগজনক।
সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
মীর আহমাদ: আপনাকেও ধন্যবাদ।