যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আবদুর রব ২ জানুয়ারি দেশে এসেছেন। এক দিনও ঘরে বসে থাকেননি। প্রতিদিনই সিলেট জেলার বিভিন্ন আসনে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে গণসংযোগ করছেন। ভোট চাইছেন। ভোট শেষে আবার ফিরে যাবেন যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মোহাম্মদ আবুল হোসেন দেশে এসে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন। তিনি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার বাসিন্দা। কয়েকজন বন্ধুসহ মাসখানেক আগে দেশে এসে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন বলে জানালেন।
শুধু আবদুর রব ও আবুল হোসেন নন, তাঁদের মতো হাজারো প্রবাসী সিলেট ও সুনামগঞ্জের ভোটের মাঠে সরব। কেউ যুক্তরাষ্ট্র থেকে, কেউবা এসেছেন যুক্তরাজ্য থেকে। আছেন ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য দেশের প্রবাসীরাও। তাঁদের কেউ কেউ বিএনপির সমর্থক, কেউ আবার জামায়াতে ইসলামীর। এনসিপি, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য দলের সমর্থকেরাও এসেছেন ভোট দিতে, প্রচারে অংশ নিতে।
তবে প্রবাসীরা ছুটে এলেও স্থানীয় লোকজন বলছেন, সিলেটের ভোটের মাঠ এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি। আরও সপ্তাহখানেক পর ভোটের আমেজ বাড়বে।
শুধু প্রচার নয়। সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে বিভিন্ন দলের মনোনয়ন পেতে তৎপর ছিলেন অর্ধশতাধিক প্রবাসী। শেষ পর্যন্ত বিএনপি থেকে তিনজন প্রবাসী মনোনয়ন পেয়েছেন। প্রার্থীদের অনেকের ভোটের খরচও মেটাচ্ছেন প্রবাসীরা। সিলেটের ৬টি আসনে মোট প্রার্থী ৩৩ জন। এর মধ্যে ১৭ জন নির্বাচনী ব্যয়ের একটা অংশ প্রবাসী স্বজন ও অন্যদের কাছ থেকে পাচ্ছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
আক্তার হোসেন রাজু ৩ জানুয়ারি এসেছেন যুক্তরাজ্য থেকে। তিনিও ভোট পর্যন্ত থাকবেন। ছাত্রজীবনে জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। এখন দলীয় কোনো পদ-পদবি নেই। তিনি সিলেট ছেড়ে যুক্তরাজ্যে আবাস গড়েন ২০১০ সালে। মাঝে কয়েকবার এলেও ভোটের সময় এবং নির্বাচনকে মাথায় নিয়ে দেশে আসেননি। তাঁর শতাধিক পরিচিত প্রবাসী ভোটের মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন বলে জানালেন সিলেট-১ আসনের এই ভোটার।
আক্তার হোসেন বলেন, জীবনে একবারই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ভোট দিয়েছিলেন, ২০০৮ সালে। দীর্ঘ সময় পর এবার ভোটে অংশ নিতে এসেছেন। দেশে আসা-যাওয়া এবং প্রচারের সব খরচ তাঁর নিজের।
প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সময়ও প্রবাসীরা আসতেন। তবে তাঁদের প্রায় সবাই ছিলেন আওয়ামী লীগের সমর্থক।
সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী। নির্বাচনে তিনি সম্ভাব্য ব্যয় করবেন ৬৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের আয় থেকে ব্যয় করবেন ১৫ লাখ টাকা। ফ্রান্সপ্রবাসী এক শুভানুধ্যায়ী দেবেন ৩৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ১৫ লাখ টাকা দেবেন ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী দুই চাচাতো ভাই এবং দেশে থাকা এক খালাতো বোন।
সিলেটের ৬টি সংসদীয় আসনে এমরান আহমদের মতো ১৭ জন প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের টাকা আসবে প্রবাস থেকে। এই অর্থ দেবেন তাঁদের প্রবাসী স্বজন-শুভানুধ্যায়ীরা। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীদের হলফনামার সঙ্গে জমা দেওয়া নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য হিসাব বিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী। নির্বাচনে তিনি সম্ভাব্য ব্যয় করবেন ৬৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের আয় থেকে ব্যয় করবেন ১৫ লাখ টাকা। ফ্রান্সপ্রবাসী এক শুভানুধ্যায়ী দেবেন ৩৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ১৫ লাখ টাকা দেবেন ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী দুই চাচাতো ভাই এবং দেশে থাকা এক খালাতো বোন।
একই আসনে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আবদুন নূর খরচ করবেন ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রবাসী আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে দান পেয়েছেন ২২ লাখ টাকা। এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফখরুল ইসলাম ২৪ লাখ টাকা খরচ করবেন। এর মধ্যে ২০ লাখ টাকা দান পাচ্ছেন এক ভাইয়ের প্রবাসী আয় থেকে।
যুক্তরাজ্য থেকে নির্বাচন সামনে রেখে গত নভেম্বরে দেশে এসেছেন আজিজুর রহমান। মূলত সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে কাজ করতে এসেছেন তিনি। আজিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি সিলেট সদরের ভোটার। তবে প্রচার চালাচ্ছেন গোয়াইনগাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসনে। সিলেট প্রবাসীদের দেশের রাজনীতির প্রতি টান আছে জানিয়ে আজিজুর বলেন, তাঁরা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে শারীরিক ও আর্থিকভাবে যুক্ত থাকার চেষ্টা করেন। এটা সিলেটের ঐতিহ্য বলা যায়।
সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী। নির্বাচনে তিনি সম্ভাব্য ব্যয় করবেন ৬৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের আয় থেকে ব্যয় করবেন ১৫ লাখ টাকা। ফ্রান্সপ্রবাসী এক শুভানুধ্যায়ী দেবেন ৩৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ১৫ লাখ টাকা দেবেন ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী দুই চাচাতো ভাই এবং দেশে থাকা এক খালাতো বোন।
সিলেট-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এম এ মালিক যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য সাবেক উপদেষ্টা। তিনি গত ১৯ বছরে দেশে আসেননি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশে ফেরেন। এখানে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এম এ সালাম। কিন্তু তাঁদের পেছনে ফেলে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এখন নির্বাচনী মাঠে এম এ মালিক।
যুক্তরাজ্য থেকে সিলেট সদর আসনে ভোট দিতে এসেছেন হেলাল উদ্দিন। তিনি জামায়াতের সমর্থক জানিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন পর গণতান্ত্রিক পরিবেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, এই আশায় দেশে এসেছেন। যতটুকু সম্ভব নিজের টাকা খরচ করছেন দলীয় প্রার্থীর পক্ষে। ২৫ বছর পর দেশে ভোট দেবেন জানিয়ে হেলাল উদ্দিন বলেন, মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। এ নির্বাচনে যোগ্য ব্যক্তিকেই মানুষ বেছে নেবে।
এ ছাড়া মৌলভীবাজার-২ থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী শওকত হোসেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে এসে নির্বাচনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন তাঁরা।
প্রবাসীরা বিপুল আগ্রহে দেশে ভোটের প্রচারে এলেও স্থানীয়রা বলছেন, এখনো সিলেটের ভোট জমেনি। সিলেট শহরের জিন্দাবাজার এলাকার জেলখানা মোড়ে কথা হয় তরিতরকারি বিক্রেতা আলেক মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে মাইকে প্রচার শোনা যায়। কেউ কেউ ভোট চাইছেন। তবে এখনো সেভাবে জমেনি। আরও কদিন গেলে বোঝা যাবে।
অবশ্য স্থানীয় রাজনীতিকেরা মনে করছেন, ভোটের আমেজ ঠিকই আছে। তবে এবার পোস্টার লাগানো নিষেধ থাকায় এতটা বোঝা যাচ্ছে না। মাইকে প্রচার এবং মিছিলের চেয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাওয়া এবং ছোট ছোট উঠান বৈঠকে জোর দিচ্ছেন প্রার্থী ও সমর্থকেরা।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ কাইয়ুম চৌধুরী জেলার ৬টি আসনে দলের পক্ষে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, প্রার্থী ও দলের কর্মী–সমর্থকেরা নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি আমেজ চলে আসবে।
জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির ও সিলেট-১ আসনের প্রার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, মানুষ এখন সচেতন। যোগ্য লোক দেখে ভোট দেবে। এ জন্য মিছিল-সমাবেশের চেয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচারে জোর দিচ্ছেন তাঁরা। ভোট যত এগিয়ে আসবে, আমেজ দৃশ্যমান হবে।
স্থানীয় কিংবা জাতীয়, সুনামগঞ্জে যেকোনো নির্বাচনে প্রবাসীদের বিশেষ ভূমিকা থাকে। প্রবাসীরা শুধু প্রচারে অংশ নিতে কিংবা ভোট দিতে আসেন এমনটা নয়, তাঁরা প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ে অর্থ দিয়েও যুক্ত থাকেন। হলফনামায় দেখা গেছে, সুনামগঞ্জে বেশির ভাগ প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ে প্রবাসীদের অর্থ রয়েছে। এমনও প্রার্থী আছেন, তাঁর ব্যয়ের পুরোটাই আসছে প্রবাস থেকে।
সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে মোট প্রার্থী ২৩ জন। বিএনপির ৫ জন ও জামায়াতে ইসলামীর ৪ জন, বাকিরা অন্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী। সুনামগঞ্জের সব উপজেলাতেই কমবেশি প্রবাসী আছেন। তবে জগন্নাথপুর, শান্তিগঞ্জ ও ছাতক উপজেলায় যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বেশি। জগন্নাথপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মধ্যে বিগত নির্বাচনে পাঁচটিতেই প্রবাসী প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন।
জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে সুনামগঞ্জ-৩ নির্বাচনী এলাকা। এ আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাতজন। চারজনই প্রবাসী—তিনজন যুক্তরাজ্যে, একজন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। এই প্রার্থীদের পক্ষে প্রবাসীরা দেশে এসে মাঠে নেমেছেন। এখনো অনেকে আসছেন।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে ছিলেন। যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিন দফা। তাঁর অনেক আত্মীয়স্বজন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর কয়ছর আহমদ দেশে আসেন।
জগন্নাথপুর ব্রিটিশ-বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মুহিব চৌধুরী আরও কয়েকজন ট্রাস্টিসহ দেশে এসেছেন। কয়ছর আহমদ তাঁদের একজন ট্রাস্টি। গত মঙ্গলবার এলাকায় কয়ছর আহমদকে নিয়ে মতবিনিময় করেন তাঁরা। যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজাতুর রেজা জানালেন, তাঁরা কয়েক শ নেতা-কর্মী দেশে এসে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোট এলে শুধু প্রবাসীরা আসেন এমনটা নয়, যাঁরা প্রার্থী হন, তাঁদের অনেকে প্রবাসে গিয়ে স্বজন-শুভানুধ্যায়ী ও ভোটারদের ‘দোয়া’ নিয়ে আসেন। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আইনজীবী শাহীনুর পাশা চৌধুরীর অনেক আত্মীয়স্বজন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। তফসিল ঘোষণার আগে তিনি যুক্তরাজ্য ঘুরে এসেছেন। তাঁর নির্বাচনী ব্যয়ের বেশির ভাগই দেবেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ছেলে ও ভাইবোন।
শাহীনুর পাশা চৌধুরী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে তাঁর পক্ষে ৩০ জনের বেশি যুক্তরাজ্যপ্রবাসী দেশে এসে ভোটের মাঠে কাজ করছেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি জুমে প্রবাসীদের সঙ্গে সভাও করেছেন। ৭ ফেব্রুয়ারি আরও ১৫ জন আসবেন। নিজেকে ‘হাফ’ প্রবাসী উল্লেখ করে শাহীনুর পাশা বলেন, ‘আমরা সব সময় প্রবাসীদের অধিকার, মর্যাদা রক্ষার কথা বলি। তাঁরা আমাদের আপনজন। শুধু ভোট নয়, মাটি ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার টানেই তাঁরা ছুটে আসেন।’
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমেদও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। যুক্তরাজ্য জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে ছিলেন। তিনি বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। দল অবশ্য তাঁকে বহিষ্কার করেছে। এখানে প্রবাসী প্রার্থী আরও আছেন এবি পার্টির সৈয়দ তালহা আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান খালেদ ও হুসাইন আহমেদ এবং মাহফুজুর রহমান খালেদ।
শুধু সুনামগঞ্জ-৩ আসন নয়, জেলার অন্য আসনগুলোতেও কমবেশি প্রবাসীরা আসছেন। সুনামগঞ্জ-৪ আসনে (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলামের পক্ষে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে এসে প্রচারে যোগ দিয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক জামাল উদ্দিন বাকের। সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই ও শাল্লা) জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির জানিয়েছেন, তাঁর পক্ষে কাজ করতে, তাঁকে ভোট দিতে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক শুভানুধ্যায়ী আসছেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরীর পক্ষে প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী তাহির রায়হান চৌধুরী। সুনামগঞ্জ-৫ আসনে (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) বিএনপির প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আবদুস সালামের নির্বাচনী ব্যয়ে তাঁদের প্রবাসী স্বজনদের অর্থ রয়েছে।
সুনামগঞ্জ-১ আসনে (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী তোফায়েল আহমদ খানের নির্বাচনী ব্যয়ে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও কুয়েতপ্রবাসী স্বজন-শুভানুধ্যায়ীদের অর্থ রয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক এম এ কাদির নিজেও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। ভোট সামনে রেখে দেশে এসেছেন। এম এ কাদির বলেন, প্রবাসীরা তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও সেবামূলক কাজে ব্যয় করেন, তাই এলাকার মানুষ তাঁদের পছন্দ করেন। ভোটে তাঁদের একটা প্রভাব থাকে। তাঁরা প্রার্থী হন, ভোটের মাঠে কাজ করেন। ভোটকে উৎসবে রূপ দেন।