
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন। ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয় তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৫০। সংবিধান অনুসারে, জাতীয় সংসদে দলগুলোর সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংখ্যার অনুপাতে নারী আসন বণ্টন করা হয়। বিএনপির মনোনয়নে এবার ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হয়েছেন। গত ৩০ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের গেজেট হয়। আর ৩ মে তাঁরা শপথ নেন। এ হিসাবে পাঁচ মাসের মধ্যে সংসদ সদস্য পদ ছাড়লেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান গতকাল বুধবার রাতে ফেরদৌসীকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দল থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এরপর আজ বেলা পৌনে দুইটার দিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তখনই আলোচনায় আসে যে তিনি পদত্যাগ করেছেন।
তবে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে ফেরদৌসী আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে স্পিকার ডেকেছেন, তাঁর সঙ্গে দেখা করেছি।’ পদত্যাগের প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, তদন্ত হোক। পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপির সিদ্ধান্ত যেটা হবে, তা হবে।’
এদিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিকেলে সংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে তাঁর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।
বিএনপি ও সরকারের সূত্রগুলোর ভাষ্য, রাড্ডার ঘটনা নিয়ে সরকারও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দুই দিন ধরে ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। হামলা ও ভাঙচুরে কারা জড়িত ছিলেন, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং নেপথ্যে কারা ভূমিকা রেখেছেন, এসব বিষয়ে তথ্য নিয়েছেন। তদন্তে ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্র প্রথম আলোকে বলেছে, রাড্ডার ঘটনাটিকে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া, লুটপাট ও জমি দখলের অভিযোগের সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের নাম আসায় বিষয়টি নিয়ে সরকার বিব্রত। ঘটনার সঙ্গে ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসার পর তাঁর ভূমিকা ও রাজনৈতিক দায়ও আলোচনায় এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংসদ সদস্যের বিষয়েও কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের নেপথ্যে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের ভূমিকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়া এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা অন্যতম। তাঁরা ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর আলোচনায় আসা ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর কার্যক্রমেও স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন যুক্ত বলে তথ্য পাওয়া গেছে । ফেরদৌসী আহমেদ ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন। তখন ওই সমিতির নামে রাড্ডা সেন্টারের জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়ার জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে যে আবেদন করা হয়েছে, তাতে সভাপতি হিসেবে সই করেছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ।