ব্রিফিংয়ে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল। হাইকোর্ট বিভাগের বর্ধিত ভবনের সামনে, ১৩ জুলাই ২০২৫
ব্রিফিংয়ে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল। হাইকোর্ট বিভাগের বর্ধিত ভবনের সামনে, ১৩ জুলাই ২০২৫

গণ-অভ্যুত্থানের পর দু-একটা রাজনৈতিক দল বিএনপিকে ‘টার্গেট’ করেছে: কায়সার কামাল

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দু-একটা রাজনৈতিক দল বিএনপিকে ‘টার্গেট’ (নিশানা) করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, ‘বিনয়ের সঙ্গে বলব, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও শিষ্টাচার বজায় রেখে যেন অন্যান্য রাজনৈতিক দল, যারা পার্টিকুলারলি (বিশেষত) এক-দুইটা রাজনৈতিক দল, যারা বিএনপিকে টার্গেট করে কথা বলছে, তারা যেন এসব কথা থেকে বিরত থাকে।’

হাইকোর্ট বিভাগের বর্ধিত ভবনের সামনে আজ রোববার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে কায়সার কামাল এ কথা বলেন। ব্যবসায়ী লাল চাঁদ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে পত্রিকাটির সম্পাদক বরাবর আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাঁচ দিনের মধ্যে তাঁকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে।

আরেকটি বিষয় অত্যন্ত বেদনার ও দুঃখের উল্লেখ করে কায়সার কামাল বলেন, ‘এই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দু-একটা রাজনৈতিক দল আছে, তারা বিএনপিকে টার্গেট করেছে। শেখ হাসিনার নির্দেশে যেমন টার্গেট কিলিং হয়েছিল, ঠিক তেমনিভাবে এখনো একটা বিশেষ রাজনৈতিক দল যারা স্বাধীনতার যুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের কতিপয় নেতৃবৃন্দ মনে হচ্ছে তাদের কথায় বিএনপিকে টার্গেট করছে বা টার্গেট করেছে।’

কায়সার কামাল বলেন, ‘কালকে (গতকাল) এক নেতা বক্তব্য দিচ্ছিলেন, আমি শুনছিলাম যে দল হিসেবে নাকি বিএনপির পতন চায়। সে নেতার এইটুকু কি মাথায় ঢুকল না, বিএনপির পতন চান উনি দল হিসেবে? সরকারের পতন হতে পারে, রাজনৈতিক দলের পতন হয় কীভাবে? তা ছাড়া বিএনপি তো এভাবে আসেনি, এ দেশে যিনি স্বাধীনতাসংগ্রামে, মুক্তিযুদ্ধে যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, সেই নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল। এই দেশে যিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছেন, সংসদীয় গণতন্ত্র কায়েম করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল। গত ১৭ বছর যিনি রাত-দিন পরিশ্রম করে ছাত্র-জনতাকে নেতৃত্ব দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে বিদায় করেছেন, এই দল হচ্ছে তারেক রহমানের দল।’

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল বলেন, ‘যদি দেশের মানুষের প্রতি আস্থা থাকে, যদি গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা থাকে, যদি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রতি আস্থা থাকে, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টার্গেট প্রোপাগান্ডা থেকে বিরত থেকে জনগণের কাছে যান, নির্বাচন করুন। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যদি আপনাদের ম্যান্ডেট দেন, তাহলে আপনারা আপনাদের জায়গায় যাবেন। অন্যথায় রাজনৈতিক শিষ্টাচার এবং সহনশীলতা বজায় রাখবেন, এই প্রত্যাশা দেশের মানুষ করে।’

আইনজীবী কায়সার কামাল জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব। ব্রিফিংয়ে ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম ও সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সদস্যসচিব গাজী তৌহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ের শুরুতে আইনজীবী কায়সার কামাল বলেন, ‘গত বুধবার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বিএনপিসহ দেশের প্রতিটি মানুষ এর নিন্দা জানিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অতিদ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলো, যুগান্তর পত্রিকা সরাসরি বিএনপিকে জড়িয়ে একটি সংবাদ করেছে। অথচ পুলিশ-প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বরাবরই বলে আসছে, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। কিন্তু যুগান্তরের প্রতিবেদনে এসেছে, বিএনপির চাঁদাবাজির জন্য এই ঘটনা ঘটেছে।…রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে যে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে, এর নিন্দা জানিয়েছি। পাশাপাশি সম্পাদককে নোটিশ দিয়েছি, আগামী ৫ দিনের মধ্যে যদি উনি পাবলিকলি ক্ষমা না চান, যে জায়গায় ওই রিপোর্টটি ছাপানো হয়েছে, সেই একই জায়গায় ক্ষমা চাইতে হবে।’