অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান
অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান

ডাকসু নির্বাচন

বাধাবিপত্তি আসছে ও আসবে, তবে পরিস্থিতি ভালো: উপাচার্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বহুমুখী বাধাবিপত্তি আসছে ও আসবে। তবে পরিস্থিতি নিয়ে যতটুকু শঙ্কা ছিল, তার চেয়ে অবস্থা ভালো আছে। আজ সোমবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান।

অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন একটা চ্যালেঞ্জিং প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে আমাদের রাখঢাক নেই। এখানে বহুমুখী বাধাবিপত্তি আসছে এবং আসবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা পরিস্থিতি নিয়ে যতটুকু শঙ্কায় ছিলাম, তার চেয়ে অবস্থা ভালো আছে। আমরা আমাদের অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে একতাবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছি।’

উপাচার্য বলেন, ‘আজকে মহামান্য আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী বলছেন যে এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের মাধ্যমে হয়েছে। আমি একটা কথা পরিষ্কার করে দিতে চাই, এ ধরনের অবান্তর, হালকা কথাবার্তা বললে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি হয়। আমাদের এই মুহূর্তে ঐক্য ধরে রাখা দরকার। পরস্পর কাদা–ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে আমাদের মূল জায়গায় ফোকাস রাখতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘এটা ছাত্রদের দাবি। তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতন্ত্রচর্চাকে সামনে রেখে এ আয়োজনের দিকে এসেছি। আমরা খুব কাছাকাছি সময়ে চলে এসেছি। এই পরিস্থিতিতে ধৈর্যের সঙ্গে মাথা ঠান্ডা রেখে যাবতীয় বাধাবিপত্তি মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কাঠামো দুর্বল উল্লেখ করে উপাচার্য বলেছেন, ‘এত বড় প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু আমাদের আইনি কাঠামো এখনো খুবই দুর্বল অবস্থায় আছে। আমাদের মাত্র একজন আইন উপদেষ্টা আছেন। তাঁর সঙ্গে দুইজন সহকারী রেজিস্ট্রার এবং একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রার আছেন। সেই বিবেচনায় আমাদের আইন উপদেষ্টা দপ্তরের সহযোগিতায় সিন্ডিকেট থেকে পাস করা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১২ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ আইনজীবী প্যানেল তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা আইনগত ‍দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।’

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মামলা পরিচালনায় আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কয়েকটি প্যানেল। এ বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ সদস্যের বিশেষজ্ঞ আইনজীবী প্যানেলের একজন আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন শিশির মনির। প্যানেলে আরও অনেক আইনজ্ঞ আছেন। মামলার ন্যাচার (ধরন) ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে আমরা তাঁদেরকে নির্বাচিত করি। এ ছাড়া এ বিষয়ে আমাদের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি আছে, যাদের মাধ্যমে এ আইনি প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।’

উল্লেখ্য, ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেলের জিএস (সাধারণ সম্পাদক) প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতকাল রোববার হাইকোর্টে রিট করেন তিন বাম ছাত্রসংগঠন সমর্থিত ‘অপরাজেয় ৭১, অদম্য ২৪’ প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক প্রার্থী বি এম ফাহমিদা আলম।

ওই রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট আজ ডাকসুর নির্বাচনপ্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকার কার্যক্রম আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছিলেন। পরে হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে আদেশ দেন।