নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না

বগুড়ায় বাতিল হলেও ঢাকায় বৈধতা পেল মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র

বিএনপির কাছে ছাড় পাওয়া বগুড়া–২ আসনের পাশাপাশি ঢাকা–১৮ আসনেও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বগুড়ায় যাচাই–বাছাইয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও এক দিন পর ঢাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তার ভিন্ন সিদ্ধান্ত এল।

আজ শনিবার ঢাকা–১৮ আসনে যাচাই–বাছাইয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর মাহমুদুর রহমান রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের জন্য নির্বাচন কমিশনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আল্লাহর কাছে হাজার শোকর আদায় করছি। এর আগে আমি একাধিকবার নির্বাচন করেছি, কিন্তু এমন কঠিন পরিস্থিতি কখনো দেখিনি। এবার প্রার্থী হতে গিয়ে আমাকে অত্যন্ত কষ্টকর একটি পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।’

মাহমুদুর রহমান রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ৩ জানুয়ারি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের পর এখন তা যাচাই–বাছাই চলছে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে। গতকাল শুক্রবার বগুড়ায় যাচাই শেষে মাহমুদুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, তাঁর হলফনামায় নানা অসংগতি রয়েছে। তিনি হলফনামায় ফৌজদারি মামলার কোনো তথ্য দেননি। সম্পদ বিবরণীর ফরম দাখিল করেননি।

বগুড়ার রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ মাহমুদুর রহমান আজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেসব যুক্তিতে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, সেগুলো আইনগতভাবে খুবই তুচ্ছ। কোথাও তারিখ লেখার ভুল, কোথাও তথ্য দুই জায়গায় না লেখা—এ ধরনের বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। আইন অনুযায়ী এসব ক্ষেত্রে সংশোধনের সুযোগ থাকে।’

এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা দেওয়া হয়নি অভিযোগ করে মান্না বলেন, বগুড়ায় তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের প্রক্রিয়াটি ছিল ‘অত্যন্ত হতাশাজনক ও অস্বাভাবিক’। তাঁর ভাষ্য, ওই আসনে প্রার্থিতা যাচাইয়ের সময় একটি দলের পক্ষে একাধিক আইনজীবী একযোগে উপস্থিত হয়ে চাপ সৃষ্টি করেন। এমনকি যুক্তি উপস্থাপনকারী তাঁর পক্ষের আইনজীবীদের ধমকও দেওয়া হয়।

তবে ঢাকায় মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হওয়ায় এখানকার রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানান মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি চাপ সৃষ্টি করে নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করা যায়, তাহলে সেই নির্বাচনের কোনো মানে থাকে না। এত শহীদের আত্মত্যাগ, এত বড় আন্দোলনের কোনো মূল্য তখন আর থাকে না।

কোন আসনে থাকবেন

ডাকসুর দুবারের ভিপি, আওয়ামী লীগের একসময়ের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া–২ (শিবগঞ্জ) আসনে এর আগেও সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু কখনো ভোটে জিতে সংসদে যাওয়া হয়নি তাঁর। এবার আসন সমঝোতায় তাঁকে বগুড়া–২ আসনটি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা এরই মধ্যে দিয়েছে বিএনপি।

বগুড়ার পাশাপাশি ঢাকার আসনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ঢাকা-১৮ আসনে তাঁর প্রার্থিতা দাখিল নিজস্ব সিদ্ধান্তে করা। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তিনি উভয় আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

রাজধানীর উত্তরা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা–১৮ আসনে বিএনপির নিজস্ব প্রার্থী রয়েছে। তিনি হলেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আশরাফুল হক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আরিফুল ইসলাম প্রার্থী।

ঢাকায় মনোনয়নপত্র টিকলেও মাহমুদুর রহমান বগুড়ার আসনে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আশা করছেন। মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আপিলে আমি জয়ী হতে পারব।’

‘আমি কোনো অধৈর্যতা দেখাচ্ছি না, কারও বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগও করছি না। তবে আবেদন জানাচ্ছি, নির্বাচনের পবিত্রতা যেন ক্ষুণ্ন না হয়,’ বলেন তিনি।