হত্যা ও গুমের ঘটনা তদন্তে জাতিসংঘের ভূমিকা চায় গণ অধিকার পরিষদ

গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক নুর
ফাইল ছবি: প্রথম আলো

দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম-খুনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে জাতিসংঘের ভূমিকা চায় গণ অধিকার পরিষদ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেতের নেতৃত্বে জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে গণ অধিকার পরিষদের নেতারা এ আহ্বান জানান। বুধবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গণ অধিকার পরিষদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান সরকারের শাসনামলে ১৩ বছরে বাংলাদেশে ছয় শতাধিক মানুষ গুম ও তিন হাজারের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এসব গুম ও হত্যাকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত হলেও আজ অবধি কোনো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। বরং সরকারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এসব মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সমর্থনে সুস্পষ্ট বক্তব্য এসেছে, যা তাদের আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।

জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলকে গণ অধিকার পরিষদ বলেছে, আদালতকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রতিষ্ঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তুলে দিয়ে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের মতো বিনা ভোট ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন করে সরকার দেশের বর্তমান এই সংকট তৈরি করেছে। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছাড়া আগামী নির্বাচন হলে তা দেশে সংঘাত-সহিংসতা বাড়াবে, মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটাবে। এ ক্ষেত্রে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনে জাতিসংঘও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জবাবদিহি না থাকায় সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে বেআইনি এমনকি মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড করাচ্ছে। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক নাগরিকদের নির্যাতন, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ অশনিসংকেত।

গণ অধিকার পরিষদ বলেছে, অনলাইন নিউজ পোর্টাল নেত্র নিউজে ১২ আগস্ট প্রকাশিত তথ্যচিত্র ‘আয়নাঘরের বন্দী’তে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক গুম করে আটকে রাখা এবং নির্যাতনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শুধু আয়নাঘরের বন্দী নয়, এ সরকারের শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গত ১৩ বছরে সংঘটিত সকল গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্ত চায় তারা।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে গণ অধিকার পরিষদের নেতারা বৈঠক করেন। বৈঠকে গণ অধিকার পরিষদের প্রতিনিধিদলে ছিলেন এর সদস্যসচিব নুরুল হক নুর এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাশেদ খান ও ফারুক হাসান।