জনসংযোগের সময় কাউকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া ‘ঝামেলা’ মনে করেন ঢাকা-৫ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মো. সাইফুল আলম। তাঁর মতে, সঙ্গে কেউ থাকলে ঝামেলা হয়, ভোটাররাও বিরক্ত হন। মানুষ মনে করেন, যাঁর সঙ্গে ‘চামচারা’ থাকেন না, এমন ব্যক্তি সংসদ সদস্য হলে তাঁদের জন্য ভালো হবে।
ডাব প্রতীকে নির্বাচন করা এই প্রার্থী বললেন, তাঁর নির্বাচনী প্রচার অন্যদের চেয়ে আলাদা। জনসংযোগের সময় তিনি একাই হাঁটেন। মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, লিফলেট বিলি করেন। মানুষ তাঁকে দেখে সেলফি তোলে, চা খাওয়ায়।
প্রার্থী সাইফুল আলম পেশায় আইনজীবী। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সকালে আইন পেশায় সময় দেন। ভোট যা–ই পাবেন, তাতেই সন্তুষ্ট থাকবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটে জিততে না পারলেও মানুষকে বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি। যে কারণে যেখানেই যাচ্ছেন, মানুষ তাঁর মুঠোফোন নম্বর রাখছেন।
ঢাকা-৫ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মো. সাইফুল আলমের মতে, সঙ্গে কেউ থাকলে ঝামেলা হয়, ভোটাররাও বিরক্ত হন। মানুষ মনে করেন, যাঁর সঙ্গে ‘চামচারা’ থাকেন না, এমন ব্যক্তি সংসদ সদস্য হলে তাঁদের জন্য ভালো হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানার ১২টি ওয়ার্ড নিয়ে ঢাকা-৫ আসন। এখানে ভোটার ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬ জন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন বিএনপির প্রার্থী মো. নবী উল্লা। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। ভোটের প্রচারে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় এগিয়ে আছেন তিনি। তবে পিছিয়ে নেই এই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. কামাল হোসেনও।
১-৩ ফেব্রুয়ারি এই আসনের সায়েদাবাদ, ব্রাহ্মণচিরণ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক রোড, উত্তর যাত্রাবাড়ীর বিবির বাগিচা, দক্ষিণ কাজলা, ছনটেক, শেখদী, গোবিন্দপুর, কাজলার পাড়, ভাঙ্গাপ্রেস, মৃধাবাড়ী, মাতুয়াইল মাদ্রাসা বাজার, মাতুয়াইল পশ্চিমপাড়া, মাতুয়াইল উত্তরপাড়া, মাতুয়াইল শরীফপাড়া, কোনাপাড়া, ধার্মিকপাড়া, রায়েরবাগ, ডগাইর, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা বাজার, মীরপাড়া ও পাইটি এলাকা ঘুরে দেখেন এই প্রতিবেদক। বেশির ভাগ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর ব্যানার–ফেস্টুন ও বিলবোর্ড রয়েছে। কিছু জায়গায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. ইবরাহীমের হাতপাখা প্রতীকের ব্যানার–ফেস্টুন দেখা গেছে।
যাত্রাবাড়ী মোড়, শনির আখড়া, কাজলা, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের মতো কিছু জায়গায় এই আসনের অন্য প্রার্থীদেরও কিছু ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড চোখে পড়েছে।
এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন বিএনপির প্রার্থী মো. নবী উল্লা। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। ভোটের প্রচারে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় এগিয়ে আছেন তিনি। তবে পিছিয়ে নেই এই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. কামাল হোসেনও।
নির্বাচনী প্রচারের বিষয়ে গণ অধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রচারণার ক্ষেত্রে আমি ছিলাম দ্বিতীয়। ট্রাক মার্কার জোয়ার তুলে ফেলেছিলাম। বড় অঙ্কের টাকাও খরচ করেছি। তবে বিএনপির সঙ্গে দলের সমঝোতা হওয়ায় সেখান থেকে সরে আসতে হয়েছে। দল এককভাবে নির্বাচন করলে আমি কনফার্ম এমপি হতাম।’
মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার পরও গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থীরা কেন মাঠে আছে, তা নিয়ে অনেক মানুষ প্রশ্ন তোলা শুরু করেছেন। সমঝোতার আলোচনা সামনে আসার পর মাঠে আগের সেই অবস্থানেও কিছুটা ভাটা পড়েছে। তাই তিনি এখন আর সরাসরি প্রচারণায় নেই।
নির্বাচন থেকে তিনি সরে আসায় অনেক মানুষ এখন আফসোস করছেন বলেও দাবি করেন সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
যাত্রাবাড়ী মোড় এলাকায় সিপিবির কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফার কয়েকটি ব্যানার দেখা গেছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বাজেট কম থাকায় বড় দলগুলোর মতো নির্বাচনী প্রচারসামগ্রী কিনতে পারছেন না। তাই লিফলেট বিলি করছেন।
ভাঙ্গাপ্রেস এলাকায় জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মীর আবদুস সবুরের কিছু ব্যানার চোখে পড়ে। তিনি গত মঙ্গলবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, শুরুর দিকে প্রচার চালাতে গিয়ে কিছুটা বাধার মুখে পড়েছিলেন।
প্রচারণার ক্ষেত্রে আমি ছিলাম দ্বিতীয়। ট্রাক মার্কার জোয়ার তুলে ফেলেছিলাম। বড় অঙ্কের টাকাও খরচ করেছি। তবে বিএনপির সঙ্গে দলের সমঝোতা হওয়ায় সেখান থেকে সরে আসতে হয়েছে। দল এককভাবে নির্বাচন করলে আমি কনফার্ম এমপি হতাম।গণ অধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম
এই আসনের অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. তাইফুর রহমান (ছড়ি প্রতীক), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মো. হুমায়ুন কবির (ছাতা), বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. গোলাম আজম (আনারস) ও বাসদ মার্ক্সবাদীর শাহিনুর আক্তার (কাঁচি)।
ঢাকা-৫ সংসদীয় আসনের আওতাধীন মাতুয়াইল মাদ্রাসা বাজার এলাকায় পদচারী–সেতুতে শাহিনুর আক্তারের কাঁচি প্রতীকের দুটি ব্যানার রয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কারও কাছ থেকে টাকা নিই না। সে কারণে ব্যানার-ফেস্টুন কম।’