জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির বৈঠক হয়। ২ নভেম্বর
জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির বৈঠক হয়। ২ নভেম্বর

ঢাকা থেকে আন্তর্জাতিক রুটে উড়োজাহাজ ভাড়া বেশি কেন, সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন

ঢাকা থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে উড়োজাহাজের ভাড়া তুলনামূলক বেশি কেন, তা জানতে চেয়েছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি। ভাড়া নির্ধারণের নীতিমালা করা যায় কি না, তা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে দেখার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেড এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, পরিচালন কার্যক্রম ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, কুয়ালালামপুর থেকে ম্যানিলার দূরত্ব যতটুকু ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরের দূরত্ব প্রায় সমান; কিন্তু উড়োজাহাজের ভাড়ার ক্ষেত্রে দেখা যায়, ঢাকা–কুয়ালালামপুরের টিকিটের দাম কুয়ালালামপুর–ম্যানিলার টিকিটের দামের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। এই তারতম্যের কারণ কী, ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা আছে কি না, তা কমিটি জানতে চায়।

জবাবে বলা হয়, আন্তর্জাতিক গন্তব্যে উড়োজাহাজের ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে বেবিচকের নীতিমালা নেই। এয়ারলাইন কোম্পানিগুলো ভাড়া নির্ধারণ করে থাকে। তখন কমিটির পক্ষ থেকে ভাড়া নির্ধারণের নীতিমালা করা যায় কি না, তা দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, বৈঠকে বিমানের নিরীক্ষা আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, ১৮টি আপত্তির বিপরীতে প্রমাণসহ সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা দিতে পারবে কি না; ত্রুটিযুক্ত উড়োজাহাজ, অচল যন্ত্রপাতি, অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ক্রয় ও পুরোনো উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি না; এবং জানতে চায় ঢাকা–গুয়াংজু–ঢাকা রুটে চার্টার্ড কার্গো ফ্লাইট ও রাজস্ব আদায়ে ৭৩৬ কোটি টাকার অনিয়ম কীভাবে হয়েছে?

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে উত্থাপিত নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে মোট কত টাকা আদায় হয়েছে, কত টাকা অনাদায়ি রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কতজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। প্রতিটি নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে প্রমাণসহ সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপনের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। উত্থাপিত বিষয়গুলোর বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় তথ্য পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য বিমান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজ বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হওয়ার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়সংক্রান্ত অনিয়মের দায় নির্ধারণ এবং আইটি সিস্টেমের দুর্বলতার কারণে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির বিষয়েও আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিমানের পক্ষ থেকে বলা হয় সব সময় বহরের আধুনিক উড়োজাহাজ প্রধানমন্ত্রীর ভ্রমণের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে এর আগের এক মাসের ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ করা হয় কোনো ধরনের ত্রুটি আছে কি না। এবারের কারিগরি ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জের লিফট, সেবা ও পরিবেশ নিয়ে কমিটির সদস্যদের কেউ কেউ অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একজন সদস্য বৈঠকে বলেন, অনলাইনে দেখা যায়, বাংলাদেশ বিমানের টিকিট নেই; কিন্তু বিমানে ওঠার পর দেখা যায়, অনেক সিট ফাঁকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে বিমানের পক্ষ থেকে সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়। সেখানে বিমানের ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ার কিছু কারণ তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক চেক-ইন কাউন্টার পর্যাপ্ত না হওয়ায় সময়মতো কাউন্টার বন্ধ হয় না। এতে ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। একই গেটে একাধিক ফ্লাইট দেওয়া হয়, বোর্ডিং ব্রিজের স্বল্পতা আছে। ডিপারচার ব্যাগেজ এরিয়ায় জায়গার স্বল্পতা আছে, আগমনী বেল্টও কম। অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে মাত্র চারটি চেক-ইন কাউন্টার আছে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। কমিটির সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে অংশ নেন হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন।