
দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদ ও মজলিশে আমেলা পুনর্গঠন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনের একটি হোটেলে দলের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সভায় দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে এই পরিবর্তন আনা হয়।
ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) নবগঠিত কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।
নতুন কমিটির মহাসচিব হয়েছেন গাজী আতাউর রহমান। তিনি এর আগে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। বর্তমান মহাসচিব ইউনুছ আহমাদকে নতুন কমিটিতে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের ১১ সদস্যের নতুন প্রেসিডিয়াম সদস্যরা হলেন সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম, আবদুল আউয়াল, আবদুল হক আজাদ, ইউনুছ আহমাদ, মো. গিয়াসউদ্দিন খান, আশরাফ আলী আকন, নেয়ামতুল্লাহ আল ফরিদী, মাহবুবুর রহমান ও গাজী আতাউর রহমান।
১৪ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা হলেন ওমর ফারুক সন্দ্বীপী, মিজানুর রহমান সাঈদ, আ ফ ম খালিদ হোসেন (সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা), মোশতাক আহমাদ, ওবায়দুর রহমান খান, মুহাম্মদ জহুরুল হক, শেখ আতিয়ার রহমান, আক্কাস আলী সরকার, আবদুল মতিন, সৈয়দ আলী মোস্তফা, এ কে এম এরফান খান, আবদুল কাদের (মেহেরপুর), লুৎফর রহমান এবং ফরিদ উদ্দিন আল মোবারক।
এ ছাড়া অধিবেশনে তিনজন নায়েবে আমির, চারজন যুগ্ম মহাসচিব, চারজন সহকারী মহাসচিবসহ ৪৮ সদস্যের মজলিশে আমেলা বা কর্মপরিষদ গঠন করা হয়।
আমির পদে চরমোনাই পীর বহাল থাকছেন। নায়েবে আমিররা হলেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম, মাওলানা আবদুল আউয়াল ও মাওলানা আবদুল হক আজাদ।
যুগ্ম মহাসচিবেরা হলেন আশরাফুল আলম, শেখ ফজলে বারী মাসউদ, শাহ ইফতেখার তারিক ও মাওলানা নেছার উদ্দিন।
সহকারী মহাসচিব হিসেবে মাওলানা সৈয়দ এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের, মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান ও শেখ ফজলুল করীম মারুফের নাম ঘোষণা করা হয়।
সদস্য হিসেবে যাঁদের নাম ঘোষণা করা হয়, তাঁরা হলেন মাহমুদুল হোসাইন ওয়ালী উল্লাহ (সংসদ সদস্য), মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, হারুন অর রশীদ, মাওলানা নুরুল করীম আকরাম, শেখ আবু তাহের, মুফতি কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, শওকত আলী হাওলাদার, মাওলানা মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন, আবদুর রহমান, আতিকুর রহমান মুজাহিদ, মুফতি হেমায়েতুল্লাহ কাসেমী, বেলাল নূর আজীজি, মাওলানা মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, মুফতি দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, শেখ মুহাম্মদ নুরুন নাবী, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, কে এম শরীয়তুল্লাহ, মুহাম্মদ বরকতুল্লাহ লতিফ, নাছির উদ্দিন খাঁন, মুফতি মানসুর আহমাদ সাকী, মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মুফতি রেজাউল করীম আববার, মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী, মুহাম্মদ আল ইকবাল, মুহাম্মদ সেলিম মাহমুদ, মাওলানা আলমগীর হোসাইন তালুকদার, কে এম বেলাল হোসাইন, মাওলানা শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, মুহাম্মদ আব্দুজ জলিল, মুহাম্মদ আল-আমীন (ঠাকুরগাঁও), শেখ মারুফ এবং এম এম কামাল হোসাইন (ভোলা)।
ইসলামী আন্দোলনের বর্তমান মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া অধিবেশনে বিগত সেশনের সামগ্রিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ। সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক, রাজনৈতিক প্রতিবেদন পেশ করেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হতে প্রায় ছয় মাস বাকি ছিল। তবে এর আগেই কমিটি ভেঙে মহাসচিবসহ শীর্ষস্থানীয় পদগুলোয় রদবদল আনা হলো।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দলীয় পর্যালোচনা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলের কেন্দ্রীয় কমিটির এই আগাম পুনর্গঠনের পথে হাঁটা।
দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর। এর আগে শেষ ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রেসিডিয়াম, উপদেষ্টা পরিষদ ও মজলিশে আমেলা পুনর্গঠন করা হয়েছিল। তবে দলের গঠনতন্ত্রের ১১ ধারায় আমিরকে নির্ধারিত সময়ের আগেই কমিটি পুনর্গঠনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।