মো. আসাদুজ্জামান
মো. আসাদুজ্জামান

আইনাঙ্গনের আসাদুজ্জামান আইনেরই দায়িত্বে

জুলাই অভ্যুত্থানের পর অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পেয়েছিলেন মো. আসাদুজ্জামান, এরপর ভোটের লড়াইয়ে নেমে হন সংসদ সদস্য। প্রথমবার আইনপ্রণেতা হয়েই মন্ত্রী হলেন এই আইনজীবী।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার নতুন সরকার গঠন করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর মন্ত্রিসভায় আসাদুজ্জামান পেয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসাদুজ্জামানের জন্ম ১৯৭১ সালের ৩১ জানুয়ারি ঝিনাইদহের শৈলকুপার বারইপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবা শেখ মো. ইসরাইল হোসেন মাস্টার এবং মা মোছা. রোকেয়া খাতুন। যশোর বোর্ডের অধীন গাড়াগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে মাধ্যমিক এবং শৈলকুপা ডিগ্রি কলেজ থেকে ১৯৮৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন আসাদুজ্জামান। এরপর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আইন বিষয়ে ১৯৯৩ সালে স্নাতক ও ১৯৯৪ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন তিনি।

অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সাংবাদিকদের সামনে মো. আসাদুজ্জামান

আসাদুজ্জামানের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা স্কুলজীবনেই। অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালে ১৯৯২ সালে জাসদ ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৯৪ সালে তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হন। পরে আর জাসদে যুক্ত ছিলেন না তিনি।

আসাদুজ্জামান বিএনপিতে যুক্ত হন ২০০৪ সালে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন তিনি। দলটির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আওয়ামী লীগ শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে গুম, খুন ও গায়েবি মামলাসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার ছিলেন তিনি। এ ছাড়া মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (২০০০ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত) ছিলেন তিনি।   

শিক্ষাজীবন শেষে আসাদুজ্জামান আইন পেশায় সক্রিয় হন। ১৯৯৫ সালে তিনি কাজ শুরু করেছিলেন আইনজীবী নিজামুল হক নাসিমের (পরবর্তী সময়ে বিচারপতি) সঙ্গে। পরে ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের চেম্বারে কাজ করেন তিনি। ১৯৯৬ সালে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন আসাদুজ্জামান। ২০০৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দেশের সপ্তদশ অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান আসাদুজ্জামান। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ ছাড়েন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু ছালেহ মো. মতিউর রহমানের চেয়ে এক লাখ ১৬ হাজার ২১ ভোট বেশি পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আসাদুজ্জামানের স্ত্রী শিরীন সুলতানা শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। এই দম্পতির দুই সন্তান। নির্বাচনী হলফনামায় আসাদুজ্জামান গত অর্থবছরে তাঁর বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৭ টাকা। হলফনামা অনুযায়ী তাঁর ৯ কোটি ৮৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫৬ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৪ হাজার ৫৬৮ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।