বাংলাদেশ গৃহশ্রমিক ইউনিয়নের সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। পুরানা পল্টন, ঢাকা। ১ মে ২০২৬
বাংলাদেশ গৃহশ্রমিক ইউনিয়নের সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। পুরানা পল্টন, ঢাকা। ১ মে ২০২৬

জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ও শ্রমিকদের মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করুন: রুহিন হোসেন

অবিলম্বে শ্রমিকদের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকসহ দেশের কৃষক-খেতমজুরদের বেঁচে থাকার অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন (প্রিন্স)।

মহান আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস (মে দিবস) উপলক্ষে আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহিন হোসেন এ আহ্বান জানান। ‘বাংলাদেশ গৃহশ্রমিক ইউনিয়ন’ কেন্দ্রীয় কমিটি এ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে।

সমাবেশে সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন বলেন, দেশে ও প্রবাসে কর্মরত গৃহশ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। গৃহশ্রমিকদের জন্য প্রণীত ১১ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

দেশের শ্রমিকদের প্রধান লড়াই হলো কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকের স্বীকৃতি পাওয়া—এমন মন্তব্য করে সিপিবির এই নেতা আরও বলেন, কাগজে-কলমে শ্রমিকের স্বীকৃতি থাকলেও শ্রম আইনের বিবেচনায় যেসব অধিকারের স্বীকৃতি থাকার কথা, তা নেই।

মহান মে দিবস উপলক্ষে সমাবেশ করে বাংলাদেশ গৃহশ্রমিক ইউনিয়ন। পুরানা পল্টন, ঢাকা। ১ মে ২০২৬

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিপিবির ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক লুনা নুর। রবিউল ইসলামের (রবি) সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গৃহশ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ময়না আক্তার, সাধারণ সম্পাদক আফরোজ আক্তার, কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য শাখারভ হোসেন সেবক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সালমা আক্তার।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, গৃহশ্রমিকেরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও তাঁরা এখনো যথাযথ স্বীকৃতি ও সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত। তাই তাঁদের শ্রমের মূল্যায়ন, আইনি সুরক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার পুরানা পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা শ্রমিক ঐক্য গড়ে তোলা এবং অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্লোগান দেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখা এবং আগামী দিনে বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণা দেন নেতারা।