ইতিহাসের পাতায় ১৩ রমজান জেরুসালেম ‘সনদ' ঘোষণার দিন। একই দিনে আন্দালুসের ইউসুফ ইবনে তাশফিনের বিজয় সংঘটিত হয়, আবার এই দিনে অটোমান সুলতান প্রথম মুরাদ শহীদ হন।
১৫ হিজরির ১৩ রমজান (৬৩৬ খ্রিষ্টাব্দ) দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.) বিজয়ী বেশে জেরুসালেমের বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করেন। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭/৫৫, ১৯৮৮)
খ্রিষ্টান ধর্মগুরু প্যাট্রিয়ার্ক সোফ্রোনিয়াসের হাতে গির্জার চাবি হস্তান্তর করেন হজরত ওমর; যা ইতিহাসে ‘ওমরের আমানত’ বলে খ্যাত। এই দনি তিনি জেরুসালেম চুক্তি বা সনদ ঘোষণা করেন। এতে অমুসলিমদের জান-মাল ও গির্জার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।
ইতিহাসবিদরা উল্লেখ করেন, ওমর (রা.) চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকারের ভেতর নামাজ পড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন এই ভয়ে যে পাছে ভবিষ্যতে মুসলমানরা একে মসজিদে রূপান্তর করে ফেলে। (জালালুদ্দিন সুয়ুতি, তারিখুল খুলাফা, পৃষ্ঠা: ১২৮, ২০০৪)
৪৮০ হিজরির ১৩ রমজান (১০৮৭ খ্রিষ্টাব্দ) সেনাপতি ইউসুফ ইবনে তাশফিনের নেতৃত্বে মুরাবিতুন ও আন্দালুসীয় বাহিনী কাস্টিলরাজ ষষ্ঠ আলফঁসোকে পরাজিত করেন। (ইবনে আসির, আল-কামিল ফিত তারিখ, ৯/১২০, ১৯৮৭)
এই ‘যাল্লাকা যুদ্ধ’ মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় এবং এর ফলে আন্দালুসের পতন আরও অন্তত ২৫০ বছর পিছিয়ে যায়।
৭৯১ হিজরির ১৩ রমজান (১৩৮৯ খ্রিষ্টাব্দ) অটোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাসে এক শোকাবহ ও গৌরবোজ্জ্বল দিন। ঐতিহাসিক ‘কসোভো যুদ্ধে’ সার্বিয়া ও বলকান জোটের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর সুলতান প্রথম মুরাদ রণক্ষেত্র পরিদর্শনকালে এক সার্বীয় সৈন্যের হাতে শহীদ হন। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৪/২১০, ১৯৮৮)
তিনি ছিলেন ইতিহাসের একমাত্র অটোমান সুলতান যিনি সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে শহীদ হন। তাঁর এই আত্মত্যাগ বলকান অঞ্চলে ইসলামের শেকড়কে আরও মজবুত করে এবং অটোমান রাষ্ট্রকে একটি বিশ্বসাম্রাজ্যে রূপান্তরের পথে এগিয়ে নেয়।
১২৬৫ হিজরির ১৩ রমজান (১৮৪৯ খ্রিষ্টাব্দ) আধুনিক মিসরের নির্মাতা হিসেবে খ্যাত মুহাম্মদ আলি পাশা মারা যান। তিনি মিসরকে একটি প্রান্তিক প্রদেশ থেকে আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করেন।
তিনি মিসরে আধুনিক সেনাবাহিনী, চিকিৎসালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তবে তাঁর কঠোর শাসন ও উচ্চাভিলাষ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্ক আছে। (সুয়ুতি, তারিখুল খুলাফা, পৃষ্ঠা: ৫২০, ২০০৪)
৯৫ হিজরির ১৩ রমজান (৭১৪ খ্রিষ্টাব্দ) উমাইয়া যুগের সবথেকে বিতর্কিত শাসক হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ সাকাফি ইরাকের ওয়াসিত শহরে মারা যান। (ইমাম জাহাবি, সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৪/৩৪৩, ১৯৮৫)
তাঁর কঠোর প্রশাসনিক দক্ষতা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের নিষ্ঠুরতা আজও ইতিহাসের পাতায় এক ভীতিকর অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
মৃত্যুর সময় তাঁর মুখে কেবল প্রখ্যাত তাবেয়ি সাইদ ইবনে জুবায়েরের নাম উচ্চারিত হচ্ছিল, যাঁকে তিনি হত্যা করেছিলেন। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৯/১৩৫, ১৯৮৮)