ওমরাহ পালন করা আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় একটি ইবাদত। এটি বছরের যেকোনো সময় পালন করা যায়। ওমরাহ পালনের পদ্ধতিটি সহজভাবে এবং সুন্নাহর আলোকে নিচে ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হলো।
ওমরাহর প্রথম কাজ হলো মিকাত (নির্দিষ্ট সীমানা) থেকে ইহরাম গ্রহণ করা। এমন মিকাত আছে ৭টি। মদিনা থেকে মক্কায় গেলে ‘জুল হুলাইফা’ নামক স্থান থেকে ইহরামের কাপড় পরে নিয়ত করতে হয়।
আর বাংলাদেশ থেকে সরাসরি মক্কায় গেলে ইহরাম ঢাকা থেকেই বাঁধা যেতে পারে, অথবা অন্য কোনো দেশে ট্রানজিট হলে সেখানে বসেও পরা যায়। এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে:
পরিচ্ছন্নতা: ইহরামের আগে নখ কাটা, গোঁফ ছাঁটা এবং শরীরের অপ্রয়োজনীয় লোম পরিষ্কার করা সুন্নাহ। এরপর গোসল করে পবিত্র হওয়া উত্তম।
পোশাক: পুরুষরা সেলাইবিহীন দুটি সাদা কাপড় (এজার ও চাদর) পরিধান করবেন। ডান কাঁধ ঢাকা থাকবে তওয়াফের আগ পর্যন্ত। তাওয়াফ শুরু হলে ডান কাঁধ প্রথমে খুলে নেওয়া সুন্নত। নারীরা তাদের স্বাভাবিক শালীন পোশাক পরবেন, তবে মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকবেন না।
নিয়ত ও তালবিয়া: মনে মনে ওমরাহর নিয়ত করে মুখে বলতে হয় “লাব্বাইকা ওমরাহ”। এরপর উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়া পাঠ করা শুরু করতে হবে:
“লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।”
মসজিদুল হারামে প্রবেশের পর তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে তওয়াফ শুরু করতে হবে।
শুরু: হাজরে আসওয়াদকে (কালো পাথর) সামনে রেখে তওয়াফ শুরু করতে হবে। সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা, নয়তো দূর থেকে হাত দিয়ে ইশারা করে বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলা।
ইজতিবা ও রামাল (পুরুষদের জন্য): তাওয়াফের সাত চক্করেই পুরুষরা তাদের ডান কাঁধ খোলা রাখবেন। একে ইজতিবা বলে। কেউ কেউ প্রথম তিন চক্কর ইজতিবা করার কথা বলেন। প্রথম তিন চক্করে একটু দ্রুত ও বীরদর্পে হাঁটতে হবে। একে বলে রামাল। বাকি চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন।
দোয়া: তাওয়াফের নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই, তবে রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মাঝখানে এই দোয়াটি পড়া সুন্নত: “রাব্বানা আতিনা ফিদ দুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া কিনা আজাবান নার।”
মাকামে ইবরাহিম: তাওয়াফ শেষ করে মাকামে ইবরাহিমের পেছনে (জায়গা না পেলে হারামের যেকোনো স্থানে) দুই রাকাত নামাজ আদায় করা ওয়াজিব।
তাওয়াফ শেষে তৃপ্তিভরে জমজমের পানি পান করা সুন্নত। এরপর সাঈ (সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে হাঁটা) করার জন্য সাফা পাহাড়ের দিকে যেতে হবে।
সাফা পাহাড় থেকে সাঈ শুরু করতে হবে এবং মারওয়া পাহাড়ে গিয়ে শেষ করতে হবে।
পদ্ধতি: সাফা পাহাড়ে উঠে কাবার দিকে মুখ করে হাত তুলে দোয়া করা এবং আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করা। এরপর মারওয়ার দিকে হাঁটা শুরু করা।
সবুজ বাতি: সাফা ও মারওয়ার মাঝখানে দুটি সবুজ বাতি চিহ্নিত স্থান রয়েছে। এই জায়গাটুকু পুরুষদের জন্য একটু দ্রুত দৌড়ানো সুন্নত।
গণনা: সাফা থেকে মারওয়া পর্যন্ত গেলে এক চক্কর এবং মারওয়া থেকে সাফায় ফিরে আসলে দ্বিতীয় চক্কর হবে। এভাবে মোট সাতটি চক্কর পূর্ণ করতে হবে। শেষ হবে মারওয়া পাহাড়ে গিয়ে।
সাঈ শেষ করার পর ইহরাম খোলার জন্য চুল কাটতে হয়।
পুরুষদের জন্য: পুরো মাথা মুণ্ডন করা (হলক) অথবা বাবরি ধরনের চুল হলে পুরো মাথার চুল ছোট করা। তবে মুণ্ডন করা অধিক সওয়াবের কাজ।
নারীদের জন্য: চুলের অগ্রভাগ থেকে আঙুলের এক কর (প্রায় এক ইঞ্চি) পরিমাণ চুল কাটতে হবে।
চুল কাটার মাধ্যমেই ওমরাহর সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এখন আপনি ইহরামের কাপড় খুলে স্বাভাবিক পোশাক পরতে পারেন এবং ইহরাম অবস্থায় যা যা নিষিদ্ধ ছিল (যেমন সুগন্ধি ব্যবহার, স্ত্রীসঙ্গ) তা এখন বৈধ হয়ে যাবে।
এহসান সিরাজ : আলেম ও লেখক