সিরাতের সময়রেখা ৬

রাখাল থেকে বণিক: তরুণ মুহাম্মদ (সা.)–এর শ্রম-সংস্থান

হিলফুল ফুজুল চুক্তির (৫৯০ খ্রিষ্টাব্দ) পরের বছরগুলোতে তরুণ মুহাম্মদের জীবনে যে অধ্যায়টি শুরু হয়, তা রাজনীতির মতো সরব না হলেও সমাজ-অর্থনীতির বিচারে কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়।

প্রাচীন কোরাইশ সমাজে কায়িক শ্রম নিয়ে একধরনের অভিজাত অবজ্ঞা ছিল—গোত্রীয় সামন্তরা একে সাধারণত দাস বা দুর্বলদের কাজ মনে করত। কিন্তু চাচা আবু তালিবের পরিবারের ক্রমবর্ধমান আর্থিক টানাপোড়েনে পরনির্ভরশীল না থেকে মুহাম্মদ (সা.) বেছে নেন স্বোপার্জিত জীবিকার পথ।

রাখালি জীবনের শুরু

দাদা আবদুল মুত্তালিবের মৃত্যুর পর বনু হাশিমের অর্থনৈতিক ভিত অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। হাজিদের পানি পান করানো (সিকায়াহ) আর খাদ্য জোগান দেওয়া (রিফাদাহ)—কাবার সম্মানজনক এই দুই দায়িত্ব আবু তালিবের কাঁধে এলেও তাঁর আর্থিক সামর্থ্য ছিল সীমিত, ফলে একপর্যায়ে রিফাদাহর দায়িত্ব তাঁকে সচ্ছল ভাই আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের হাতে ছেড়ে দিতে হয়। (ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১/১১০, দারু সাদির, বৈরুত, ১৯৬৮)

এই টানাপোড়েন প্রত্যক্ষ করেই বিশ বছর বয়সী মুহাম্মদ (সা.) মক্কার চারণভূমিতে মেষ চরানোর কাজ বেছে নেন। এই পেশাগত অভিজ্ঞতার একটি সাক্ষ্য হাদিসশাস্ত্রে সংরক্ষিত আছে। সাহাবি আবু হোরাইরার বরাতে এসেছে, নবীজি বলেছিলেন, আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি যিনি মেষ চরাননি; সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, “আমিও সামান্য পারিশ্রমিকের (কারারিত) বিনিময়ে মক্কাবাসীদের বকরি চরাতাম।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২২৬২)

সমাজবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, রাখালির এই পেশাটি ভবিষ্যৎ নবুয়ত ও নেতৃত্বের জন্য একটি স্বাভাবিক প্রশিক্ষণশালা হিসেবে কাজ করেছে:

  • সহনশীলতা ও ক্রোধ সংবরণ: অবুঝ পশুর দলছুট হওয়া, পথভ্রষ্টতা এবং ভিন্ন ভিন্ন স্বভাব সামলাতে গিয়ে মানুষ চরম মাত্রার ধৈর্য অর্জন করে, যা পরবর্তীকালে মানবসমাজ পরিচালনার মূল ভিত্তি হয়।

  • হিংস্র প্রাণীর হাত থেকে দুর্বলকে রক্ষা: নেকড়ে বা চোরের আক্রমণ থেকে পালের দুর্বলতম পশুটিকে পাহারা দেওয়ার নজরদারি থেকে সমাজে মজলুমের অধিকার রক্ষার নেতৃত্বগুণ প্রস্ফুটিত হয়।

  • একাকীত্ব ও সৃষ্টিতত্ত্বের অনুধ্যান: মক্কার পাপাচার, মদ্যপান ও কাবার চত্বরে রক্ষিত ৩৬০টি মূর্তির পৌত্তলিক কোলাহল থেকে সম্পূর্ণ দূরে নির্জন পাহাড়ে মাসের পর মাস কাটানোর ফলে পৌত্তলিকতার প্রভাব থেকে তাঁর মানসিক বিশুদ্ধতা সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ থাকে।

‘কারারিত’ শব্দের দুই ব্যাখ্যা

এই হাদিসে ব্যবহৃত ‘আলা কারারিত’ শব্দবন্ধ নিয়ে হাদিস-ভাষ্যকারদের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি আকর্ষণীয় মতভেদ আছে। একদল ভাষ্যকার, যাদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি ও বদরুদ্দিন আইনি প্রমুখ, তারা একে মজুরির একক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। (ফাতহুল বারি, ৪/৪৪১ ও উমদাতুল কারি, ১২/৯২, দারুল মারিফা, বৈরুত, ১৩৭৯ হি.)

প্রাক-ইসলামি হেজাজের নিজস্ব কোনো মুদ্রা ছিল না। কোরাইশরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে রোমান বাইজেন্টাইন স্বর্ণমুদ্রা ‘দিনার’ এবং সাসানীয় পারস্যের রৌপ্যমুদ্রা ‘দিরহাম’ ব্যবহার করত।  ‘কিরাত’ ছিল রোমান স্বর্ণমুদ্রা দিনারের চব্বিশ ভাগের এক ভাগ, প্রায় চারটি যবের দানার ওজনের সমান একটি ক্ষুদ্র পরিমাপ, আর গ্রিক ‘কেরাতিওন’ (keration) শব্দ থেকে সুরিয়ানি হয়ে আরবিতে এসেছে।

এই ব্যাখ্যায় এটা নিশ্চয় স্পষ্ট হয় যে নবীজি নির্দিষ্ট মজুরির বিনিময়ে কাজ করতেন, যদিও তা সামান্য, তবে করুণা বা বিনামূল্যে নয়।

একবার তাঁরা নবীজির সঙ্গে মাররুজ জাহরানে আরাক গাছের ফল কুড়াচ্ছিলেন, তখন নবীজি বলেন কালো রঙের ফলগুলো বেছে নিতে, কারণ সেগুলোই সবচেয়ে পাকা; সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি কি বকরি চরাতেন?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, এমন কোনো নবী নেই যিনি তা চরাননি।’ 

অন্যদিকে ভাষাতাত্ত্বিক ইব্রাহিম আল-হারবি ও ইমাম সুহাইলি সম্পূর্ণ ভিন্ন মত দেন। তাঁদের মতে ‘কারারিত’ কোনো মুদ্রা নয়, বরং মক্কার আজইয়াদ এলাকার একটি নির্দিষ্ট চারণভূমি বা পাহাড়ি ঢালের নাম। (গারিবুল হাদিস, ১/১৮৯, জামিআতু উম্মিল কুরা, মক্কা, ১৯৮৫; আর-রাওদুল উনুফ, ১/১৭০, দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত, ২০০০)

সে–সময় আরবে নগদ মুদ্রার প্রচলন এতটা সাধারণ ছিল না যে একজন সাধারণ রাখালকে প্রতিদিন স্বর্ণমুদ্রার সূক্ষ্ম ভগ্নাংশ গুনে দেওয়া হতো। তাই স্থাননির্দেশক ব্যাখ্যাটিও যথেষ্ট গুরুত্ব পায় ঐতিহাসিকদের কাছে।

দুই ব্যাখ্যারই নিজস্ব যুক্তি থাকায় প্রশ্নটি ভাষাতাত্ত্বিকভাবে আজও পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি বলাই সংগত।

মরুর বাস্তুসংস্থান ও ঋতুভিত্তিক চারণ

মক্কার ভূপ্রকৃতি মূলত আগ্নেয় ব্যাসাল্ট আর নিরেট গ্রানাইট পাথরের রুক্ষ উপত্যকা, যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ছিল অনিশ্চিত ও সামান্য, ১০০ মিলিমিটারের কম। ফলে সারা বছর একই চারণভূমিতে পশু চরানো সম্ভব ছিল না। আরবের চিরায়ত রীতি অনুযায়ী রাখালদের ঋতুভেদে পশুপাল স্থানান্তর করতে হতো।

শীত ও বসন্তে বৃষ্টির পর মক্কার কাছের আজইয়াদ উপত্যকায় কাঁটাযুক্ত ‘সামুর’ গুল্ম গজিয়ে উঠত, কিন্তু গ্রীষ্মের খরতাপে রাখালরা পশু নিয়ে যেত মক্কা থেকে বেশ কিছুটা দূরে, উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত অপেক্ষাকৃত আর্দ্র উপত্যকা মাররুজ জাহরানে (আজকের ওয়াদি ফাতেমা), যেখানে ভূগর্ভস্থ পানির কারণে ‘আরাক’ গাছের ঝোপ সতেজ থাকত।

এই ঋতুভিত্তিক স্থানান্তরের একটি সরাসরি সাক্ষ্য মেলে জাবির ইবনে আবদুল্লাহর হাদিসে। একবার তাঁরা নবীজির সঙ্গে মাররুজ জাহরানে আরাক গাছের ফল কুড়াচ্ছিলেন, তখন নবীজি বলেন কালো রঙের ফলগুলো বেছে নিতে, কারণ সেগুলোই সবচেয়ে পাকা; সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি কি বকরি চরাতেন?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, এমন কোনো নবী নেই যিনি তা চরাননি।’  (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৪৫৩)

আরাক ফল কালো ও পরিপক্ব হয় গ্রীষ্মের দাবদাহে, তাই এই হাদিস থেকেই বোঝা যায় নবীজি গ্রীষ্মকালে মক্কার পাথুরে বেষ্টনী ছেড়ে অপেক্ষাকৃত পানিসমৃদ্ধ উপত্যকায় দীর্ঘ সময় কাটাতেন।

রাখালি থেকে বাণিজ্যে

একজন নিঃস্ব রাখাল কীভাবে পরবর্তীকালে মক্কার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কাফেলার একজন বিশ্বস্ত পরিচালক হয়ে উঠলেন—এই প্রশ্নের উত্তর নিহিত আছে তৎকালীন অর্থনীতির স্বাভাবিক ধারাবাহিকতায়।

পশুপালন থেকে সরাসরি সংগৃহীত কাঁচামাল, যেমন চামড়া, পশম আর ঘি প্রভৃতি ছিল মক্কার অভ্যন্তরীণ বাজার উকাজ, মাজান্নাহ ও জুল মাজাজের নিয়মিত পণ্য। ইয়েমেনি ও হেজাজি প্রক্রিয়াজাত এসব সামগ্রী ছিল মক্কার বাজারের প্রধান আন্তর্জাতিক পণ্য এবং বিশেষ করে রোমান শাসিত শামে এসবের বিপুল চাহিদা ছিল।

বছরের পর বছর মেষপালনের অভিজ্ঞতায় তরুণ মুহাম্মদ (সা.) পশুর স্বাস্থ্য, চামড়ার মান আর পশমের প্রকারভেদ সম্পর্কে যে তৃণমূল-স্তরের জ্ঞান অর্জন করেন, তা স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে এই খুচরা বাজারগুলোর ব্যবসায়ীদের সংস্পর্শে নিয়ে আসে, আর ধীরে ধীরে মক্কার প্রতিষ্ঠিত বিনিয়োগকারীদের চোখে তাঁকে একজন নির্ভরযোগ্য বাণিজ্যিক প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

রাখাল থেকে বিশ্বস্ত বণিক-প্রতিনিধিতে উত্তরণের এই কাহিনি দেখায় কীভাবে তৃণমূল স্তরের শ্রম, ধারাবাহিক সততা আর মক্কার বাস্তব অর্থনৈতিক কাঠামো একসঙ্গে মিলে একজন মানুষের সামাজিক অবস্থান পুনর্নির্মাণ করতে পারে।

বাণিজ্যিক অংশীদার: সায়েব বিতর্ক

রাখালি থেকে বাজারে পরিচিতি লাভের পর মুহাম্মদ (সা.) প্রচলিত ‘মুদারাবা’ (পুঁজি একজনের, শ্রম অন্যের) রীতিতে মক্কার মূলধারার ব্যবসায় প্রবেশ করেন। এই পর্বে তাঁর সবচেয়ে পরিচিত অংশীদার ছিলেন বনু মাখজুম গোত্রের এক ব্যবসায়ী। তার নাম সায়েব।

মক্কা বিজয়ের দিন সায়েব নবীজির কাছে উপস্থিত হলে নবীজি (সা.) তাঁকে পরম সমাদরে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মারহাবান বি-আখি ওয়া শারিকি... (স্বাগতম আমার ভাই ও আমার ব্যবসায়িক অংশীদারকে), যিনি কখনো ব্যবসায় ফাঁকি দিতেন না এবং কোনো অনর্থক বিবাদে লিপ্ত হতেন না। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস: ৪৮৩৬)

এমনকি নবীজি সাহাবিদের বলেন, তোমাদের চেয়ে তাঁকে আমি বেশি চিনি। সায়েবও তখন গর্বভরে সাক্ষ্য দেন, “আমার পিতা-মাতা আপনার ওপর উৎসর্গ হোক, আপনি সত্য বলেছেন। জাহেলি যুগে আপনি ছিলেন আমার সর্বোত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার; তিনি কখনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেননি এবং কোনো দেনা-পাওনা নিয়ে কথা-কাটাকাটি করতেন না।” (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ১৫৪৬৮)

তবে তাঁর সুনির্দিষ্ট নাম নিয়ে হাদিসের সনদ ও রিজাল শাস্ত্রে তিনটি ভিন্ন পাঠ পাওয়া যায়—১. আস-সায়েব ইবনে আবি আস-সায়েব (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস: ৪৮৩৬), ২. কায়েস ইবনে আস-সায়েব (আল-হাকিম, আল-মুসতাদরাক, ৩/২৫৬) এবং ৩. আবদুল্লাহ ইবনে আস-সায়েব। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৪৬৮৮)

ইবনে হাজার এই জটিলতা বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, মূল ব্যক্তি সম্ভবত আস-সায়েব নিজে অথবা তাঁর পুত্র কায়েস, আর বর্ণনাকারীদের সনদে পিতা-পুত্রের নাম মাঝেমধ্যে অদল-বদল হয়ে গেছে। (আসকালানি, আল-ইসাবাহ ফি তাময়িজিস সাহাবাহ, ৩/২৩, দারুল জিল, বৈরুত, ১৯৯২)

নামের এই অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ঐতিহাসিকদের মধ্যে ব্যাপক ঐকমত্য আছে যে নবীজি বনু মাখজুম গোত্রের এই বাণিজ্যিক বৃত্তে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন, আর তাঁর হিসাবের স্বচ্ছতা সে যুগে বিরল দৃষ্টান্ত ছিল।

‘আস-সাদিক’ ও ‘আল-আমিন’ উপাধি

রাখালি জীবনের বিশ্বস্ততা আর পরবর্তী কয়েক বছরের বাণিজ্যিক লেনদেনের নিখুঁত আমানতদারিই কোরাইশ সমাজে তাঁর দুটি স্থায়ী উপাধিকে সর্বজনগ্রাহ্য করে তোলে—‘আস-সাদিক’ (সত্যবাদী) আর ‘আল-আমিন’ (পরম বিশ্বস্ত) (ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ১/১৮৭, দারুল কিতাবিল আরাবি, বৈরুত, ১৯৯০)

এই পর্বের কালক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

  • রাখালি জীবনের মূল সময়: ৩৩ হিজরি পূর্ব থেকে ৩১ হিজরি পূর্ব (৫৯০ থেকে ৫৯২ খ্রি.)। বয়স ২০ থেকে ২২ বছর।

  • মক্কার অভ্যন্তরীণ বাজারে অংশীদারি বাণিজ্য: ৩১ হিজরি পূর্ব থেকে ২৯ হিজরি পূর্ব (৫৯২ থেকে ৫৯৪ খ্রি.)। বয়স ২২ থেকে ২৪ বছর।

এই উপাধি ছিল মক্কার জটিল অর্থনৈতিক লেনদেনে বারবার পরীক্ষিত এক পেশাগত সুনাম। এই বিশ্বাসযোগ্যতার সূত্র ধরেই মক্কার প্রতিষ্ঠিত ধনী নারী হজরত খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ পরবর্তীকালে তাঁর ব্যবসায়িক কাফেলার নেতৃত্ব এই তরুণের হাতেই তুলে দিতে আগ্রহী হন।

শেষ কথা

রাখাল থেকে বিশ্বস্ত বণিক-প্রতিনিধিতে উত্তরণের এই কাহিনি দেখায় কীভাবে তৃণমূল স্তরের শ্রম, ধারাবাহিক সততা আর মক্কার বাস্তব অর্থনৈতিক কাঠামো একসঙ্গে মিলে একজন মানুষের সামাজিক অবস্থান পুনর্নির্মাণ করতে পারে।

রাখালি থেকে বাজার-পরিচিতি, বাজার-পরিচিতি থেকে অংশীদারি বাণিজ্য, আর অংশীদারি বাণিজ্য থেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত এক আমানতদারের পরিচিতি—ইতিহাসের একটি সুসংগত ও বিশ্বাসযোগ্য চিত্র হয়েই থেকে যায়।