পবিত্র মসজিদুল হারামে প্রবেশ করা মাত্রই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই আজন্ম লালিত স্বপ্নের কাবাঘর। এটি এক অন্যরকম আবেগঘন মুহূর্ত। বিশ্বাসীদের জন্য কাবার প্রথম দর্শন চোখের জল ধরে রাখা কঠিন।
প্রথমবার কাবা দেখার পর মনে যে দোয়া আসে, তা-ই করা উত্তম।
কাবা শরিফকে সাতবার প্রদক্ষিণ করাকে বলা হয় ‘তাওয়াফ’। হাজরে আসওয়াদ (জান্নাতি পাথর) থেকে এই প্রদক্ষিণ শুরু করতে হয়।
কাবার চারটি কোণ রয়েছে: হাজরে আসওয়াদ, রুকনে ইরাকি, রুকনে শামি ও রুকনে ইয়ামেনি। হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করে ঘুরে পুনরায় এই পাথর বরাবর এলে একটি চক্কর পূর্ণ হয়।
তাওয়াফ শুরুর আগে পুরুষদের ইহরামের পোশাকে বিশেষ পরিবর্তন আনতে হয়। ইহরামের ওপরের অংশ বা চাদরটি (রিদা) ডান বগলের নিচ দিয়ে এনে বাঁ কাঁধের ওপর রাখতে হয়। এই অবস্থাকে বলা হয় ‘ইজতিবা’।
এছাড়া তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে পুরুষদের বীরদর্পে একটু জোরে হাঁটতে হয়, যাকে বলা হয় ‘রমল’। বাকি চার চক্কর স্বাভাবিক গতিতে হাঁটতে হয়। নারীদের জন্য রমল বা ইজতিবা নেই।
মসজিদে প্রবেশের সময় এই দোয়াটি পাঠ করতে হয়— ‘আল্লাহুম্মাফতাহলি আবওয়াবা রাহমাতিকা’ (হে আল্লাহ, আমার জন্য তোমার রহমতের দুয়ার খুলে দাও)। মসজিদে ঢুকে সরাসরি কাবার দিকে চলে যান।
এ সময় ‘তাহিয়াতুল মসজিদ’ নামাজের প্রয়োজন নেই। তাওয়াফের মাধ্যমেই মসজিদের হক আদায় হয়।
১. তাওয়াফ শুরু করতে হাজরে আসওয়াদ বরাবর গিয়ে দাঁড়ান।
২. সম্ভব হলে পাথর স্পর্শ করে চুমু খাওয়া সুন্নত। তবে ভিড়ের কারণে তা সম্ভব না হলে দূর থেকে পাথরের দিকে হাত তুলে ইশারা করে হাতে চুমু দিন এবং বলুন— ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’।
৩. এবার কাবাকে বাঁয়ে রেখে প্রদক্ষিণ শুরু করুন। অপ্রয়োজনীয় কথা না বলে কোরআন তিলাওয়াত বা মনে যা আসে তা দিয়ে দোয়া করুন।
রুকনে ইয়ামেনি: প্রদক্ষিণ করতে করতে যখন চতুর্থ কোণ বা রুকনে ইয়ামেনিতে পৌঁছাবেন, তখন সম্ভব হলে হাত দিয়ে স্পর্শ করুন। চুমু খাওয়ার প্রয়োজন নেই। রুকনে ইয়ামেনি ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে এই দোয়াটি পাঠ করা সুন্নত— ‘রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাওঁ ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়াকিনা আজাবান্নার।’
চক্কর সংখ্যা: এভাবে একে একে সাতটি চক্কর পূর্ণ করুন। চক্কর গণনার সুবিধার জন্য হাতে সাত দানার তসবিহ বা ডিজিটাল কাউন্টার রাখতে পারেন। চক্কর সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হলে যে সংখ্যাটিতে আপনি নিশ্চিত (যেমন—৫ না ৬ মনে হলে ৫ ধরবেন), সেখান থেকেই বাকিটুকু শেষ করবেন।
তাওয়াফ শেষ করার পর ইজতিবা ত্যাগ করুন অর্থাৎ চাদর দিয়ে দুই কাঁধ ঢেকে নিন। এবার ‘মাকামে ইব্রাহিম’-এর পেছনে যেকোনো স্থানে দুই রাকাত নামাজ আদায় করুন। জায়গা না পেলে মসজিদের অন্য যেকোনো স্থানে পড়লেও চলবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এই নামাজের প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার পর সুরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ইখলাস পড়তেন। (সুনানে তিরমিজি: ৮৬৯)
নামাজ শেষ করে প্রাণভরে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, কারণ তাওয়াফ পরবর্তী এই সময়টি দোয়া কবুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাওয়াফ চলাকালে নামাজের জামাত শুরু হয়ে গেলে তাওয়াফ থামিয়ে জামাতে শরিক হোন। নামাজ শেষে যেখানে তাওয়াফ ছেড়েছিলেন, সেখান থেকেই বাকি চক্করগুলো সম্পন্ন করুন।