যে ৫ আমলে মিলবে হজের সওয়াব

হজ মহান আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। যারা আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম, তাদের ওপর হজ ফরজ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের মধ্যে যারা সেখানে (বাইতুল্লাহ) পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ওই গৃহের হজ করা তাদের ওপর আবশ্যক।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭)

হজের ফজিলত ও মর্যাদা সম্পর্কে হাদিসে অনেক বর্ণনা এসেছে। এত মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও সামর্থ্য না থাকায় সবার পক্ষে হজ পালন করা সম্ভব হয় না। তবে আল্লাহর রহমত অপরিসীম। তিনি এমন কিছু আমল দিয়েছেন, যা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলে হজের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়।

১. মাতা-পিতার খেদমত করা

আন্তরিকভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মাতা-পিতার খেদমত করলে হজ ও ওমরাহ পালনের সমান সওয়াব পাওয়া যায়।

হাদিসে আছে, এক ব্যক্তি নবীজির কাছে এসে বলল, ‘আমি জিহাদে অংশ নিতে চাই, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য নেই।’ নবীজি (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার মাতা-পিতার কেউ কি জীবিত আছেন?’ সে বলল, ‘আমার মা জীবিত আছেন।’ নবীজি বললেন, ‘তাহলে মায়ের খেদমতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে তোমার ওজর পেশ করো। যদি তা করতে পারো, তবে তুমি হজ, ওমরাহ ও জিহাদের সওয়াব লাভ করবে।’ (বায়হাকি, শুআবুল ইমান, হাদিস: ৭৮৯৩)

২. ফরজ নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়া

পবিত্র অবস্থায় মসজিদের পথে ফরজ নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হওয়া আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।

নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঘর থেকে অজু করে ফরজ নামাজের উদ্দেশ্যে বের হয়, তার সওয়াব ইহরাম বাঁধা হাজি ব্যক্তির মতো।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫৫৮)

৩. ইশরাকের নামাজ আদায়

সূর্যোদয়ের কিছু সময় পর যে নফল নামাজ পড়া হয়, তাকে ইশরাকের নামাজ বলে। এই নামাজের বিনিময়েও পূর্ণ হজ ও উমরার সওয়াবের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করে, এরপর সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকে এবং তারপর দুই রাকাত নামাজ (ইশরাক) আদায় করে, সে একটি পূর্ণ হজ ও ওমরাহ’র সওয়াব লাভ করবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৫৮৬)

৪. জ্ঞান অর্জনের জন্য মসজিদে যাওয়া

ভালো ও কল্যাণকর কিছু শেখা বা শেখানোর উদ্দেশ্যে মসজিদে গেলে হজের সওয়াব পাওয়া যায়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ভালো কথা শেখা বা শেখানোর উদ্দেশ্যে মসজিদে যায়, সে একজন পূর্ণাঙ্গ হজ আদায়কারীর সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে।’ (তাবারানি, আল-মুজামুল কবির, হাদিস: ৭৪৭৩)

৫. জুমার নামাজ আদায় করা

শুক্রবার মুমিনের সাপ্তাহিক ঈদের দিন। এ দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল জামে মসজিদে গিয়ে জুমার নামাজ আদায় করা। সাইদ ইবনুল মুসাইয়িব (রা.) বলেন, ‘জুমার নামাজ আদায় করা আমার কাছে নফল হজের চেয়েও বেশি প্রিয়।’ (ইমাম মালেক, আল-মুয়াত্তা, ১/৬৮, দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত, ১৯৮৫)

এ ছাড়া এক হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার নামাজের উদ্দেশ্যে আগেভাগে বের হয়, সে হজের সওয়াব লাভ করে এবং যে আসরের নামাজের জন্য অপেক্ষা করে, সে ওমরাহ পালনের সওয়াব লাভ করে।’ (বায়হাকি, সুনানে কুবরা, হাদিস: ৫৯৫০)

পরিশেষে, আমরা যারা হজে যাওয়ার সামর্থ্য রাখি না, তারা চাইলে এই আমলগুলোর মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও হজের সওয়াব অর্জন করতে পারি।

ফয়জুল্লাহ রিয়াদ: মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ