হজের সফর

ছোট সতর্কতা, বড় স্বস্তি

হজের সফরে সামান্য কিছু বিষয়ে সচেতন থাকলে মক্কা ও মদিনায় চলাচল এবং ইবাদত অনেক সহজ হয়। ছোটখাটো বিষয়ে অসাবধানতার কারণে অনেক সময় বড় বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এই অযাচিত সমস্যা এড়াতে কয়েকটি পরামর্শ:

১. সবার আগে: সৌদি আরবে প্রবেশ সহজ করতে ভ্রমণের আগেই নিশ্চিত করুন আপনার লাগেজে কোনো নিষিদ্ধ পণ্য নেই।

২. নুসুক কার্ড: এটি আপনার হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল। সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর হোটেল থেকে নুসুক কার্ড প্রদান ও সক্রিয় করে দেওয়া হয়। কার্ড কিছুতেই হারানো যাবে না, সব সময় গলায় ঝুলিয়ে রাখুন এবং ফিতা থেকে আলাদা করবেন না। মনে রাখবেন—

  • নুসুক কার্ড স্ক্যান করা ছাড়া হারাম শরিফে প্রবেশ করা যাবে না।

  • হজের অনুমতি ও মাশায়ের (মিনা, আরাফা ও মুজদালিফা) এলাকায় প্রবেশের সময় কার্ড দেখাতে হয়।

  • চলতিপথে বারবার কার্ড যাচাই করা হয়। কার্ড না থাকলে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ বা আইনি সমস্যায় পড়তে পারেন।

৩. গরম থেকে সুরক্ষা: সৌদি আরবে গরমের তীব্রতা অনেক বেশি। বাইরে বের হলে সব সময় ছাতা ও সানগ্লাস সঙ্গে রাখুন, এমনকি তা দুই মিনিটের পথ হলেও। একটি ছোট স্প্রে বোতল সঙ্গে রাখা ভালো। রোদ থেকে হোটেলে বা তাঁবুতে ঢুকেই এসির কাছে যাবেন না। এতে ‘থার্মাল শক’ হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার বা ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা থাকে।

কিছু বিষয়ে সচেতন থাকলে মক্কা ও মদিনায় চলাচল এবং ইবাদত অনেক সহজ হয়। ছোটখাটো বিষয়ে অসাবধানতার কারণে অনেক সময় বড় বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

৪. জুস পানে সতর্কতা: প্রচণ্ড গরম আর পরিশ্রমের কারণে অনেকেই প্রচুর ফলের জুস পান করেন। চেষ্টা করবেন দিনে ২৫০ মিলিলিটারের বেশি জুস না খেতে। কারণ আঁশহীন ফলের রস শরীরে চিনির মতো কাজ করে।

৫. আচারের ব্যবহার: জায়গা বা আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে অনেকেরই ঠান্ডা-কাশি হয় এবং মুখে রুচি থাকে না। এমন অবস্থায় আচার খুব কার্যকর। বিমানে আচার নিতে নিষেধ করা হয়। সৌদি আরবের যেকোনো সুপার শপের স্পাইস বা সস সেকশনে আচার খুঁজে পাবেন।

৬. আরামদায়ক জুতা: দীর্ঘ পথ হাঁটার জন্য কাপড়ের কেডস বা স্নিকার্স ব্যবহার করা আরামদায়ক। স্যান্ডেল বা চামড়ার জুতা ব্যবহারে অনেকের পা ফেটে যেতে পারে।

৭. ওষুধ ও ভ্যাসলিন: প্রয়োজনীয় ওষুধসহ একটি ‘ফার্স্ট এইড বক্স’ সঙ্গে রাখুন। অতি শুষ্ক আবহাওয়ায় শরীরের চামড়া ছিলে যায়, তাই গন্ধহীন ভ্যাসলিন রাখবেন। ইহরাম পরার আগে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে ভ্যাসলিন মেখে নিন। ইহরাম অবস্থায় ব্যবহারের জন্য গন্ধহীন সাবানও রাখতে পারেন।

৮. যোগাযোগ: যে হোটেলে থাকছেন তার একটি ভিজিটিং কার্ড পকেটে রাখুন। পথ হারিয়ে ফেললে এটি খুব কাজে দেবে। এছাড়া এজেন্সি বা মোয়াল্লিমের সৌদি আরবের মোবাইল নম্বরটি সঙ্গে রাখুন।

মসজিদে প্রবেশের সময় প্রতিটি ব্যাগ চেক করা হয়। বড় কোনো হাতব্যাগ বা খাবার নিয়ে ভেতরে ঢোকা যায় না। তবে পানির ছোট বোতল সঙ্গে রাখা যায়।

৯. দলবদ্ধভাবে চলাচল: দলছুট হওয়া বা হারিয়ে যাওয়ার ভয় এড়াতে কয়েকজনের গ্রুপ করে চলাফেরা করুন। কখনো হারিয়ে গেলে বিচলিত না হয়ে ধৈর্য ধরুন। সবখানে বাংলাভাষী মানুষ পাবেন।

১০. প্রয়োজনীয় মালামাল: হজের মূল পাঁচ দিন যত কম লাগেজ বহন করবেন, চলাচল ততই সহজ হবে। শুধু অতিরিক্ত এক সেট ইহরাম, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী, ছোট ব্যাগ, সুতির পোশাক, পাথর রাখার ব্যাগ এবং নিয়মিত সেবন করা ওষুধ সঙ্গে রাখুন।

১১. নির্দেশনা মানা: হজের দিনগুলোতে মোয়াল্লিমের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করুন। এতে আপনি অযাচিত হয়রানি ও ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবেন।

১২. সেবামূলক কাজ: অন্য হাজিদের সাহায্য করার চেষ্টা করুন। কাউকে খাবার এগিয়ে দেওয়া বা মালামাল বহনে সাহায্য করাও বড় সওয়াবের কাজ।

১৩. কেনাকাটা: কেনাকাটার কাজগুলো হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর করার পরিকল্পনা করুন। এতে ইবাদতে একাগ্রতা বজায় থাকবে।

১৪. হারাম শরিফে প্রবেশ: মসজিদুল হারামের চারটি স্তর রয়েছে—বেজমেন্ট, গ্রাউন্ড ফ্লোর, মিডল ফ্লোর ও ছাদ। মসজিদে প্রবেশের সময় প্রতিটি ব্যাগ চেক করা হয়। বড় কোনো হাতব্যাগ বা খাবার নিয়ে ভেতরে ঢোকা যায় না। তবে পানির ছোট বোতল সঙ্গে রাখা যায়, যাতে পরে জমজমের পানি ভরে নিতে পারেন।

  • এহসান সিরাজ: পরিচালক, আরব-বাংলা হজ কাফেলা