ওমরাহ হলো আল্লাহর ঘরের ইবাদতপূর্ণ সফর, যেখানে প্রতিটি ধাপই দোয়া ও ইবাদতে পূর্ণ। কোরআন ও সুন্নাহতে নির্দিষ্ট কিছু দোয়া বর্ণিত আছে, আবার অনেক জায়গায় নিজের ভাষায় দোয়া করারও প্রশস্ত সুযোগ রয়েছে। ওমরাহ আদায়ের সময় কিছু দোয়া বিশেষভাবে পড়া সুন্নাহ ও মোস্তাহাব হিসেবে পরিচিত।
নিচে ওমরাহ পালনের সময় বহুল প্রচলিত ও অর্থবহ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া উচ্চারণ ও অর্থসহ তুলে ধরা হলো।
১. ইহরাম বাঁধার নিয়ত
উচ্চারণ: লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা উমরাহ।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি ওমরাহ পালনের জন্য হাজির হয়েছি।
ইহরাম বাঁধার সময় এই নিয়তের মাধ্যমে বান্দা আনুষ্ঠানিকভাবে ওমরাহ শুরু করে।
অথবা আরেকটি দোয়া পড়া যায়,
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল উমরাতা ফাইয়াসসিরহা লি ওয়া তাকাব্বালহা মিন্নি।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি ওমরাহ পালনের ইচ্ছা করছি। তুমি তা আমার জন্য সহজ করে দাও এবং কবুল করে নাও।
২. তালবিয়া (ওমরাহ জুড়ে বারবার)
ইহরাম বাঁধার পরে তাওয়াফের আগে তালবিয়া পাঠ করতে হয়।
উচ্চারণ: লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক।লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুলক। লা শারীকা লাক।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি হাজির। তোমার কোনো শরিক নেই। সব প্রশংসা, সব নিয়ামত ও সব রাজত্ব একমাত্র তোমার। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৫৪৯)
৩. মসজিদুল হারামে প্রবেশের দোয়া
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাফ তাহ লি আবওয়াবা রাহমাতিক।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমার জন্য তোমার রহমতের দরজাগুলো খুলে দাও। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭১৩)
৪. কাবা দেখার পর দোয়া
উচ্চারণ (কোরআনের দোয়া): রব্বানা তাকাব্বাল মিন্না, ইন্নাকা আন্তাস সামিউল আলীম।
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করে নাও। নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১২৭)
কাবা প্রথম দেখার সময় নির্দিষ্ট কোনো দোয়া সহিহ সূত্রে নির্ধারিত নয়। তবে এই সময় দোয়া কবুল হয়—এ কথা বহু আলেম উল্লেখ করেছেন। তাই নিজের ভাষায় দোয়া করা উত্তম।
৫. তাওয়াফ শুরু করার দোয়া
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার।
অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি, আল্লাহ সবচেয়ে মহান। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮)
৬. রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মাঝে
উচ্চারণ (কোরআনের দোয়া): রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া কিনা আযাবান নার।
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও, আখিরাতেও কল্যাণ দাও এবং আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করো। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২০১)
৭. মাকামে ইবরাহিমে নামাজের পর দোয়া
উচ্চারণ: রব্বিজ‘আলনি মুকীমাস সালাহ, ওয়া মিন যুররিয়্যাতি।
অর্থ: হে আমার রব, আমাকে নামাজ কায়েমকারীদের অন্তর্ভুক্ত করো এবং আমার সন্তানদেরও। (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৪০)
৮. সাঈ শুরু করার সময়
উচ্চারণ: ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআইরিল্লাহ।
অর্থ: নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৮)
৯. সাঈ চলাকালে দোয়া
উচ্চারণ: রব্বিগফির ওয়ারহাম, ইন্নাকা আন্তাল আ‘আযযুল আকরাম।
অর্থ: হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করো ও দয়া করো। নিশ্চয়ই তুমি সর্বাধিক সম্মানিত।
১০. ওমরাহ শেষে সার্বিক দোয়া
উচ্চারণ (কোরআনের দোয়া): রব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা বা‘দা ইয হাদাইতানা, ওয়া হাব লানা মিল্লাদুনকা রাহমাহ।
অর্থ: হে আমাদের রব, তুমি আমাদের হেদায়াত দেওয়ার পর আমাদের হৃদয়কে বক্র করে দিও না; আমাদের প্রতি তোমার রহমত দান করো। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮)
গুরুত্বপূর্ণ কথা
ওমরাহ পালনেকালে
নির্দিষ্ট সংখ্যা বেঁধে দোয়া পড়া ফরজ নয়
নিজের ভাষায় দোয়া করা সম্পূর্ণ বৈধ
কোরআনের দোয়া সবচেয়ে উত্তম ও নিরাপদ
এহসান সিরাজ : আলেম ও লেখক