ইতিহাসে ২৭ রমজান বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্র বদলে দেওয়া এক ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে উমাইয়া খেলাফতের টালমাটাল পরিস্থিতি সামলে রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করা হয়েছিল।
দামেস্কের রাজপথ থেকে আধুনিক দক্ষিণ এশিয়ার সীমান্ত—সবখানেই ২৭ রমজানের এক গভীর ছাপ রয়ে গেছে।
৬৫ হিজরির ২৭ রমজান (৬৮৫ খ্রিষ্টাব্দ) উমাইয়া খেলাফতের হাল ধরেন আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান। তখন একদিকে হিজাজে আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.)-এর শাসন এবং অন্যদিকে ইরাকে মুখতার সাকাফির বিদ্রোহ উমাইয়া শাসনকে পতনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল।
তিনি অত্যন্ত কঠোরতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে এই বিশৃঙ্খলা দমন করে উম্মাহকে এক পতাকার নিচে নিয়ে আসেন এবং প্রশাসনিক বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করেন।
৭৭ হিজরিতে তিনিই প্রথম ইসলামি স্বর্ণমুদ্রা ‘দিনার’ প্রবর্তন করেন, যা মুসলিম অর্থনীতিকে বাইজান্টাইন মুদ্রার প্রভাবমুক্ত করে। এ ছাড়া সরকারি দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে রোমান ও ফারসি ভাষার বদলে আরবিকে বাধ্যতামূলক করেন। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৮/২৫০, ১৯৮৮)
৩৯২ হিজরির ২৭ রমজান (১০০২ খ্রিষ্টাব্দ) ইন্তেকাল করেন আন্দালুসের ইতিহাসের ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ ইবনে আবি আমির, যিনি ‘হাজিব আল-মানসুর’ নামে পরিচিত। তিনি খলিফা ছিলেন না, কিন্তু খলিফা হিশাম আল-মুয়াইয়িদের প্রধান উজির হিসেবে একচ্ছত্র ক্ষমতা ভোগ করতেন।
তাঁর শাসনামলে আন্দালুস সামরিক শক্তির শিখরে পৌঁছায়। তিনি তাঁর জীবনে ৫৭টি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং একটিতেও পরাজিত হননি। তাঁর মৃত্যুতে আন্দালুসের সেই অখণ্ড ও শক্তিশালী উমাইয়া শাসনের যুগের সমাপ্তি ঘটে এবং ধীরে ধীরে স্পেনে ছোট ছোট মুসলিম রাজ্যের বিশৃঙ্খল সময় শুরু হয়। (ইবনে আসির, আল-কামিল ফিত তারিখ, ৮/২৪২, ১৯৮৭)
আইন জালুত যুদ্ধের দুই দিন পর ৬৫৮ হিজরির ২৭ রমজান সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ বিজয়ী বেশে দামেস্কে প্রবেশ করেন। এটি ছিল শাম বা সিরিয়া অঞ্চল থেকে মঙ্গোলদের চূড়ান্ত বিদায়ের ঘোষণা।
এই দিনেই মিসর ও সিরিয়া সামরিকভাবে একীভূত হয়, যার ফলে কায়রো মুসলিম বিশ্বের এক নতুন ও শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হয়। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৩/২২৫, ১৯৮৮)
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট যখন পাকিস্তান স্বাধীন হয়, সেই দিনটি ছিল হিজরি ক্যালেন্ডারে ১৩৬৬ হিজরির ২৭ রমজান। মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ ও কবি ইকবালের স্বপ্নের এই রাষ্ট্রটি ছিল আধুনিক বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র, যা ‘ইসলাম’ পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়।
সদকাতুল ফিতর (২ হিজরি): হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষের ২৭ রমজানের আশেপাশে পবিত্র মদিনায় সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা ফরজ করা হয়। এটি ইবাদতের সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও গরিবের মুখে হাসি ফোটানোর এক অনন্য বিধান। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৫০৩)
কাবার গিলাফ (২৪ হিজরি): খলিফা ওসমান (রা.)-এর আমলে বছরে দুবার কাবার গিলাফ পরিবর্তনের রীতি শুরু হয়, যার একটি ছিল রমজানের ২৭ তারিখে।