কোরআন

জীবিকার দুশ্চিন্তা ঘুচবে যে ১০ আয়াতে

জীবনসংগ্রামের পথে আমাদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের নাম ‘রিজিক’। ভবিষ্যতে কী হবে, কীভাবে সংসার চলবে—এই ভয় অনেক সময় আমাদের অস্থির করে তোলে।

তবে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা রিজিকের ব্যাপারে বারবার অভয় দিয়েছেন এবং ভরসা রাখার পথ দেখিয়েছেন। রিজিক নিয়ে ভয় দূর করতে সহায়ক এমন ১০টি আয়াত তুলে ধরা হলো:

১. প্রতিটি প্রাণের দায়িত্ব আল্লাহর

পৃথিবীতে বিচরণশীল প্রতিটি জীবের জীবনোপকরণের দায়িত্ব স্বয়ং স্রষ্টার।

  • উচ্চারণ: ওয়া মা মিন দাব্বাতিন ফিল আরদ্বি ইল্লা আলাল্লাহি রিযকুহা।

  • অর্থ: ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোনো জীব নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই। (সুরা হুদ, আয়াত: ৬)

আপনার এবং আপনার পরিবারের অন্নসংস্থানের নিশ্চয়তা আল্লাহ দিয়েছেন। নিজের কাজটুকু সততার সঙ্গে করে যান, তিনি কাউকে অনাহারে রাখেন না।

২. তাকওয়ায় খোলে অভাবনীয় দুয়ার

সততা ও আল্লাহভীতি মানুষের সামনে এমন সব পথ খুলে দেয়, যা আগে কখনো কল্পনাও করা যায়নি।

  • উচ্চারণ: ওয়া মান ইয়াত্তাকিল্লাহা ইয়াজ'আল লাহু মাখরাজা, ওয়া ইয়ারযুকহু মিন হাইছু লা ইয়াহতাসিব।

  • অর্থ: যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য (সংকট থেকে উত্তরণের) পথ করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। (সুরা তালাক, আয়াত: ২-৩)

৩. আমাদের রিজিকদাতা তিনি

পাখি বা বন্যপ্রাণীরা ভবিষ্যতের খাবার জমা করে রাখে না, তবুও তারা অভুক্ত থাকে না।

  • উচ্চারণ: ওয়া কা আইয়্যিম মিন দাব্বাতিল লা তাহমিলু রিযকাহা, আল্লাহু ইয়ারযুকুহা ওয়া ইয়্যাকুম।

  • অর্থ: অনেক জীবজন্তু আছে যারা নিজেদের খাদ্য সঞ্চিত রাখে না; আল্লাহই তাদের ও তোমাদের রিজিক দেন। (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ৬০)

৪. সন্তানের রিজিক নিয়ে সংশয় নয়

আগামী প্রজন্মের ভরণপোষণের ভয়ে ভীত হওয়া ইমানের দুর্বলতা।

  • উচ্চারণ: নাহনু নারযুকুহুম ওয়া ইয়্যাকুম।

  • অর্থ: আমিই তাদের রিজিক দিই এবং তোমাদেরও। (সুরা ইসরা, আয়াত: ৩১)

৫. আসমানেই নির্ধারিত ভাগ্য

মানুষের জন্য যা বরাদ্দ করা হয়েছে, তা সঠিক সময়ে তার কাছে পৌঁছাবেই।

  • উচ্চারণ: ওয়া ফিস সামায়ি রিযকুকুম ওয়া মা তূ'আদূন।

  • অর্থ: আসমানে রয়েছে তোমাদের রিজিক ও প্রতিশ্রুত সব কিছু। (সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ২২)

৬. রিজিকের হ্রাস-বৃদ্ধি আল্লাহর প্রজ্ঞা

কারও রিজিক প্রশস্ত হওয়া বা সংকুচিত হওয়া—উভয়ই আল্লাহর পরীক্ষা ও হিকমতের অংশ।

  • উচ্চারণ: ইন্না রাব্বী ইয়াবসুতুর রিযকা লিমান ইয়াশাউ ওয়া ইয়াকদির।

  • অর্থ: আমার প্রতিপালক যার জন্য ইচ্ছা রিজিক প্রশস্ত করেন অথবা সীমিত করেন। (সুরা সাবা, আয়াত: ৩৬)

৭. সৎ কর্মে মেলে প্রশান্তিময় জীবন

হালাল পথে উপার্জিত অল্প সম্পদেও যে মানসিক শান্তি থাকে, সেটাই প্রকৃত রিজিক।

  • উচ্চারণ: ফালানুহইয়িয়ান্নাহু হায়াতান তায়্যিবা।

  • অর্থ: আমি তাকে অবশ্যই পবিত্র ও সুন্দর জীবন দান করব। (সুরা নাহল, আয়াত: ৯৭)

৮. প্রচেষ্টার বিকল্প নেই

কেবল ঘরে বসে দোয়া করলেই রিজিক আসে না, এর জন্য সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

  • উচ্চারণ: ফামশূ ফি মানাকিবিহা ওয়া কুলূ মিন রিযকিহি।

  • অর্থ: তোমরা জমিনের দিক-বিদিক বিচরণ করো এবং আল্লাহর দেয়া রিজিক থেকে আহার করো। (সুরা মুলক, আয়াত: ১৫)

৯. কৃতজ্ঞতায় বাড়ে নেয়ামত

প্রাপ্তি ছোট হোক বা বড়, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আল্লাহ তাতে বরকত বাড়িয়ে দেন।

  • উচ্চারণ: লা ইন শাকারতুম লা আযীদান্নাকুম।

  • অর্থ: যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নেয়ামত বাড়িয়ে দেব। (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৭)

১০. তিনিই সর্বোত্তম রিজিকদাতা

মানুষ কেবল উছিলা মাত্র, মূল ভরসা থাকা উচিত মহান আল্লাহর ওপর।

  • উচ্চারণ: ওয়াল্লাহু খাইরুর রাযিকীন।

  • অর্থ: আল্লাহই সর্বোত্তম রিজিকদাতা। (সুরা জুমুআ, আয়াত: ১১)

পরিশেষে, জীবন ও জীবিকার কঠিন লড়াইয়ে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং নিরলস পরিশ্রম করাই একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ আমাদের হালাল ও বরকতময় রিজিক দান করুন। আমিন।