ক্ষণস্থায়ী এই পার্থিব জীবন কেবলই পরকালের শস্যক্ষেত্র। মানুষের প্রকৃত সফলতা ও ব্যর্থতা নির্ধারিত হবে পরকালীন জীবনের প্রাপ্তি আর বঞ্চনার ওপর ভিত্তি করে। কোরআনের পাতায় পাতায় মুমিনদের সেই অনাগত জীবনের পাথেয় সংগ্রহের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
পরকালের প্রস্তুতি নিতে এবং আখেরাতমুখী জীবন গড়তে সহায়ক এমন ১০টি আয়াতের বর্ণনা দেওয়া হলো:
যে ব্যক্তি তার কর্মের লক্ষ্য হিসেবে পরকালকে নির্ধারণ করে, আল্লাহ তার জাগতিক ও পারলৌকিক উভয় জীবনেই সমৃদ্ধি দান করেন।
উচ্চারণ: মান কানা ইউরিদু হারছাল আখেরাতি নাযিদ লাহু ফি হারছিহ। ওয়া মান কানা ইউরিদু হারছাদ দুনইয়া নু'তিহি মিনহা ওয়া মা লাহু ফিল আখেরাতি মিন নাসিব।
অর্থ: যে ব্যক্তি আখেরাতের শস্যক্ষেত্র কামনা করে, আমি তার শস্যক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি দান করি। আর যে দুনিয়ার শস্যক্ষেত্র কামনা করে, তাকে তা থেকে কিছু দেই। তবে আখেরাতে তার কোনো অংশ থাকবে না। (সুরা শুরা, আয়াত: ২০)
প্রতিটি মুহূর্তই আমাদের মৃত্যুর দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাই আগামীর সেই কঠিন দিনের জন্য আমরা কী সঞ্চয় করেছি, তা নিয়ে প্রতিনিয়ত ভাবা জরুরি।
উচ্চারণ: ইয়া আইয়্যুহাল্লাযিনা আমানুত্তাকুল্লাহা ওয়ালতানযুর নাফসুম মা কাদ্দামাত লিগাদ। ওয়াত্তাকুল্লাহ। ইন্নাল্লাহা খাবিরুম বিমা তা'মালুন।
অর্থ: হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত ভেবে দেখা যে সে আগামীকালের জন্য কী অগ্রিম পাঠিয়েছে। (সুরা হাশর, আয়াত: ১৮)
পার্থিব বিত্ত-বৈভব নয়, বরং কিয়ামতের দিন জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশাধিকার পাওয়াই হলো চূড়ান্ত বিজয়।
উচ্চারণ: কুল্লু নাফসিন যাইকাতুল মাউত... ফামান যুহযিহা আনিন নারি ওয়া উদখিলাল জান্নাতা ফাকাদ ফায।
অর্থ: প্রত্যেক প্রাণকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে... অতঃপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলকাম হবে। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫)
আখেরাত কেবল কামনার বিষয় নয়, বরং মুমিন অবস্থায় তার জন্য যথাযথ ও নিরলস চেষ্টা চালানোই হলো সাফল্যের চাবিকাঠি।
উচ্চারণ: ওয়া মান আরাদাল আখেরাতা ওয়া সাআ লাহা সা'ইয়াহা ওয়া হুওয়া মুমিনুন ফাউলাইকা কানা সা'ইয়ুহুম মাশকুরা।
অর্থ: আর যে আখেরাত কামনা করে এবং মুমিন অবস্থায় তার জন্য যথাযথ চেষ্টা করে, তাদের চেষ্টা স্বীকৃত হবে। (সুরা ইসরা, আয়াত: ১৯)
পার্থিব জীবন একটি সাময়িক ক্রীড়া-কৌতুক ছাড়া আর কিছুই নয়। কেবল পরকালের আবাসই চিরস্থায়ী ও প্রকৃত জীবনের ঘর।
উচ্চারণ: ওয়া মা হাযিহিল হায়াতুদ দুনইয়া ইল্লা লাহউঁও ওয়া লাইব। ওয়া ইন্নাদ দারাল আখেরাত লাহিয়াল হায়াওয়ান।
অর্থ: আর এই পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া-কৌতুক ছাড়া কিছুই নয়। আর পরকালের আবাসই প্রকৃত জীবন, যদি তারা জানত। (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ৬৪)
মুমিনের প্রার্থনা কেবল দুনিয়ার জন্য নয়, বরং সে উভয় জগতের কল্যাণ ও আগুনের আজাব থেকে মুক্তির জন্য রবের কাছে আরজি জানায়।
উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখেরাতি হাসানাতাও ওয়া কিনা আযাবান নার।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন। (সুরা বাকারাহ, আয়াত: ২০১)
মানুষের কাছে যা আছে তা ফুরিয়ে যাবে, কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যা জমা রাখা হয়েছে তা-ই কেবল অবিনশ্বর।
উচ্চারণ: মা ইনদাকুম ইয়ানফাদ। ওয়া মা ইনদাল্লাহি বাক। ওয়া লানাজযিয়ান্নাল্লাযিনা সাবারু আজরাহুম...।
অর্থ: তোমাদের কাছে যা আছে তা শেষ হয়ে যাবে এবং আল্লাহর কাছে যা আছে তা স্থায়ী। আর যারা ধৈর্য ধারণ করেছে আমি তাদের উত্তম প্রতিদান দেব। (সুরা আন-নাহল, আয়াত: ৯৬)
মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আফসোস করার চেয়ে সুস্থ ও সচ্ছল অবস্থায় আল্লাহর পথে ব্যয় করাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।
উচ্চারণ: ওয়া আনফিকু মিম মা রাযাকনাকুম মিন কাবলি আই ইয়া'তিয়া আহাদাকুমুল মাউতু...।
অর্থ: আর আমি তোমাদের যা দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করো মৃত্যু আসার আগে। অন্যথায় সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে আরও কিছুকাল সময় দিলে না কেন? (সুরা মুনাফিকুন, আয়াত: ১০)
আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহের অন্যতম উপায় হলো ভালো ও জনকল্যাণমূলক কাজে একে অপরের চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা রাখা।
উচ্চারণ: উলাইকা ইউসারিউনা ফিল খাইরাতি ওয়া হুম লাহা সাবিকুন।
অর্থ: তারাই কল্যাণকর কাজে দ্রুত এগিয়ে যায় এবং তারা এ বিষয়ে প্রতিযোগী। (সুরা মুমিনুন, আয়াত: ৬১)
যাঁরা আল্লাহকে ভয় করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে চলেন, তাঁদের জন্য পরকালের ঘরই হলো শ্রেষ্ঠ বিশ্রামাগার।
উচ্চারণ: ওয়া মাল হায়াতুদ দুনইয়া ইল্লা লাইবুও ওয়া লাহও। ওয়া লাদ দারুল আখেরাতু খাইরুল লিল্লাযিনা ইয়াত্তাকুন।
অর্থ: আর পার্থিব জীবন খেলা ও তামাশা ছাড়া কিছুই নয়। আর যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য আখেরাতের আবাস উত্তম। (সুরা আনআম, আয়াত: ৩২)
আখেরাত কোনো কাল্পনিক জগত নয়, বরং এটিই আমাদের চূড়ান্ত গন্তব্য। কোরআনের এই নির্দেশনাগুলো আমাদের প্রতিদিনের কর্মতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে আমরা এক শান্তিময় ও সফল পরিণতির দিকে এগিয়ে যেতে পারব। আল্লাহ আমাদের সময়ের সদ্ব্যবহার এবং উত্তম প্রস্তুতি নেওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।
বি: দ্র: সাধারণ পাঠকদের সুবিধার্থে এখানে বাংলা উচ্চারণ দেওয়া হয়েছে। তবে শুদ্ধ পঠনের জন্য মূল আরবি আয়াতের সাহায্য নেওয়া বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।