
অভিযান সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ক্যাম্পেইন ও প্রথম আলোর উদ্যোগে ‘স্থানীয় রাজনীতিতে দলিত নারীর অধিকার: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১১ অক্টোবর ঢাকার প্রথম আলো কার্যালয়ে। সুইডেন সরকারের সহযোগিতায় এ আয়োজনে টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল সিস্টেমস (আইএফইএস)।
জহির উদ্দিন স্বপন এমপি
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা)
দলিত নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জকে শুধু নির্বাচনী রাজনীতির বিষয় হিসেবে দেখা সমুচিত হবে না। এটি গভীর সামাজিক, ধর্মীয়, পেশাগত ও রাজনৈতিক বৈষম্যের প্রশ্ন। আইন প্রণয়নের পরও সমাজে বৈষম্যের অস্তিত্ব থাকতে পারে। তাই দলিত নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিদ্যমান সামাজিক বিরোধ ও মূল্যবোধের সংকট বুঝতে হবে।
আমাদের দেশে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের চ্যালেঞ্জ বহুমুখী। এর সঙ্গে যুক্ত হয় নারীর স্বতন্ত্র সমস্যা। পরিবার, ধর্মীয় পরিচয়, সামাজিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তাঁদের বাধা মোকাবিলা করতে হয়। স্থানীয় রাজনীতিতে সংখ্যায় কম হওয়ায় তাঁদের নেতৃত্বে আসার সুযোগও সীমিত। তাই শুধু সমান অধিকারের কথা বললে হবে না; পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেওয়ার উপায়ও খুঁজতে হবে।
সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে। দলিতদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং সম্মিলিত উদ্যোগ গড়ে তোলা জরুরি। সরকারের ঘোষিত অঙ্গীকারের সঙ্গে বাস্তব সমস্যাগুলো যুক্ত করে সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার দায়িত্বশীল চর্চা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর অধিকার উপেক্ষিত না হয়।
দলিত নারীর সমস্যাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে সমাধান সম্ভব নয়। সমান অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেওয়ার ন্যায্য উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা)—হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠী বিষয়ক
অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু সমান অধিকারের স্বীকৃতি যথেষ্ট নয়, তাঁদের সামনে এগিয়ে আসার সুযোগও তৈরি করতে হবে। স্থানীয় রাজনীতিতে দলিত নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের পথে যেসব বাধা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
দলিত নারীদের স্থানীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁদের সামনে এগিয়ে আসতে সংবিধান বা প্রচলিত আইনে বাধা নেই। অনেক ক্ষেত্রে বাধা আইনের অভাবের জন্য নয়, বরং আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া। সংখ্যালঘু সুরক্ষায় নতুন আইন প্রয়োজন হলে বিদ্যমান আইনের বাইরে আর কী বিধান দরকার, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। প্রয়োজনে আইন ও সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগও রয়েছে।
অধিকার ও সম্মান কেউ কাউকে দিয়ে দেয় না, অর্জন করতে হয়। সরকারকে ক্ষমতা চর্চা না করে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করেন তাঁদের দায়িত্ব পালনের জন্য। আমরা যদি ক্ষমতার বদলে দায়িত্বকে গুরুত্ব দিই, তাহলে ক্ষমতার দৌরাত্ম্য কমবে এবং পিছিয়ে পড়া মানুষের সামনে এগিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হবে।
স্থানীয় নির্বাচনে দলীয়ভাবে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত না থাকলেও প্রার্থীর সামাজিক পরিচয়, পারিবারিক পটভূমি ও রাজনৈতিক সমর্থন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দলিত নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে তাঁদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে।
সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ
সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি স্থানীয় রাজনীতিতে নারীর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা। পাহাড়ি অঞ্চলে হেডম্যান ও কার্বারির মতো স্থানীয় নেতৃত্বের পদেও নারীকে মেনে নিতে সমাজের কারও কারও আপত্তি লক্ষ করা যায়। এসব মানসিকতা পরিবর্তনে কাজ করতে হবে।
বংশপরম্পরায় বৈষম্যের শিকার দলিল জনগোষ্ঠী নিজেদের নির্দিষ্ট অবস্থানের বাইরে যাওয়ার কথা ভাবতেও পারেন না। দলিত নারীরা আরও পিছিয়ে রয়েছেন। তাঁদের বিশ্বাস জোগাতে হবে যে তাঁরাও নেতৃত্ব দিতে পারেন। একই সঙ্গে নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি ও সচেতনতা বাড়াতে হবে।
এসব উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যে এলাকায় যে জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, সেখানকার নেতৃত্বে সেই জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কারণ, প্রতিটি জনগোষ্ঠীর মধ্যেই নেতৃত্ব দেওয়ার মতো নারী রয়েছেন। তাঁদের খুঁজে বের করে সামনে আনা জরুরি।
সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ
স্থানীয় রাজনীতিতে দলিত নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় আনতে হবে। যাঁদের নিয়ে সমস্যা, তাঁরা যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণে না থাকেন, তাহলে গণতন্ত্র কার্যকর হয় না। নারীর দারিদ্র্য দূর করার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার সবার রয়েছে; কিন্তু নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিজেদেরও যোগ্য করে তুলতে হবে।
দলিতসহ পিছিয়ে পড়া নারীর পক্ষে একা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে ঐক্য ও কমিটি গড়ে তোলা জরুরি, যাতে তৃণমূলের নারীরা নেতৃত্বে আসতে পারেন। ধর্ম বা পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অবহেলিত করে রাখার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কাউকে ভোটের হিসাব হিসেবে নয়, উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সবার আগে বাংলাদেশ—এই বোধ ধারণ করতে পারলে কেউ পিছিয়ে থাকবেন না। আমরা সব সময় তাঁদের পাশে থাকতে চাই।
সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ
গণতন্ত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্বের জন্য স্থানীয় রাজনীতিতে দলিত নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। আমাদের সমাজে দলিত নারীরা সম্প্রদায়গত পরিচয় ও নারী হিসেবে দ্বিগুণ বৈষম্যের শিকার। স্থানীয় সরকার তৃণমূলের ক্ষমতায়নের প্রধান মাধ্যম। এখানে তাঁদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে সামগ্রিক উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হবে।
অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং নির্বাচনী তথ্যপ্রাপ্তির ঘাটতি তাঁদের অংশগ্রহণে বড় বাধা। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দলিত ও প্রান্তিক নারীর অধিকার রক্ষা, ক্ষমতায়ন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আলোচনায় উঠে আসা সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতে হবে।
মহাপরিচালক (সচিব), এনজিও বিষয়ক ব্যুরো
দেশের সব জনগোষ্ঠীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে যেন হেয় করা না হয়, সে জন্য সম্মানজনক পরিভাষা ব্যবহার করতে হবে। সব জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করলেই অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। দলিত সম্প্রদায়ের উন্নয়নে কোনো সংগঠন কাজ করলে এনজিও ব্যুরো থেকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলোকে এগিয়ে নিতে হবে।
বিগত সময়ে স্থানীয় সরকারকে দলীয়করণের ফলে এর মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু রাজনীতিতে দলিত নারীর অধিকার নয়, বরং স্থানীয় সরকারে দলিত নারীর প্রতিনিধিত্ব ও উপায় নিয়ে আলোচনা করা বেশি যথাযথ হবে। দলিত নারী, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার দর্শন ধারণ করতে হবে।
সভাপতি, গণফোরাম
কারও দয়াদাক্ষিণ্যের ওপর বসে থাকলে হবে না। দলিতদের সংগঠিত হতে হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের অধিকার আদায়ে আন্দোলনে থাকতে হবে। ক্ষমতার অংশীদারত্ব পেলেই একটি জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। নিজের অধিকার নিজেকেই আদায় করতে হয়। দলিত সম্প্রদায়ের মানুষেরা নিজেদের সংগঠিত করুন, প্রয়োজনে রাজনৈতিক দল গড়ে তুলুন এবং অধিকার আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যান।
সংবিধানে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই অধিকার আদায়ে আইন প্রণয়নের দাবি তুলতে হবে। শিক্ষিত ও যোগ্য হওয়ার পরও যাঁরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সাহস ও ঐক্য নিয়ে এগিয়ে গেলে দলিত নারীরা স্থানীয় রাজনীতিতে নিজেদের অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। নারী-পুরুষ সবাইকে এ কাজে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।
ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ
সংবিধানে সবার সমান অধিকারের কথা বলা হলেও দীর্ঘদিনের বৈষম্যের কারণে দলিত জনগোষ্ঠীর মানুষ পিছিয়ে রয়েছেন। হরিজন, রবিদাসসহ বিভিন্ন দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ অমানবিক পরিবেশে বসবাস করছেন। অনেকের বাসস্থান অনিশ্চিত, আবার তাঁরা অস্পৃশ্যতার মতো বৈষম্যেরও শিকার। দলিত নারীর স্থানীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁদের মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিতে হবে।
রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজকেও তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক হতে হবে। দলিত নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। তাঁদের জীবনযাপন, বাসস্থান ও সামাজিক মর্যাদার সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের সমস্যাগুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরলে সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে। সব জনগোষ্ঠীকে সমান মর্যাদা ও অধিকার দেওয়ার মধ্য দিয়েই অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। মানবিক বাংলাদেশ গড়তে এই বৈষম্য দূর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
স্থানীয় রাজনীতিতে দলিত নারীর অংশগ্রহণ জরুরি, কারণ ক্ষমতার কেন্দ্রে না থাকলে অধিকার আদায় করা কঠিন। ভোটার হওয়া, ভোট দেওয়া ও নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ—সবই নিশ্চিত করতে হবে। তবে শুধু নির্বাচন দিয়ে কাউকে পিছিয়ে রাখা যাবে না; শিক্ষাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনতে হবে। দলিত নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে নারী আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে অ্যাডভোকেসি প্রয়োজন। একই সঙ্গে পেশার মর্যাদা, শ্রমের মূল্য ও ন্যায্য মজুরির দাবিও চালিয়ে যেতে হবে। রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, শ্রমের অধিকার ও নারীর অধিকার—এই তিনটি আন্দোলন সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। নীতিনির্ধারণে অংশ নিতে দলিত নারীদের দক্ষতা বাড়ানো এবং তাঁদের জন্য প্রস্তুতির সুযোগ তৈরি করা জরুরি। স্থানীয় সরকারে তাঁদের প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি নির্বাচিত নারীরা যেন পরিবারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। সব আন্দোলনের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়িয়ে দলিত নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করতে হবে।
সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
শুধু নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলেই দলিত নারীর অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না; আগে তাঁদের দারিদ্র্য দূর করে বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দিতে হবে। সমাজে তাঁদের প্রতি বৈষম্য ও হীনম্মন্যতার যে পরিবেশ রয়েছে, তা বদলাতে হবে এবং নিজস্ব সংস্কৃতির বিকাশের সুযোগ রাখতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর অঙ্গীকার করলেও বাস্তবায়নে পিছিয়ে আছে। শুধু কাগজে কোটা নির্ধারণ নয়, নারীদের প্রস্তুতি ও দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ দিতে হবে। নির্বাচনে অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাব বন্ধ করে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। সংসদে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারকে দলিত নারীর সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে তাঁদের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে জনপ্রতিনিধিদের সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অধিকার আদায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভর না করে আন্দোলনও চালিয়ে যেতে হবে।
মহাপরিচালক, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন
দলিত জনগোষ্ঠীর প্রতি অস্পৃশ্যতা ও স্তরবিন্যাস সমাজ ও রাষ্ট্রের তৈরি। তাই তাঁদের বঞ্চনার জন্য তাঁদের দায়ী করা বা হীনম্মন্যতায় ভোগার কোনো কারণ নেই। স্থানীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি গণপরিসরে প্রবেশ, বাক্স্বাধীনতা ও সমবেত হওয়ার অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। শিল্প-সংস্কৃতির চর্চার মধ্য দিয়ে প্রান্তিক মানুষের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা এবং প্রচলিত বৈষম্যমূলক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব।
সরকারকে দলিত জনগোষ্ঠীকে তাঁদের কাজের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। শুধু নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ালেই বৈষম্য দূর হবে না। শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন, সমান মজুরি ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। দলিত নারীর অভিজ্ঞতা ও কণ্ঠস্বরকে সামনে আনার জন্য শিল্প-সংস্কৃতিকেও কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। দলিত নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পাশাপাশি এসব মৌলিক অধিকার ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর, ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল সিস্টেমস (আইএফইএস)
ভোট দেওয়া ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেওয়া এক নয়। দলিত নারীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রার্থী হওয়া, নির্বাচিত হওয়া ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর ভূমিকা রাখার পথে সামাজিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, শিক্ষার ঘাটতি, রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক থেকে দূরত্ব এবং সামাজিক বিধিনিষেধ বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাঁদের প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কে হালনাগাদ, জাত-বর্ণভিত্তিক তথ্যের অভাবও কার্যকর নীতি প্রণয়নের বড় চ্যালেঞ্জ।
আজকের মূল প্রবন্ধে যে সম্ভাব্য কর্মপন্থা তুলে ধরা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সবাই এগিয়ে এলে দলিত নারীদের জন্য ভোটার থেকে প্রার্থী, প্রার্থী থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি থেকে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হয়ে ওঠার পথটি আরও সহজ ও সুগম করে দেওয়া সম্ভব হবে।
নির্বাহী পরিচালক, অভিযান
দলিত নারীদের শুধু ভোট দেওয়ার অধিকার নয়, প্রার্থী হওয়া, নির্বাচিত হওয়া ও স্থানীয় শাসনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। দলিত জনগোষ্ঠীর বসতি বেশি—এমন এলাকায় তাঁদের নারীরাই নেতৃত্বে আসুন। এ জন্য তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ, রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পরিবার ও সমাজের সমর্থন আদায়ে কাজ করছি। নির্বাচনে প্রার্থী হতে গিয়ে দলিত নারীরা যে বাধা, হুমকি ও বৈষম্যের শিকার হন, সেগুলো নথিবদ্ধ করে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কাজ করব। স্থানীয় নির্বাচনে তাঁদের প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়নেও আমরা সরকারের কার্যকর উদ্যোগ চাই।
সাধারণ সম্পাদক, গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভ (আরডিসি)
দলিত নারীদের স্থানীয় রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। আমাদের গবেষণায় দেখেছি, ৮৯ দশমিক ২ শতাংশ দলিত নারী ভোট দিতে পারলেও মাত্র ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ প্রার্থী হতে পারেন। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংযোগের অভাব, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, সহিংসতার ভয়, সামাজিক বর্জন ও পারিবারিক বাধা তাঁদের অংশগ্রহণ সীমিত করে। জাতিভিত্তিক বৈষম্যের হালনাগাদ উপাত্ত ও কার্যকর আইনও নেই। এ অবস্থা পরিবর্তনে বৈষম্য নিরোধ আইন প্রণয়ন, নির্বাচনী সহায়তা ও প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দলিত নারীদের জন্য বিশেষ তহবিল প্রয়োজন। পরিবার ও সমাজকেও তাঁদের নেতৃত্বে এগিয়ে আসার পথে সহযোগী হতে হবে।
কো–অর্ডিনেশন অ্যান্ড পার্টনারশিপস অ্যানালিস্ট, ইউএন উইমেন বাংলাদেশ
একজন নারী দলিত বা আদিবাসী হলে বৈষম্যের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। তাই তাঁদের সমান অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে আজকের সুপারিশগুলো ইউএনডিপিসহ জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে তুলে ধরব। আমাদের মূল লক্ষ্য, কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে। কিন্তু যাঁদের নিয়ে কাজ করা হচ্ছে, সেই দলিত জনগোষ্ঠীর মানুষদের আরও বেশি করে আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে, যাতে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও চাহিদা সম্পর্কে অন্যরা বুঝতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোতে নারীর ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি জনগোষ্ঠীর হালনাগাদ উপাত্ত সংগ্রহ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নারী প্রার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন জরুরি।
কান্ট্রি ডিরেক্টর, মুসলিম হ্যান্ডস ইউকে
যেসব এলাকায় দলিত বা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংখ্যাধিক্য রয়েছে, সেখানে তাঁদের মধ্য থেকেই প্রার্থী মনোনয়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, বৈষম্য ও অধিকার অস্বীকারের চর্চা বন্ধ করতে হবে। তাঁদের নাগরিক মর্যাদা ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই স্থানীয় রাজনীতিতে প্রকৃত অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। দলিতরা পিছিয়ে নেই, বরং নানা সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর মাধ্যমে তাঁদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে; রাজনৈতিক দলগুলোও তাঁদের ভোটের ব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করে। এই মানসিকতা ভাঙতে হবে।
লিড-উইমেন রাইটস অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি, একশনএইড বাংলাদেশ
জাতীয় রাজনীতিতেই নারীর ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি; সেখানে দলিত নারীদের রাজনীতিতে আনা আরও কঠিন। একজন নারী যখন দলিত ও অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত হন, তখন তাঁর বাধা বহুগুণ বেড়ে যায়। নারীরা কেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ভোটের রাজনীতিতে উঠে আসছে না, তা রাজনৈতিক চর্চা ও নেতৃত্বের ধরন দিয়ে বুঝতে হবে।
দলিত নারীদের নেতৃত্বের দক্ষতা, শিক্ষা, যোগাযোগ ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে। তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়তি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি সহায়ক নীতি, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি, যাতে তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হতে পারেন।
সহসভাপতি, অভিযান
দলিত নারীরা সুযোগ পেলে নিজেদের যোগ্যতা দিয়ে পরিবার ও সমাজে অবদান রাখতে পারেন, অথচ তাঁদের কাজের স্বীকৃতি মেলে না। কেরানীগঞ্জে দেখেছি, কেউ মুড়ি ভাজেন, কেউ মোয়া তৈরি করেন, কেউ হাতের কাজ করে সন্তানদের মানুষ করেন। একজন নারী স্বামীকে হারিয়ে সাত মেয়েকে বড় করেছেন। তাঁদের এই সক্ষমতাকে স্বীকৃতি দিতে হবে। দলিতদের জন্য আলাদা রাজনৈতিক দল গঠন করা কঠিন; তাই বিদ্যমান রাজনৈতিক দল ও সরকারকে তাঁদের অধিকার নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে। স্বামী বিবেকানন্দ ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বহু আগে দলিতদের নিয়ে কাজ করেছেন, তবু কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। সবাই মিলে এমন বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেখানে সবাই নিরাপদে থাকবে।
শিক্ষক, সরকারি ইস্পাহানি ডিগ্রি কলেজ, কেরানীগঞ্জ
স্থানীয় রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম কারণ বৈষম্যপূর্ণ বরাদ্দ ও যথাযথ স্বীকৃতির অভাব। তিনটি ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা সংরক্ষিত নারী সদস্যদের বরাদ্দ পুরুষ সদস্যদের সমান হলেও তাঁদের কাজের পরিধি বেশি। ফলে মানুষের চাহিদা পূরণে তাঁরা বাধার মুখে পড়েন।
দলিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে যেসব এলাকায় তাঁদের সংখ্যা বেশি, সেখান থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে। শুধু নীতিমালা বা আলোচনা নয়, বাস্তবে তাঁদের সামনে এগিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। তাঁদের সমস্যার কথা তাঁদের নিজেদের কাছ থেকেই শুনতে হবে।
লিগ্যাল স্পেশালিস্ট, ব্লাস্ট
মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হলে সামাজিক অধিকার ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ভাবার সুযোগ সীমিত থাকে। সিলেটে চা-জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনায় দেখেছি, মজুরি, শিক্ষায় ঝরে পড়া ও বাল্যবিবাহ তাঁদের বড় সমস্যা। দলিত নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণেও বাধা রয়েছে। ছড়িয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে প্রার্থিতার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহ কঠিন।
নির্বাচনী ভীতি ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধে নজরদারি জোরদার করতে হবে। আইনে সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বের সুনির্দিষ্ট বিধান এবং বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়নও জরুরি।
সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, সিপিডি
স্থানীয় রাজনীতিতে দলিত নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হলে প্রথমে তাঁদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা জরুরি। একটি জরিপে নওগাঁর প্রত্যন্ত এলাকায় দেখেছি, দলিত তরুণীরা ১৮ বছর হওয়ার পরও ভোটার হতে চান না। কারণ, বিয়ের পর অনেকের ক্ষেত্রে অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার বিষয় থাকে এবং ভোটার স্থানান্তরে প্রশাসনিক জটিলতা এর কারণ। দলিত সম্প্রদায় থেকে প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ তৈরি করতে হলে, তাঁর সম্প্রদায়ের কেউ যেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়েন, সে বিষয়ে অভিযান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী
কেরানীগঞ্জের শাক্তা ইউনিয়নের শিকারীটোলায় আমার এলাকায় এক হাজার ৮০০-এর বেশি ভোটার রয়েছে; কিন্তু এখন আমাদের কোনো নেতৃত্ব নেই। আমি নির্বাচনে দাঁড়াতে চাই, কিন্তু নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। নারী বলে অনেকে আমাকে তুচ্ছ করে প্রশ্ন তুলবে, আমি পারব কি না।
আপনারা পাশে দাঁড়িয়ে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা দিলে সাহস নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারব। আমার এলাকায় একজন প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হয়েও স্বীকৃতি পাননি। এমন পরিস্থিতিতে দলিত নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের জন্য নিরাপত্তা ও আস্থা জরুরি।
স্থানীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী
স্থানীয় নির্বাচনে দলিত নারীদের অংশগ্রহণের সবচেয়ে বড় বাধা নিরাপত্তাহীনতা। অনেক নারী নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান কিন্তু নারী বলে অনেকে আমাকে তুচ্ছ করবে, ভয় দেখাবে—এই আশঙ্কা আমাকে পিছিয়ে দেয়।
শুধু নির্বাচনে দাঁড়ানোর সাহস থাকলেই হবে না, নিজের নিরাপত্তা নিয়েও নিশ্চিন্ত হতে হবে। দলিত নারীরা যেন ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন এবং নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। এ জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
রাজনৈতিক দলগুলোকে দলিত নারী প্রার্থী মনোনয়নে উৎসাহিত করতে হবে।
স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে দলিত নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।
দলিত নারীর অধিকার সুরক্ষায় বৈষম্যবিরোধী আইন কার্যকর করতে হবে।
দলিত নারীদের নেতৃত্ব বিকাশে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
নারী প্রার্থীদের জন্য নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
অংশগ্রহণকারী:
জহির উদ্দিন স্বপন এমপি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা)।
বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা)—হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠী বিষয়ক।
মাধবী মারমা, সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ।
নেওয়াজ হালিমা আরলী, সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ।
ফাহমিদা হক, সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ।
মোহাম্মদ জকরিয়া, মহাপরিচালক (সচিব), এনজিও বিষয়ক ব্যুরো।
সুব্রত চৌধুরী, সভাপতি, গণফোরাম।
মনীন্দ্র কুমার নাথ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
ফওজিয়া মোসলেম, সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
রুহিন হোসেন প্রিন্স, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি।
লুভা নাহিদ চৌধুরী, মহাপরিচালক, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন।
রুমানা আমিন, ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর, ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল সিস্টেমস।
বনানী বিশ্বাস, নির্বাহী পরিচালক, অভিযান।
জান্নাত-এ–ফেরদৌসী, সাধারণ সম্পাদক, গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভ (আরডিসি)।
সৈয়দা সামারা মোরতাদা, কো–অর্ডিনেশন অ্যান্ড পার্টনারশিপস অ্যানালিস্ট, ইউএন উইমেন বাংলাদেশ।
অনিক আসাদ, কান্ট্রি ডিরেক্টর, মুসলিম হ্যান্ডস ইউকে।
মরিয়ম নেছা, লিড-উইমেন রাইটস অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি, একশনএইড বাংলাদেশ।
জয়ন্তী রায়, সহসভাপতি, অভিযান।
প্রদীপ হালদার, শিক্ষক, সরকারি ইস্পাহানি ডিগ্রি কলেজ, কেরানীগঞ্জ।
শৌর্য তালুকদার, সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, সিপিডি।
মনীষা বিশ্বাস, লিগ্যাল স্পেশালিস্ট, ব্লাস্ট।
সোনামনি মোদক, স্থানীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী।
সাথী সরকার, স্থানীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী।
সঞ্চালনা: ফিরোজ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলো।