
ইউনিসেফ বাংলাদেশ ও প্রথম আলোর উদ্যোগে ‘হাম-রুবেলা টিকা কার্যক্রম ২০২৬ পর্যালোচনা ও সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ৬ মে ঢাকার প্রথম আলো কার্যালয়ে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
মাননীয় মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
টিকাদান কর্মসূচির দ্রুত সম্প্রসারণ সম্ভব হয়েছে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। হামের সংক্রমণের বিপদটা অত্যন্ত কঠিন ছিল। যাঁরা মাঠে কাজ করেছেন, তাঁরাই এর ভয়াবহতা টের পেয়েছে। হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। প্রথম শিশুমৃত্যুর পর আমরা বুঝতে পারি, হাতে পর্যাপ্ত টিকাও নেই। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি দিকনির্দেশনায় পুরো দ্রুত ইউনিসেফ প্রতিনিধি মিস রানা ফ্লাওয়ার্স ও অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করি ও গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনের (গ্যাভি) সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে গ্যাভি আমাদের ১৫ লাখ ডোজ টিকা জরুরিভিত্তিতে সহায়তা হিসেবে দেয়। আমরা ৫ এপ্রিল দ্রুত সময়ে সেগুলো দিয়ে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় এমআর টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করি। পরে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনেও কর্মসূচি বিস্তৃত হয়। টিকা দ্রুত পৌঁছে যাওয়ায় ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা ৯৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছি। করোনাকালের অব্যবহৃত অর্থ ব্যবহার করে দ্রুত ইউনিসেফকে অর্থ পরিশোধ করা হয়। ইতিমধ্যে ৬ মে আমরা ১৫ লাখ ডোজ এমআর ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছি। ২০ মে আসবে আরও ৯০ লাখ ডোজ টিডি। মোট এক কোটি ডোজ ভ্যাকসিন আসছে—এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিডি, ওপিভি, পেন্টাভ্যালেন্টসহ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় স্থাপিত বন্ধ আইসিইউ দ্রুত চালু করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দাতাদের সহায়তায় ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী নতুন আইসিইউ ইউনিট চালু করা হচ্ছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবিরাম তাগিদ, গভীর দায়িত্ববোধ ও শিশুদের প্রতি মমত্ববোধ আমাদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করেছে। আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে। পর্যাপ্ত টিকা আমাদের হাতে রয়েছে এবং নিয়মিত নতুন চালান আসছে। আমি ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানাতে চাই তাদের জরুরি সহায়তার জন্য, যারা রেকর্ড সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন আনার ব্যবস্থা করেছে ও এমআর ক্যাম্পেইন পরিচালনার জন্য সার্বিক সহায়তা প্রদান করেছে। আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে আনতে হবে এবং সংক্রমণ এড়াতে আলাদা রাখতে হবে। আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছি।
রানা ফ্লাওয়ার্স
বাংলাদেশে ইউনিসেফ প্রতিনিধি
বাংলাদেশের শিশুদের জন্য নেওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে যুক্ত থাকতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যা, বড় ছুটির সময়, টিকার স্বল্পতাসহ নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ এই পুরো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল। এরপরও প্রক্রিয়াজুড়ে সরকারের পাশে থেকে কাজ করতে পারা আমাদের জন্য একটি বড় মাইলফলক। বিশেষ করে জনসচেতনতা তৈরি করা এবং বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার বিষয়টি এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সবচেয়ে বড় অর্জন হলো, মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে ভ্যাকসিনের সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত তিন মাস সময় লাগে।
কিন্তু বাংলাদেশের শিশুদের জীবন রক্ষার তাগিদ এবং জরুরি পরিস্থিতির কারণে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত ও দ্রুত এমআর ক্যাম্পেইন শুরু করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের বিশ্বাস, ভবিষ্যতে শুধু ক্যাম্পেইননির্ভর কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। এ জন্য সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা জরুরি, যেখানে পুষ্টি, পরিবার পরিকল্পনাসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবা একসঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করবে এবং একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে থাকবে। এ ছাড়া স্কুলভিত্তিক টিকাদান ব্যবস্থার দিকেও আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সময় টিকা কার্ড যাচাই করা হলে সহজেই বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের আরও সতর্কভাবে এগিয়ে যেতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে টিকার কোনো ঘাটতি বা শূন্যতা না থাকে এবং প্রতিটি শিশু সঠিক সময়ে টিকার আওতায় আসে। এই পুরো কার্যক্রমে সরকারের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করতে পেরে আমরা গর্বিত। বাংলাদেশের শিশুদের সুরক্ষায় এই উদ্যোগের পাশে থাকতে পারা আমাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং দীর্ঘ মেয়াদে স্মরণীয় একটি অভিজ্ঞতা।
ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা)
শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বৃদ্ধির পেছনে অপুষ্টি একটি বড় কারণ। সাধারণত ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুরা মায়ের দুধের মাধ্যমে কিছুটা সুরক্ষা পায়। কিন্তু এরপর ভিটামিন ‘এ’ ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিলে তারা সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিড–পরবর্তী সময়ে সারা বিশ্বেই রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতির কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে।
বর্তমান সরকারের অধীন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করেছি। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি ইউনিয়ন এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা। সেখানে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে এক জায়গা থেকেই সব ধরনের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। এসব স্বাস্থ্যকর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা, মানসিক স্বাস্থ্য, গর্ভবতী মায়েদের অবস্থা এবং শিশুদের পুষ্টি–সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করবেন।
আমরা ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড–ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিচয়পত্র তৈরি করা হবে, যা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণ এবং সেবার মান উন্নয়ন সহজ হবে। স্বাস্থ্য বাজেটের বিষয়েও আমাদের পরিকল্পনা সুস্পষ্ট।
বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির ১ শতাংশের কম, যা যথেষ্ট নয়। তবে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, বিদ্যমান ব্যবস্থার অদক্ষতা ও অনিয়মও দূর করতে হবে। আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ জিডিপির ১ শতাংশের ওপরে নেওয়ার লক্ষ্য আমরা নির্ধারণ করেছি। ধাপে ধাপে এটি ৫ শতাংশে উন্নীত করার রাজনৈতিক অঙ্গীকারও আমাদের রয়েছে।
আমরা বিশ্বাস করি, সরকার, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব একসঙ্গে কাজ করলে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।
অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস
মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
আমাদের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি ১৯৭৯ সাল থেকে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি সারা বিশ্বে প্রশংসিত। শিশু সুরক্ষায় এই কর্মসূচির সফলতা আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত। বর্তমান সরকারও শিশুস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকারেই দেশের প্রতিটি নাগরিকের সুস্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ৪২ লাখ শিশুকে ১২টি প্রাণঘাতী রোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে এবং প্রায় ৯ হাজার শিশুর প্রাণ রক্ষা পাচ্ছে। এবার হামের প্রাদুর্ভাবের পর পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ৯ মাসের পরিবর্তে ছয় মাস বয়স থেকেই টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল পরিকল্পনা ও সমন্বয়। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করেছে। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী ও টিকা বহনকারী কর্মীরাই এই কার্যক্রমের মূল শক্তি। টিকাকেন্দ্র থেকে বিভাগ, জেলা, উপজেলা হয়ে মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে পুরো সময়জুড়ে তাপমাত্রা ঠিক রাখা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। দীর্ঘদিন বেতনবঞ্চিত টিকাবাহকদের সমস্যাও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনলাইন মাইক্রো পরিকল্পনার মাধ্যমে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে আবার টিকার আওতায় আনার কাজও
চলছে। গণমাধ্যম এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমেই অনেক বিষয় দ্রুত কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। টিকা নিয়ে গুজব প্রতিরোধে সামাজিক আলোচনা, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও স্থানীয় নেতৃত্বের সম্পৃক্ততাও জরুরি।
আজ জাতীয়ভাবে ৯৩ শতাংশ টিকা কভারেজ অর্জনের পেছনে এই সমন্বিত উদ্যোগই মূল। আমাদের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে আর একটি শিশুর প্রাণও যেন ঝরে না যায়।
এ টি এম সাইফুল ইসলাম
অতিরিক্ত সচিব, জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ
আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেগুলো মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে। মানবসম্পদের সংকটের বিষয়টি আমরা জানি। নির্বাচিত সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী দ্রুত এক লাখ জনবল নিয়োগের বিষয়েও কাজ চলছে।
টেকসই অর্থায়ন ও ক্রয়প্রক্রিয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আগে যেসব কেনাকাটা উন্নয়ন বাজেট থেকে হতো, এখন তার অনেক কিছু রাজস্ব বাজেট থেকে হচ্ছে। কিন্তু রাজস্ব বাজেটের ক্রয়প্রক্রিয়া অনেক জটিল। প্রতিটি প্যাকেজ অনুমোদনের জন্য দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তাই সুবিধা–অসুবিধা বিবেচনায় নিয়ে পুরো বিষয়টি একটি সারসংক্ষেপ আকারে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা দরকার বলে আমি মনে করি। প্রয়োজন হলে বিশেষ ছাড়ের বিষয়েও আলোচনা করা যেতে পারে।
মানসম্মত তথ্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ১ কোটি ৮০ বা ৮২ লাখ শিশুর যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, সেটি ২০২২ সালের তথ্যের ভিত্তিতে। কিন্তু এর মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার সংখ্যা বেড়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুরাও টিকা নিতে এসেছে। যেহেতু টিকায় কোনো ক্ষতি নেই, তাই তাদেরও টিকা দেওয়া হয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত কভারেজের হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।
অকার্যকর টিকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। কোল্ড চেইনের কোথাও তাপমাত্রা ঠিকভাবে বজায় না থাকলে ভ্যাকসিন কার্যকর না–ও হতে পারে। টিকা পরিবহনের সময় অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখা কঠিন হয়। তাই কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্কতা প্রয়োজন। ডিজিটাল বা ই–মনিটরিং জোরদার করাও জরুরি।
এই অভিজ্ঞতা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। এখন থেকে বছরের শুরুতেই টিকা আনার সময়সূচি, ক্রয় পরিকল্পনা ও বাফার স্টকের ক্যালেন্ডার তৈরি করা হবে। আমরা আশা করছি, মাননীয় মন্ত্রীর নেতৃত্বে ভবিষ্যতে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারব।
ডা. রিয়াদ মাহমুদ
স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক, ইউনিসেফ
চলমান হাম–রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের পর্যালোচনা ও রুটিন ইপিআই কর্মসূচিকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায় সেই আলোচনা জরুরি। হামের প্রাদুর্ভাব আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যা রুটিন ইপিআইকে নতুনভাবে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা দেখিয়েছে।
আমাদের জরুরি প্রচেষ্টায় মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে ভ্যাকসিন আনা সম্ভব হয়েছে, যা সাধারণত তিন মাস সময় লেগে যায়। সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিত উদ্যোগে এটি সম্ভব হয়েছে। আমরা হাম, টিটেনাস ও ডিফথেরিয়ার টিকা পেয়েছি এবং শিগগিরই আরও টিকার চালান আসবে, যার মাধ্যমে আগামী ৭ থেকে ১০ মাসের ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত হবে। ক্যাম্পেইনটি তিন ধাপে করা হয়েছে—প্রথমে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও পৌরসভায়, পরে চারটি সিটি করপোরেশনে ও শেষে সারা দেশে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনসহ সব পর্যায়ের অংশগ্রহণে আমরা ৯৩ শতাংশ কভারেজ অর্জন করেছি। আশা করছি, শিগগিরই শতভাগে পৌঁছাব। তবে এখনো কিছু শিশু বাদ রয়েছে, যাদের চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে টিকার আওতায় আনতে হবে।
রুটিন ইপিআইয়ে ইমিউনিটি গ্যাপ তৈরি হয়েছে। কারণ, কিছু শিশু এমআর ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ পায়নি। এর সঙ্গে অপুষ্টি, ভিটামিন এ–এর অভাব ও মায়ের বুকের দুধ কমে যাওয়াও যুক্ত। আমাদের লক্ষ্য রুটিন ইপিআইয়ে ৯৫ শতাংশ কভারেজ অর্জন করা। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ই–ট্র্যাকিং, কোল্ড চেইন মনিটরিং ও ই–হেলথ আইডি কার্যক্রম চলছে। তবে মানবসম্পদ সংকট, শহর এলাকায় টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতা, ডেটা কোয়ালিটি ও টেকসই অর্থায়নের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ইপিআই কর্মসূচির জন্য একটি নতুন পরিচালক পদ তৈরি করে নিয়োগ দিতে হবে। গত ৯ মাসের বেশি সময় ধরে বকেয়া থাকা পোর্টারদের পারিশ্রমিকও দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
আমাদের জন্য সতর্কসংকেতগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। আমরা আশাবাদী, সমন্বিত নেতৃত্ব ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে ৯৫ শতাংশের বেশি কভারেজ অর্জন করতে পারব।
অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা
শিশু বিশেষজ্ঞ
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা খুব দ্রুত এক শিশু থেকে আরেক শিশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত হলে এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করে দেয় ও নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে। তবে আমাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে গুরুতর জটিলতা হয় মোটামুটি ৫ থেকে ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে।
আজকাল দেখা যাচ্ছে, সামান্য ঘামাচি বা সাধারণ সর্দি-কাশি হলেও অভিভাবকেরা শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে চলে যাচ্ছেন। এতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে ও প্রকৃত গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। তাই সব শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
তবে কিছু লক্ষণ থাকলে অবশ্যই হাসপাতালে যেতে হবে। যেমন—শ্বাসকষ্ট, শ্বাস দ্রুত হওয়া বা বুক দেবে যাওয়া, বারবার বমি ও ডায়রিয়া হয়ে পানিশূন্যতা, খেতে না পারা, খিঁচুনি হওয়া, মুখে গভীর ঘা বা চোখের জটিলতা এবং তীব্র পানিশূন্যতা।
অন্যদিকে হামে আক্রান্ত অধিকাংশ শিশু ভাইরাল ইনফেকশন হওয়ায় ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। তাদের ক্ষেত্রে সাধারণ যত্ন, জ্বর হলে প্যারাসিটামল ও নিয়মিত পরিচর্যাই যথেষ্ট।
তবে ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বয়স অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ দিতে হবে, কারণ এটি চোখের সুরক্ষা ও জটিলতা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক, অক্সিজেন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সিপ্যাপের মতো সহায়তা দিতে হয়। প্রশিক্ষিত জনবল ও সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে মৃত্যুহার অনেক কমানো সম্ভব।
ডা. ফিরদৌসী কাদরী
চেয়ারপারসন, ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ
ভ্যাকসিনের মান নিয়ন্ত্রণ ও আমাদের সক্ষমতা নিয়ে অনেক কিছু বলার আছে। আমাদের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর বর্তমানে লেভেল টু পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পৌঁছাতে এবং আমাদের ভ্যাকসিনকে বিশ্ববাজারে গ্রহণযোগ্য করতে হলে এটিকে দ্রুত লেভেল থ্রি পর্যায়ে উন্নীত করা প্রয়োজন।
এটি না হলে দেশে উৎপাদিত ভ্যাকসিন ডব্লিওএইচও প্রি-কোয়ালিফায়েড হবে না এবং গ্যাভি বা ইউনিসেফ সেসব ভ্যাকসিন ক্রয় করবে না।
ফলে আমাদের সব সময় বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হবে এবং ভ্যাকসিন আমদানির অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হবে।
বাংলাদেশের ভ্যাকসিন দিয়ে রোগ প্রতিরোধের একটি সুনাম রয়েছে এবং আমরা সেই সুনাম ধরে রাখতে চাই। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত অনেক আগেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রি-কোয়ালিফিকেশন অর্জন করেছে এবং তারা এখন বিশ্ববাজারে ভ্যাকসিন রপ্তানি করছে। এমনকি অনেক আফ্রিকান দেশও এ তালিকায় রয়েছে। অথচ আমরা প্রায়ই শুনি যে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবার মান অর্জন করবে বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিদর্শনে আসবে, কিন্তু বাস্তবে অগ্রগতি খুব ধীর।
অনেক ঘাটতি হয়তো রয়েছে, তবে সেগুলো দ্রুত পূরণ করা জরুরি। আমাদের দেশের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ভ্যাকসিন উৎপাদন করে যেহেতু, তাই উন্নত মানের ভ্যাকসিন উৎপাদন এবং শিল্পকে উৎসাহিত করতে হলে তাদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজার উন্মুক্ত করা প্রয়োজন।
এ জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রি-কোয়ালিফিকেশন এবং ন্যাশনাল কন্ট্রোল ল্যাবরেটরির মানোন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। আমি বিভিন্ন কমিটিতে বারবার এই বিষয়টি তুলে ধরেছি যে আমাদের মানসম্মত ভ্যাকসিন উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। আমি আশা করি, আমরা সবাই মিলে দ্রুত এই লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যেতে পারব।
ডা. আবু আহম্মাদ আল মামুন
ডিরেক্টর, এমআইএস, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
আমাদের বিদ্যমান ডিজিটাল সিস্টেমগুলো মূলত ক্যাম্পেইন ডেটা, রুটিন ইপিআই ডেটাসহ সব ধরনের ডেটার জন্যই পুরোপুরি সক্ষম। ক্যাম্পেইনের ডেটা প্রতিদিন রাত আটটায় আমার কাছে চলে আসে এবং তা কম্পাইল করে বিশ্লেষণ করা হয়। আমরা এত দিন যে ডেটা নিয়ে কাজ করেছি, তা ছিল অ্যাগ্রিগেটেড ডেটা। এখন আমাদের ধাপে ধাপে একক ডেটায় যেতে হবে। ফলে মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে, এতে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হবে। সব যোগ্য শিশুর নিবন্ধন নিশ্চিত করতে আমরা ইপিআইয়ের জন্য ব্যক্তিভিত্তিক ট্র্যাকিং সিস্টেম ‘ই-ট্র্যাকার’ চালু করেছি।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কর্মীদের মানসিক পরিবর্তন করা। বর্তমানে তাঁরা অনেক ম্যানুয়াল কাজ করেন—খাতায় বারবার একই নাম লেখা, টালিশিটে চিহ্ন দেওয়া ইত্যাদি। কিন্তু যদি তাঁরা একবার ডিজিটাল টুল ব্যবহার করতেন, তাহলে পরেরবার শুধু স্ক্যান করলেই কাজ শেষ হয়ে যেত। এতে তাঁদের সময় ও শ্রম—দুটিই বাঁচত। উপরন্তু কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি পেত।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই ‘ই-ট্র্যাকার’ মাধ্যমে আমরা একবার তথ্য সংগ্রহ করলে তা দিয়ে শিশুর জন্মনিবন্ধন পর্যন্ত তৈরি করা সম্ভব—যদি বাকি ধাপগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়। বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের ডেটা নিরাপত্তা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করা গেলে এই একই ডেটা ব্যবহার করে শিশুর জন্মনিবন্ধন কার্ড এবং হেলথ আইডি কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরিও করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ একটি সিস্টেমের মাধ্যমেই পুরো দেশের শিশুদের গুরুত্বপূর্ণ সেবা যুক্ত করা যাবে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানসিকতার পরিবর্তন। আমাদের সব কর্মীর চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনা জরুরি। এই পরিবর্তনের ফলে ডিজিটাল ব্যবস্থার পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব।
ডা. হাসানুল মাহমুদ
সহকারী পরিচালক, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই ১৯৭৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। এই দীর্ঘ যাত্রায় ইপিআই এখন এমন একটি সক্ষমতায় পৌঁছেছে যে একজন শিশুকে জন্ম থেকে নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত সব টিকা দেওয়ার পুরো ব্যবস্থাটি আমরা শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। শুরুতে ৬টি টিকা দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও এখন ৯টি টিকার মাধ্যমে ১২টি রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
আমরা কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে লজিস্টিকস ব্যবস্থা জেলা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে জেলা পর্যায়ে তিন মাসের টিকা মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে এবং উপজেলা পর্যায়ে এক মাসের মজুত রাখা সম্ভব হচ্ছে। এটি একটি বড় সক্ষমতা অর্জন। টিকা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল পণ্য, যা কোল্ড চেইন বজায় রেখে সংরক্ষণ ও পরিবহন করতে হয়।
আমাদের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ ব্যবস্থায় ছয় মাস থেকে এক বছরের টিকা কোল্ড চেইন বজায় রেখে মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে। কোভিডের সময়ে আমরা যে কাভার্ড ভ্যান ব্যবস্থা পেয়েছি, তার মাধ্যমে কোল্ড চেইন বজায় রেখে টিকা পরিবহন করা হচ্ছে।
যদি কোথাও তাপমাত্রার ব্যত্যয় ঘটে, তা মনিটরিংয়ের আওতায় আসে। উপজেলা পর্যায়ে প্রতিদিন দুবার করে তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং লকবুক সংরক্ষণ করা হয়। সুপারভিশনের সময় আমরা সেই লকবুক যাচাই করি। টিকাদানকেন্দ্রে টিকা নেওয়ার সময়ও কোল্ড বক্স ও আইস প্যাক ব্যবহার করে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সঠিক তাপমাত্রায় বজায় রাখা হয়। এই সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা ইপিআই কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করছি।
ডা. চিরঞ্জিত দাস
ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার (টিকাদান), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশ
ডব্লিউএইচওর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানাই; কারণ, প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে সক্ষমতার জন্য। তার ফলে আমরা ইতিবাচক ফলাফল ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। চলমান হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকার যেভাবে কাজ করছে, ডব্লিউএইচও একটি টেকনিক্যাল এজেন্সি হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সব সময় কাজ করছে। পরিস্থিতি বাড়তে থাকায় আমরা ইপিআইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় টেকনিক্যাল গ্রুপে বিষয়টি উপস্থাপন করি এবং মার্চ মাসের শুরুতে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ বা অগ্রাধিকারভিত্তিক গ্রুপ চিহ্নিত করা হয় এবং ধাপে ধাপে ক্যাম্পেইনের কৌশল নির্ধারণ করা হয়।
ক্যাম্পেইনের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও মনিটরিং—সব পর্যায়ে ডব্লিউএইচওর সহযোগিতা ছিল। আমাদের ইমিউনাইজেশন ও সার্ভেল্যান্স নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রায় ১০০ জন টেকনিক্যাল অফিসারকে দেশের বিভিন্ন জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে, যাঁরা মাঠপর্যায়ে মনিটরিং ও সহায়তা দিচ্ছেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তারা নিয়মিত নির্দেশনা দিচ্ছেন।
এ ছাড়া জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ট্রেনিং কার্যক্রমে ডব্লিউএইচও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ৭০ হাজারের বেশি কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং অ্যাডভার্স ফলোয়িং ইমিউনাইজেশন ম্যানেজমেন্টে প্রায় ৩২ জন চিকিৎসক ও নার্সকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মিডিয়া ও কমিউনিটি পর্যায়েও আমাদের সহায়তা অব্যাহত আছে এবং প্রতিদিনের মনিটরিং ফলাফল ইপিআইএকে প্রদান করা হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো একটি মানসম্মত ক্যাম্পেইন নিশ্চিত করা এবং এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা।
অংশগ্রহণকারী: সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, মাননীয় মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; রানা ফ্লাওয়ার্স, বাংলাদেশে ইউনিসেফ প্রতিনিধি; ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা); অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; এ টি এম সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব, জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ; ডা. ফিরদৌসী কাদরী, চেয়ারপারসন, ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ; অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা, শিশু বিশেষজ্ঞ; ডা. আবু আহম্মাদ আল মামুন, ডিরেক্টর, এমআইএস, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; ডা. হাসানুল মাহমুদ, সহকারী পরিচালক, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই); ডা. চিরঞ্জিত দাস, ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার (টিকাদান), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশ; ডা. রিয়াদ মাহমুদ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক, ইউনিসেফ; রিকি সালমিনা, প্রেস স্পেশালিস্ট, পাবলিক ডিপ্লোমেসি সেকশন, ঢাকার মার্কিন দূতাবাস (ইউএস এম্বাসি)। সঞ্চালনা: ফিরোজ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক, প্রথম আলো
সুপারিশ
মানবসম্পদ শক্তিশালীকরণ: ইপিআইয়ের জন্য একজন পরিচালক নিয়োগ এবং সব অনুমোদিত শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা (সদর দপ্তর–৫০%; জেলা সিসিটি–৫০%; ১১০টি এমটি-ইপিআই পদ; এবং ৩৭ জেলায় স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ)।
টেকসই টিকাদান অর্থায়ন: ভ্যাকসিন ক্রয় ও পরিচালন ব্যয়ের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা, যার মধ্যে দ্রুত ক্রয়প্রক্রিয়ার জন্য ওয়েভার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
শহরাঞ্চল ইপিআই সরকারের অধীনে গ্রহণ: ইউআইএস কাঠামো অনুযায়ী পদ সৃষ্টি এবং সরকারিভাবে ২,০০০ জন টিকাদানকর্মী ও সুপারভাইজার নিয়োগ।
ডিজিটালাইজেশন: ই-ট্র্যাকার সিস্টেম সম্প্রসারণ ও শতভাগ নিবন্ধন নিশ্চিত করা।
টিকাদান ও জরুরি স্বাস্থ্য কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই অর্থায়ন , দ্রুত অর্থছাড় ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করতে হবে।
কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে।